সাদা স্রাব (White Discharge) বা লিউকোরিয়া (Leukorrhea) নারীদের একটি খুবই সাধারণ এবং স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যখন এই স্রাবের পরিমাণ, রং, বা গন্ধে পরিবর্তন আসে, তখন এটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক নারীই দ্বিধায় ভোগেন যে, সাদা স্রাব হলে কি ক্ষতি হয়? এর উত্তর হলো: স্বাভাবিক সাদা স্রাবে কোনো ক্ষতি হয় না, বরং এটি সুস্থ যোনির লক্ষণ। কিন্তু অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত স্রাব হলে তা স্বাস্থ্য, প্রজনন এবং দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এই প্রবন্ধে আমরা সাদা স্রাবের স্বাভাবিক ভূমিকা থেকে শুরু করে এর ক্ষতিকর দিক, সম্ভাব্য রোগ এবং সঠিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সাদা স্রাব কী?
সাদা স্রাব হলো নারীদের যোনিপথ বা জরায়ু থেকে নিঃসৃত এক ধরনের তরল পদার্থ। এটি মূলত যোনির মৃত কোষ, ব্যাকটেরিয়া এবং সার্ভিক্স (জরায়ুমুখ) ও যোনির গ্রন্থি থেকে আসা শ্লেষ্মা বা তরলের মিশ্রণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে লিউকোরিয়া বা vaginal discharge বাংলাতে যোনি স্রাব বলা হয়।
স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক সাদা স্রাবের পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | স্বাভাবিক সাদা স্রাব (শারীরিক) | অস্বাভাবিক সাদা স্রাব (রোগের লক্ষণ) |
| রং | পরিষ্কার, সাদাটে বা সামান্য ঘোলাটে | হলুদ, সবুজ, ধূসর বা রক্তমিশ্রিত |
| গন্ধ | প্রায় গন্ধহীন বা হালকা অম্লীয় | তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত (মাছের মতো বা পচা) |
| ঘনত্ব | পাতলা, পানির মতো বা ডিমের সাদার মতো আঠালো | ঘন, দইয়ের মতো বা দুধের ছানার মতো |
| পরিমাণ | কম থেকে মাঝারি (মাসিক চক্র অনুযায়ী পরিবর্তনশীল) | অতিরিক্ত, যা অন্তর্বাস ভিজে যেতে পারে |
| অন্যান্য লক্ষণ | কোনো চুলকানি বা জ্বালাপোড়া নেই | চুলকানি, জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবে কষ্ট |
নারীর শরীরে সাদা স্রাবের ভূমিকা
নারীর জননতন্ত্রকে সুস্থ রাখার জন্য এই স্রাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রধান ভূমিকাগুলো হলো:
- পরিষ্কার রাখা: এটি যোনিপথ থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও মৃত কোষ বের করে এনে ভেতরের অংশকে পরিষ্কার রাখে।
- সংক্রমণ প্রতিরোধ: এই স্রাবের পিএইচ (pH) মাত্রা সাধারণত অম্লীয় থাকে, যা ক্ষতিকারক জীবাণুর বৃদ্ধিকে বাধা দেয়।
- লুব্রিকেশন: এটি যৌন মিলনের সময় যোনিপথকে আর্দ্র ও পিচ্ছিল রাখতে সাহায্য করে।
সাদা স্রাব হওয়ার সাধারণ কারণ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, মেয়েদের সাদা স্রাব বাড়ে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
হরমোনজনিত পরিবর্তন
নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করার কারণে স্রাবের পরিমাণ ও ঘনত্ব পরিবর্তিত হয়।
মাসিক চক্রের প্রভাব
- মাসিকের আগে সাদা স্রাব: ডিম্বস্ফোটনের পর প্রোজেস্টেরন হরমোনের কারণে স্রাব ঘন ও আঠালো হতে পারে।
- মাসিকের পরে সাদা স্রাব: মাসিক শেষ হওয়ার পর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে স্রাব হালকা ও পানির মতো হয়।
গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব অতিরিক্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। হরমোনের উচ্চ মাত্রা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য রক্ত প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে এটি হয়।
মানসিক চাপ ও দুর্বলতা
অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stressed Leucorrhea) বা শারীরিক দুর্বলতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা যোনিপথে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং এর ফলে স্রাব অস্বাভাবিক হয়ে যায়।
অতিরিক্ত ঘাম ও অপরিচ্ছন্নতা
যোনি অঞ্চলের আশেপাশে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং সঠিক ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের জন্ম হয়, যা সংক্রমণ ঘটায়।
সাদা স্রাব হলে কি ক্ষতি হয়?
