বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী রিল মেকিং প্রতিযোগিতা, যার শিরোনাম- ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপি তরুণ প্রজন্মসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষকে দেশের ভবিষ্যৎ ভাবনায় যুক্ত করার কৌশল গ্রহণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা- গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তা, প্রত্যাশা ও স্বপ্নকে তুলে ধরাই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য।
‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মূল ভাবনা
ড. মাহদী আমিন বলেন, “এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা জানতে চাই- সাধারণ মানুষ কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায়।”
এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিযোগিতার জন্য ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
প্রতিযোগিতার নির্ধারিত বিষয়সমূহ
নির্ধারিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-
- ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা
- কৃষক কার্ড ও কৃষি উন্নয়ন
- কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন
- শিক্ষা ব্যবস্থা ও মানবসম্পদ
- পরিবেশ সংরক্ষণ
- ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
- স্বাস্থ্যসেবা
- নারীর ক্ষমতায়ন
- প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ
- গ্রাম ও নগর উন্নয়ন
- সুশাসন ও নাগরিক অধিকার
প্রতিযোগীরা এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে নিজেদের ভাবনা এক মিনিটের রিলে তুলে ধরতে পারবেন।
অংশগ্রহণের সুযোগ- দেশে ও বিদেশে সবার জন্য উন্মুক্ত
এই রিল প্রতিযোগিতায় দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত যে কোনো বয়সের নাগরিক অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
অংশগ্রহণের শর্ত অনুযায়ী—
- সর্বোচ্চ ১ মিনিটের একটি ভিডিও রিল তৈরি করতে হবে
- বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে খোলা নির্ধারিত ইভেন্টে ভিডিওটি পোস্ট করতে হবে
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাবনাও প্রতিযোগিতায় যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
সময়সূচি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি
ড. মাহদী আমিন জানান-
- প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর
- চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত
বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে-
- ৩০ শতাংশ জনমতের ভিত্তিতে (লাইক, রিচ, এনগেজমেন্ট)
- ৭০ শতাংশ জুরি বোর্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
বিজয়ীদের জন্য বিশেষ পুরস্কার ও সুযোগ
এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জন অংশগ্রহণকারী পাবেন এক ব্যতিক্রমী সম্মান।
তাঁরা সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতার সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিকে তরুণদের সঙ্গে নেতৃত্বের সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার কৌশল
ড. মাহদী আমিন বলেন,
“তরুণ প্রজন্মই আগামী বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। তাদের চিন্তা ও প্রত্যাশা জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মত প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম, আর এই প্রতিযোগিতা সেই প্ল্যাটফর্মকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর প্রয়াস।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ
- বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য সাইমন পারভেজ
- বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান
- দলের অন্যান্য সিনিয়র ও যুব নেতারা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
বিশ্লেষকদের মতে, এই রিল প্রতিযোগিতা বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তরুণ ও ডিজিটাল প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সোর্স: দৈনিক ইত্তেফাক