রমজানের মাসে মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এই নামাজটি রাতে এশার সালাতের পর আদায় করা হয় এবং এটি এক ধরনের সুন্নাহ ইবাদত, যা রমজান মাসের প্রতিটি রাতে পড়া হয়। তারাবির নামাজের নিয়ত, রাকাত সংখ্যা, মোনাজাত এবং বিশেষ দোয়াগুলি সম্পর্কে নীচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
তারাবির নামাজ কী?
তারাবির নামাজের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
তারাবির নামাজ হলো রাতের একটি বিশেষ ইবাদত, যা রমজান মাসে প্রতি রাতে আদায় করা হয়। এই নামাজ সাহাবীদের আমল ও সহিহ হাদিসের আলোকে সাধারণত ৮ এবং ২০ রাকাত পড়া হয়।
রমজানের রাতের বিশেষ ইবাদত কেন?
রমজান মাস সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ মাস এবং তওবার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তারাবির নামাজের মাধ্যমে মুসলমানরা রাতে আল্লাহর কাছে আরও বেশি নৈকট্য অর্জন করেন এবং নিজেদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেন।
তারাবির নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
তারাবির নামাজের মধ্যে গভীর প্রশান্তি এবং ইবাদতের সঠিক অনুভূতি পাওয়া যায়। এটি শুধু এক ধরনের ফিজিক্যাল ইবাদত নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধির পথও।
তারাবির নামাজ কত রাকাত?
সুন্নাহ অনুযায়ী রাকাত সংখ্যা
ইহা একটি ইখতিলাফী অর্থাৎ মতবিরোধপূর্ণ মাস্আলা। তারাবির নামাজের এর নিদিষ্ট কোন রাকাত সংখ্যা নেই ২ রাকাত করে পরতে হয়। হাদিস অনুসারে ২০ রাকাত এবং ৮ রাকাতকে অধিকাংশ আলেম ওলামা সমর্থন করে থাকেন। এছারাও কেউ কেউ বলেছেন, বিতরসহ তারাবীহ ৪১ রাক‘আত। অর্থাৎ বিতর ৩ রাকআত হলে তারাবীহ হবে ৩৮ রাক‘আত। অথবা বিতর ১ রাকআত ও তারাবীহ ৪০ রাকআত।
ভিন্ন মতামত ও প্রচলিত রীতি (৮ বা ২০ রাকাত)
ভিন্ন-ভিন্ন মাযহাবের মধ্যে এই রাকাতের সংখ্যা সম্পর্কে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, তবে অধিকাংশ মাযহাব ২০ রাকাতকেই অধিক কার্যকরী মনে করে। তবে ৮ রাকাতের স্পষ্ট সহিহ হাদিস রয়েছে।
তারাবির নামাজের নিয়ত | Tarabi Namaz Niyat
ইসলামে প্রতিটি ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। কোনো আমল তখনই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা খাঁটি নিয়তের সঙ্গে করা হয়। নিয়ত ছাড়া ইবাদত অর্থহীন হয়ে পড়ে-কারণ আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক কাজ নয়, তার অন্তরের উদ্দেশ্য দেখেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।”
– সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, মিশকাত
নিয়ত অর্থ হৃদয়ের সংকল্প বা দৃঢ় উদ্দেশ্য প্রকাশ করা।
ইবাদত শুরু করার আগে মনে মনে কোন কাজটি, কার উদ্দেশ্যে এবং কী কারণে করা হচ্ছে-এটি স্থির করাই হলো নিয়ত।
নিয়ত কখনো উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। মুখে নিয়ত পড়ার কোন সহিহ হাদিস নেই; বরং এটি হৃদয়ের কাজ।
তারাবির নামাজের নিয়ত কীভাবে করবেন?