অনেকেই জানতে চান, অতিরিক্ত সাদা স্রাব হলে কি ক্ষতি হয়? মনে রাখবেন, স্বাভাবিক স্রাব কোনো ক্ষতি করে না, কিন্তু যখন স্রাব অস্বাভাবিক হয়, তখন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
স্বাভাবিক সাদা স্রাবে ক্ষতি হয় কি না
না, স্বাভাবিক সাদা স্রাব (যা স্বচ্ছ, গন্ধহীন, চুলকানিহীন) হলে কোনো ক্ষতি হয় না। এটি সুস্থ থাকার লক্ষণ।
অতিরিক্ত সাদা স্রাবের সম্ভাব্য ক্ষতি
অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক সাদা স্রাব হলে নিম্নলিখিত ক্ষতি বা সমস্যাগুলো হতে পারে:
১. দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
- পোশাক ভিজে যাওয়া: অতিরিক্ত স্রাবের কারণে সর্বদা ভেজা ভেজা অনুভূতি হয়, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে মনোযোগ নষ্ট করে।
- শারীরিক অস্বস্তি: চুলকানি, জ্বালাপোড়া এবং দুর্গন্ধের কারণে সামাজিক মেলামেশা বা জনসমক্ষে অস্বস্তিতে ভোগা।
- দুর্বলতা: কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত পুষ্টিহীনতার কারণে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত স্রাব চললে শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। সাদা স্রাব হলে কি দুর্বলতা হয়—এর উত্তর হ্যাঁ, তবে তা হয় রোগ বা পুষ্টিহীনতার ফলস্বরূপ।
২. যৌনস্বাস্থ্য ও প্রজননে প্রভাব
- যৌন মিলনে সমস্যা: চুলকানি, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার কারণে যৌন মিলনে আগ্রহ কমে যাওয়া বা ব্যথা অনুভব করা। সাদা স্রাব হলে কি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রভাবিত হয়—অনেকের ক্ষেত্রেই হয়।
- প্রজনন স্বাস্থ্য: অস্বাভাবিক স্রাব প্রায়শই পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID)-এর একটি লক্ষণ। গুরুতর PID জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে।
কোন ধরনের সাদা স্রাব বিপজ্জনক?
সাদা স্রাবের রং ও ধরনের পরিবর্তন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো দেখলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে:
| স্রাবের ধরন | সম্ভাব্য কারণ |
| হলুদ/সবুজ রঙের স্রাব | ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ (যেমন: গনোরিয়া, ক্ল্যামিডিয়া, ট্রাইকোমোনিয়াসিস) |
| রক্তমিশ্রিত স্রাব | জরায়ুমুখের সংক্রমণ, পলিপ বা বিরল ক্ষেত্রে সাদা স্রাব কি ক্যান্সারের লক্ষণ (জরায়ুমুখের ক্যান্সার) হতে পারে। |
| ঘন, দইয়ের মতো স্রাব (চুলকানি সহ) | ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ক্যান্ডিডিয়াসিস (Thrush)। |
| তীব্র দুর্গন্ধ ও ধূসর স্রাব | ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস। |
| জ্বরসহ স্রাব | পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID) বা গুরুতর সংক্রমণ। |
সাদা স্রাবের কারণে কী কী রোগ হতে পারে
অস্বাভাবিক সাদা স্রাব মূলত একটি রোগের লক্ষণ, যা নিম্নোক্ত রোগগুলোর ইঙ্গিত দিতে পারে:
১. ফাঙ্গাল ইনফেকশন (ক্যান্ডিডিয়াসিস)
- লক্ষণ: দুধের ছানার মতো ঘন সাদা স্রাব, তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া।
- কারণ: ক্যান্ডিডা নামক ছত্রাকের অতিরিক্ত বৃদ্ধি।
২. ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস
- লক্ষণ: ধূসর বা হলুদ স্রাব, যা মাছের মতো তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত।
৩. ট্রাইকোমোনিয়াসিস
- লক্ষণ: সবুজ বা হলুদ স্রাব, ফেনাযুক্ত হতে পারে এবং তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত। এটি একটি যৌনবাহিত রোগ (STD)।
৪. সার্ভাইক্যাল সংক্রমণ (সার্ভাইসাইটিস)
জরায়ুমুখের সংক্রমণ থেকে ঘন, হলুদ স্রাব হতে পারে।
সাদা স্রাব হলে করণীয়
স্বাভাবিক স্রাবের জন্য বিশেষ কিছু করার দরকার নেই, তবে অস্বস্তি কমাতে এবং অস্বাভাবিক স্রাব দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
১. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
- যৌন অঙ্গ পরিষ্কার করতে সর্বদা সাধারণ জল বা হালকা গরম জল ব্যবহার করুন। সুগন্ধিযুক্ত সাবান, ডিওডোরেন্ট বা ডাউচিং এড়িয়ে চলুন।
- মলত্যাগের পর শৌচকর্ম করার সময় সবসময় সামনে থেকে পেছনে পরিষ্কার করুন, যাতে মলদ্বার থেকে জীবাণু যোনিপথে প্রবেশ করতে না পারে।
২. পর্যাপ্ত পানি পান
শরীরের ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করতে দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
৩. সঠিক অন্তর্বাস ব্যবহার
- সুতির (Cotton) অন্তর্বাস ব্যবহার করুন, কারণ সুতির কাপড় বাতাস চলাচল করতে দেয় এবং আর্দ্রতা শোষণ করে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।
- স্যাঁতসেঁতে অন্তর্বাস বা পোশাক দ্রুত পরিবর্তন করুন।
৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
- টক দই, বাটারমিল্ক বা অন্যান্য প্রোবায়োটিক খাবার খান। এগুলো শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- পুষ্টিহীনতা ও রক্তস্বল্পতা এড়াতে আয়রন ও ভিটামিনযুক্ত খাবার খান।
কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে
যদি আপনি দেখেন যে সাদা স্রাব কতদিন থাকলে সমস্যা সৃষ্টি করছে, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১. স্রাব ৭ দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে।
২. স্রাবের রং হলুদ, সবুজ, ধূসর বা রক্তমিশ্রিত হলে।
৩. স্রাবের সাথে তীব্র দুর্গন্ধ বা মাছের মতো গন্ধ থাকলে।
৪. যোনিপথে বা তলপেটে তীব্র ব্যথা বা চুলকানি থাকলে।
৫. স্রাবের সাথে জ্বর বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১) সাদা স্রাব কি খেলে ভালো হয়?
উত্তর: টক দই, শাকসবজি, ফল, পর্যাপ্ত পানি ও প্রোবায়োটিক খাবার খেলে উপকার হয়।
খাওয়া যাবেনা: অতিরিক্ত ঝাল, চিনি ও ফাস্টফুড এড়ানো ভালো।
২) সাদা স্রাব হলে করণীয় কি?
উত্তর: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সুতি অন্তর্বাস পরা, পানি বেশি পান করা ও প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
৩) সাদা স্রাব হলে কি বাচ্চা হয়?
উত্তর: স্বাভাবিক সাদা স্রাব হলে বাচ্চা হওয়ার সমস্যা হয় না। তবে সংক্রমণজনিত হলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।
৪) সাদা স্রাব হলে কি মাসিক হয়?
উত্তর: অনেক সময় মাসিকের আগে সাদা স্রাব হয়, এটি স্বাভাবিক লক্ষণ।
৫) অতিরিক্ত সাদা স্রাব হলে কি হয়?
উত্তর: দুর্বলতা, চুলকানি, দুর্গন্ধ, তলপেটে ব্যথা ও সংক্রমণ হতে পারে।
৬) সাদা স্রাবের ঔষধ কি?
