তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেকে ঢাকায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার সকাল সোয়া ৮টায় ড্রুক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলসহ প্রধানমন্ত্রী তোবগেকে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়।
বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত বৈঠক ও গার্ড অব অনার
ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং শেরিং তোবগে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তোবগে শুক্রবারের ভূমিকম্পে বাংলাদেশে যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী গার্ড অব অনার প্রদান করে।
স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সোজা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশ–ভুটান বন্ধুত্বের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে সফরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
সফরের প্রথম দিনেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে শেরিং তোবগের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো হলো-
- আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বিনিময়,
- ভুটানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ,
- কৃষি সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি।
এ ছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একান্ত বৈঠক
বিকেল ৩টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে শেরিং তোবগে ও মুহাম্মদ ইউনূসের একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উভয় দেশের নীতিগত ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকগুলো নিয়ে এখানে গভীর আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ভোজ ও সৌজন্য সাক্ষাৎ
শনিবার সন্ধ্যায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হবে।
রবিবার তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সফর শেষ হবে ২৪ নভেম্বর
তিন দিনের ব্যস্ত সূচি শেষে শেরিং তোবগে আগামী ২৪ নভেম্বর সকালে থিম্পুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।