অনেকে মনে করেন তারাবির নামাজের আগে মুখে নিয়ত পড়া জরুরি। কিন্তু ইসলাম অনুযায়ী-
- মনে সংকল্প করাই যথেষ্ট
- আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে
- কোন নামাজ (তারাবি)
- কত রাকাত (২)
মনে স্থির করলেই নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যায়।
তারাবির নামাজের জন্য দাড়িয়ে তাকবীরে তাহরিমার পূর্বে মনে মনে নিয়ত করতে পারেন–
উদাহরণ: “আমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কেবলার দিকে দাড়িয়ে তারাবির ২ রাকাত নামাজের নিয়ত করলাম”
অনেকে যেটি মুখে উচ্চারণ করেন:
এটি মুখে বলা Sunnah বা ওয়াজিব নয় এবং কোন সহিহ হাদিসও নেই। অনেক আলেম ওলামা মুখে বলাকে বিদয়াত বলেছেন। আমল করার আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে সঠিক পদ্ধতি যাচাই করে নিবেন।
একা তারাবির নামাজের নিয়ত (ফরদ-এ-কিফায়া নয়, নফল ইবাদত)
আরবি: نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلّٰهِ تَعَالَى رَكْعَتَي صَلَاةِ التَّرَاوِيْحِ
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাক‘আতাই সালাতিত তারাবীহ।
বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তারাবির দুই রাকাত নামাজ আদায় করার নিয়ত করলাম।
জামাতে তারাবির নামাজের নিয়ত
Arabic: نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلّٰهِ تَعَالَى رَكْعَتَي صَلَاةِ التَّرَاوِيْحِ مَاكَتَادِيَنْ هَذَا لِإِمَامِ
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাক‘আতাই সালাতিত তারাবীহি মাকতাদিয়ান হাধাল ইমাম।
বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইমামের অনুসরণে তারাবির দুই রাকাত নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।
তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম | Tarabi Namajer Niyom
তারাবির নামাজের ধাপসমূহ
তারাবির নামাজের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে নিয়ত করে দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করতে হয়। সুন্নাহ অনুযায়ী তারাবির প্রতি রাকাত নামাজ অনেক লম্বা সময় ধরে আদায় করা হয়। যদিও অনেকে বেশি রাকাত আদায়ের উদ্দেশ্যে দ্রুত আদায় করেন যা মোটেও ঠিক নয়।
প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফেরানো
প্রতি দুই রাকাত সালাত আদায়ের পর সালাম ফিরাতে হয়। এভাবে পরবর্তী দুই রাকাত আদায় করতে হয়।
খতমে তারাবির নিয়ম
অনেকে খতমে তারাবি পরে থাকেন অর্থাৎ রমজান মাসে তারাবির নামাজে পবিত্র কুরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একবার খতম দিয়ে থাকেন। প্রথম দিকে প্রতিদিন তারাবির নামাজে পবিত্র কুরআনের শুরু থেকে দেড় পারা করে তেলাওয়াত করেন করেন। এরপর ১ পারা করে তেলাওয়াত করে রমজান মাসের ২৭ দিনে খতম তারাবি সম্পন্ন করা হয়, যেখানে পুরো কোরআন তিলাওয়াত করা হয়।
তারাবি নামাজের মোনাজাত | Tarabi Namajer Munajat
তারাবির নামাজের শেষে যে মোনাজাত রয়েছে তা কুরআন এবং হাদিসের কথাও পাওয়া যায় না। এই মুনাজাতের কথাগুলো ভাল, তবে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) শেখানো বা আচরিত নয়। তারাবীহের বিশ্রামের সময়ে এগুলো পড়লে কোনে বিশেষ সাওয়াব হবে বলে কোনো সহীহ, যয়ীফ বা জাল হাদীসেও বলা হয় নি।
মুনাজাতটি নিম্নরূপ:
اَللّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلْكَ الْجَنَّةَ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ بِرَحْمَتِكَ يَا عَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَا جَبَّارُ يَا خَالِقُ يَا بَارُّ اَللّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ
আমাদের উচিত এ সকল বানোয়াট দোয়া না পড়ে এ সময়ে দরুদ পাঠ করা। অথবা কুরআন তিলাওয়াত বা মাসনূন জিকির এ মশগুল থাকা।
তারাবি নামাজের দোয়া | Tarabi Namaz Dua
তারাবি নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া
প্রতি চার রাকাত নামাজের পর একটি যে দোয়া পড়া হয়, তা রাসুল (সা:) এর হাদিস দ্বারা প্রমানিত নয়। প্রতি চার রাকাত রেস্টের জন্য বসা হয় কিন্তু দোয়া পড়ার কোন ভিত্তি কুরআন হাদিসে নেই। (শাইখ আহমাদুল্লাহ) দোয়াটি হলো-
سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ (وَالْهَيْبَةِ) وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لا يَنَامُ وَ) لا يَمُوتُ (أبَداً أَبَداً)، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ (رَبُّنَا وَ) رَبُّ الْمَلائِكَةِ وَالرُّوحِ، (لا إلَهَ إلا اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ)
আমাদের উচিত এ সকল বানোয়াট দোয়া না পড়ে এ সময়ে দরুদ পাঠ করা। অথবা কুরআন তিলাওয়াত বা মাসনূন জিকিরে মশগুল থাকা।
দোয়া-কুনুত সম্পর্কে ব্যাখ্যা
বিতরের নামাজের জন্য দোয়া-কুনুত একটি বিশেষ দোয়া। এটি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও রহমত প্রার্থনা করার সুযোগ দেয়।
তারাবির পর দোয়া ও জিকিরসমূহ
তারাবির নামাজের শেষে, যে বিশেষ দোয়া পড়া হয় তা কোন হাদিসে পাওয়া যায় না। তবে নামাজ শেষে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন বা দোয়া বা যিকর-এ রত থাকতে পারেন। এ বিষয়ে কোনো নির্ধারিত কিছুই নেই।
নারীদের তারাবির নামাজের নিয়ম
বাসায় পড়ার রুলস
মহিলাদের নামাজ পড়ার সেরা জায়গা হচ্ছে তার বাসা বা ঘর। অন্যান্য নামাজের মতই ২ রাকাত করে মহিলারা তারাবির নামাজ পরতে পারেন। আবার মহিলারাও জামাতে নামাজ ও মহিলাদের জামাতে ইমামতি করতে পারেন।
জামাতে অংশগ্রহণ করা জায়েজ কি?