উত্তর: কারণভেদে ওষুধ ভিন্ন (ফাঙ্গাল/ব্যাকটেরিয়া)। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
৭) অতিরিক্ত সাদা স্রাব হলে করণীয় কি?
উত্তর: দ্রুত গাইনী ডাক্তারের কাছে যাওয়া, নিজে ওষুধ না খাওয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
৮) সাদা স্রাব হলে কি বাচ্চা হয় না?
উত্তর: না, সব ক্ষেত্রে নয়। স্বাভাবিক হলে কোনো সমস্যা নেই, সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা না করলে সমস্যা হতে পারে।
৯) সাদা স্রাব কি বন্ধ্যাত্বের কারণ?
উত্তর: সরাসরি স্বাভাবিক সাদা স্রাব বন্ধ্যাত্বের কারণ নয়। তবে, অস্বাভাবিক স্রাবের কারণে সৃষ্ট পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID) যদি ফ্যালোপিয়ান টিউবকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে তা বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। সাদা স্রাব হলে কি সন্তান ধারণে সমস্যা হয় – এর উত্তর হলো, সংক্রমিত স্রাব সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই চিকিৎসা জরুরি।
১০) সাদা স্রাব কি গর্ভধারণের লক্ষণ?
উত্তর: হ্যাঁ। ইমপ্লান্টেশন (ভ্রূণ জরায়ুতে বসা) এর সময় এবং গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে সাদা, পাতলা, দুধের মতো স্রাব (লিউকোরিয়া) বেড়ে যায়। এটি প্রায়শই গর্ভধারণের একটি প্রাথমিক লক্ষণ।
১১) সাদা স্রাব কি মাসিকের আগে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, মাসিক শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে স্রাব ঘন ও আঠালো হতে পারে। এটিকে স্বাভাবিক মাসিক চক্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১২) অতিরিক্ত সাদা স্রাব বন্ধ করার উপায় কী?
উত্তর: অতিরিক্ত সাদা স্রাব বন্ধ করতে হলে প্রথমে এর কারণ নির্ণয় করা জরুরি। যদি তা সংক্রমণের কারণে হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শে সাদা স্রাবের চিকিৎসা (অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ) নিতে হবে। ঘরোয়া উপায় হিসেবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সুতির অন্তর্বাস পরা এবং প্রোবায়োটিক খাবার খাওয়া সহায়ক।
শেষ কথা:
সাদা স্রাব কি স্বাভাবিক– এই প্রশ্নের উত্তর হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হ্যাঁ। যোনিপথে পরিষ্কার রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ করার জন্য সাদা স্রাব একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
তবে, স্রাবের রং, গন্ধ, বা পরিমাণে কোনো বড় পরিবর্তন দেখলে, বা তার সাথে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা তলপেটে ব্যথা অনুভব করলে, এটিকে অবহেলা না করে দ্রুত একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে গুরুতর স্বাস্থ্যগত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিষয়ক বার্তা
১. কি খেলে ডায়াবেটিস দ্রুত কমে? ব্লাড সুগার কমানোর খাবার তালিকা
২. ফেমিকন পিল খাওয়ার নিয়ম: সঠিকভাবে খাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড
৩. গর্ভধারণের লক্ষণ: প্রথম ১-২ সপ্তাহে কি কি হয়?
৪. কিডনি রোগের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার
৫. ডেঙ্গু জ্বর: লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্লাটিলেট বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়
৬. লিভার সুস্থ রাখার উপায়: প্রতিরোধ, খাবার ও চিকিৎসা | যকৃৎ পরিচর্যা
৭. প্যানিক অ্যাটাক: লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার
৮. দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা: কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ
১০. গর্ভকালীন সঠিক খাদ্য নির্বাচন: মাতৃত্বের প্রথম ধাপ
১১. মাতৃত্বের পর নতুন সূচনা: ফিজিওথেরাপির অপরিহার্য ভূমিকা
১২. ডায়াবেটিসকে জয় করুন: সব বয়সের স্বাস্থ্য সূত্র
১৩. ফেমিকন পিল কী এবং কেন ব্যবহার করা হয়? Femicon Pill
১৪. মাসিক অনিয়মিত? জেনে নিন এর পিছনের মূল ১০টি কারণ ও প্রতিকার