নারীদের জন্য জামাতে তারাবির নামাজ পড়া মোটেও নিষিদ্ধ নয়। তবে মসজিদের চেয়ে বাসায় ভিতরের ঘরে পড়া উত্তম।
তারাবি নামাজের ফজিলত | Tarabi Namaz Fajilat
সকল গোনাহ ক্ষমা
যে মুসলমান আন্তরিক বিশ্বাস ও পরিপূর্ণ ইমানের সঙ্গে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তারাবীহর নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তাআলা তার অতীতের ছোটখাটো সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন। রমজানের রাতগুলোতে এই ইবাদত একজন মুসলমানের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাকে রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির পথে এগিয়ে নেয়।
জান্নাতের দরজা খোলা
রমজান মাসে জান্নতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহর রহমতের চাদরে ঢেকে যায় পুরো বিশ্ব। এই মাস সওয়াব লুটের মাস এ মাসে আমল দ্বারা সওয়াব লুট করে নেয়া সম্ভব।
হাজার মাসের ইবাদতের সওয়াব একরাতেই
রমজান মাসের এমন একটি রাত আছে যে রাতের নাম লাইলাতুল কদর। এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমতুল্য। এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুয়ান নাজিল করেন।
রমজানের রাতে অতিরিক্ত ইবাদতের মাহাত্ম্য
রমজান মাসে অতিরিক্ত নামাজ পড়া, বিশেষত তারাবি নামাজ, আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং নেকি লাভের অন্যতম উপায়।
তারাবি নামাজের হাদিস | tarabi namajer hadis
১। বিতর ছাড়া ২০ রাক‘আত তারাবীহ নামাজের পক্ষে দলিল হল মুসান্নাফে আঃ রায্যাক হতে বর্ণিত ৭৭৩০ নং হাদীস, যেখানে বর্ণিত হয়েছে-
أَنَّ عُمَرَ جَمَعَ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ عَلَى أُبَي بنِ كَعَبٍ وَعَلَى تَمِيْمِ الدَّارِيْ عَلَى إِحْدى وَعِشْرِيْنَ مِنْ رَكْعَةِ يَقْرَؤُنَ بِالْمَئِيين
উমার (রাঃ) রমজানে উবাই ইবনে কাব ও তামীম আদদারী (রাঃ) কে ইমামতিতে লোকদেরকে একুশ রাকআত সালাতের প্রতি জামাআতবদ্ধ করেছিলেন। (অর্থাৎ তারাবীহ ২০ রাকাত ও বিতর ১ রাকাত)
২। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন যে,
كَانَتْ صَلاَةُ النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم- ثَلاَثَ عَشَرَةَ رَكْعَةً يَعْنِيْ مِنَ اللَّيْلِ
‘‘নাবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র রাতের সালাত ছিল ১৩ রাক‘আত।’’ (বুখারী : ১১৩৮; মুসলিম : ৭৬৪)
৩। হযরত আয়িশাহ (রাঃ) বলেন,
مَا كَانَ يَزِيْدُ فِيْ رَمَضَانَ وَلاَ غَيْرِهِ عَلَى إِحْدى عَشَرَةَ رَكْعَةً
তিনি (সাঃ) রমযান ও রমযানের বাইরে (রাতে) ১১ রাকআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। (বুখারী : ২০১৩; মুসলিম : ৭৩৮) অর্থাৎ তারাবীহ ৮ রাকাআত এবং বিতর ৩ রাকাআত।
৪। ইবনে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
أَمَرَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أُبَيْ بْنِ كَعَبٍ وَتَمِيْمَا الدَّارِيِّ أَن يَّقُوْمَ لِلنَّاسِ بِإحْدى عَشَرَةَ رَكْعَةٍ
‘উমার ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু (তার দুই সঙ্গী সাহাবী) উবাই ইবনে কাব তামীম আদদারীকে এ মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন লোকদেরকে নিয়ে (রমজানের রাতে) ১১ রাকআত কিয়ামুল্লাইল (অর্থাৎ তারাবীহর সালাত) আদায় করে। (মুয়াত্তা মালেক : ১/১১৫)
সূত্র: বাংলাহাদিসবিডি
তারাবির নামাজ সম্পর্কিত ভুল ধারণা | Tarabi Namaz Mistakes
আবশ্যকতা বনাম সুন্নাহ
তারাবির নামাজ আবশ্যক নয়, তবে এটি একটি সুন্নাহ ইবাদত। কিছু লোক মনে করেন এটি ফরজ, তবে এটি ঠিক নয়।
রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক
বিভিন্ন মাযহাব ও মতামতের কারণে রাকাত সংখ্যা নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে, তবে এটি ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা প্রভাবিত করে না।
তারাবির নামাজ বিষয়ক প্রশ্ন-উত্তর (FAQs)
প্রশ্ন: তারাবির নামাজের নিয়ত কিভাবে করব?
উত্তর: তারাবির নামাজের জন্য দাড়িয়ে তাকবীরে তাহরিমার পূর্বে মনে মনে নিয়ত করতে পারেন-
উদাহরণ: “আমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কেবলার দিকে দাড়িয়ে তারাবির ২ রাকাত নামাজের নিয়ত করলাম”
প্রশ্ন: ১২টার পর তারাবির নামাজ পড়া যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ১২টার পর তারাবির নামাজ পড়া যায়।
প্রশ্ন: তারাবীহ কি সুন্নাত নাকি নফল?
উত্তর: তারাবীহ নামাজ সুন্নাত, এবং এটি রমজান মাসে পড়া হয়। তবে এটি ফরজ নয়, বরং এক ধরনের অতিরিক্ত সুন্নাত ইবাদত যা রমজান মাসে আরও নেকি লাভের জন্য পড়া হয়।
প্রশ্ন: নামাজ তারাবী মিস করলে কি হয়?
উত্তর: যদি কেউ তারাবির নামাজ মিস করেন, তবে তার কোনো গুনাহ হবে না। তবে, যেহেতু এটি সুন্নাত, এটি মিস করলে আপনি তারাবির পূর্ণ বরকত থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
প্রশ্ন: তারাবি নামাজের ৪ রাকাতের পর কোন দোয়া পড়তে হয়?
উত্তর: তারাবী নামাজের ৪ রাকাতের পর, যে বিশেষ দোয়া এবং মোনাজাত করা হয় তা কুরআন হাদিসের কোথাও পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজের মুনাজাত কখন পড়তে হয়?
উত্তর: তারাবী নামাজে মোনাজাত করা কুরআন হাদিসের কোথাও পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ ১২ রাকাত পড়া যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ । ১২ রাকাত তারাবির নামাজ পড়া যেতে পারে, এই নামাজের কোন নিদিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই। সাধারণত ৮ বা ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করা হয়।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কি ঘরে পড়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, জায়েজ আছে।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কখন পড়তে হয়?
উত্তর: তারাবির নামাজ রমজান মাসের প্রতিটি রাতে, ইফতার ও সেহরির মাঝে আদায় করা হয়। এটি রাতের প্রথম অংশে পরা হতে পারে এবং কখনও কখনও গভীর রাতে।
প্রশ্ন: তারাবির নিয়ত কি বাংলা ভাষায় করা যাবে?
উত্তর: নিয়ত কখনো উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। মুখে নিয়ত পড়ার কোন সহিহ হাদিস নেই; বরং এটি হৃদয়ের কাজ। মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে সঠিকভাবে মনে মনে নিজের ভাষায় নিয়ত করা।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ না পড়লে কি গুনাহ হবে?
তারাবির নামাজ না পড়লে কোনো গুনাহ হবে না, কারণ এটি ফরজ নয়, তবে এটি একটি সুন্নাত ইবাদত, এবং সুন্নাত না পালন করলে আপনি তার পূর্ণ বরকত থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ মসজিদে ও বাসায় একই নিয়মে পড়া যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, তারাবির নামাজ মসজিদে এবং বাসায় একই নিয়মে পড়া যায়।