রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

তাশাহুদ কি? এর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, পড়ার নিয়ম ও ফজিলত সহ সম্পূর্ণ গাইড

বহুল পঠিত

নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং মুসলিম জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই ইবাদতকে পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধ করতে এর প্রতিটি অংশ সঠিকভাবে জানা অপরিহার্য। এর মধ্যে তাশাহুদ অন্যতম, যা ছাড়া নামাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

এই পূর্ণাঙ্গ গাইডে, আপনি তাশাহুদের সঠিক আরবি উচ্চারণ, সহজ বাংলা উচ্চারণ, প্রতিটি শব্দের অর্থ, এর ফজিলত এবং নামাজে তাশাহুদ পাঠের সঠিক নিয়ম বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন।

তাশাহুদ কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

তাশাহুদ হলো আল্লাহ্‌ তা‘আলার প্রশংসা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরুদ ও শান্তি বর্ষণ এবং মুমিনদের জন্য প্রার্থনা সম্বলিত একটি বিশেষ বাক্যসমষ্টি।

তাশাহুদের সংজ্ঞা

‘তাশাহুদ’ শব্দটি এসেছে আরবি “শাহাদা” (شهادة) থেকে, যার অর্থ সাক্ষ্য দেওয়া। নামাজে তাশাহুদ পাঠের মাধ্যমে আমরা মূলত আল্লাহ্‌র একত্ব এবং রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করি। এটি নামাজে বসার সময় পঠিত একটি বিশেষ দোয়া।

নামাজে তাশাহুদের অবস্থান

তাশাহুদ মূলত নামাজের দুই বৈঠকে (বসার সময়) পড়া হয়:

  1. প্রথম বৈঠক (কায়দায়ে উলা): তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের প্রথম দুই রাকাত শেষে।
  2. শেষ বৈঠক (কায়দায়ে আখিরা): সব নামাজের একদম শেষে, সালাম ফেরানোর আগে।

ইসলামে তাশাহুদের গুরুত্ব

তাশাহুদকে নামাজের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তাশাহুদ ছেড়ে দেয়, তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যায়। এটি একটি ইবাদতের মধ্যে আল্লাহ্‌র সাথে কথোপকথনের ও তাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণের এক বিশেষ মাধ্যম।

তাশাহুদ আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

তাশাহুদের একাধিক সহীহ বর্ণনা থাকলেও, আমরা এখানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রায় সব মাজহাবে অনুসৃত তাশাহুদটি প্রদান করছি।

তাশাহুদ আরবি

اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

তাশাহুদ বাংলা উচ্চারণ

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াছ ছালা-ওয়া-তু ওয়াত ত্বাইয়িবা-তু। আসসালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিইয়্যু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ্। আসসালা-মু আলাইনা ওয়া ‘আলা- ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লিহীন। আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।

তাশাহুদ বাংলা অর্থ

মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক যাবতীয় ইবাদত আল্লাহর নিমিত্তে। হে নবী! আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বর্কত বর্ষিত হােক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের উপর সালাম বর্ষণ হোক। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষি দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর দাস ও প্রেরিত রসূল। (বুখারি: ১১/১৩, মুসলিম: ১/৩০ ১)

প্রতিটি বাক্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

আরবি বাক্যবাংলা অর্থ
আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হিযাবতীয় মৌখিক ইবাদত আল্লাহ্‌র জন্য,
ওয়াছ ছালা-ওয়া-তুএবং যাবতীয় শারীরিক ইবাদত,
ওয়াত ত্বাইয়্যিবা-তুএবং যাবতীয় আর্থিক ইবাদতও (আল্লাহ্‌র জন্য)।
আসসালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিইয়্যুহে নবী! আপনার প্রতি শান্তি,
ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ্এবং আল্লাহ্‌র রহমত ও তাঁর বরকতসমূহ বর্ষিত হোক।
আসসালা-মু আলাইনা-আমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক,
ওয়া ‘আলা- ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লিহীনএবং আল্লাহ্‌র নেক বান্দাদের প্রতিও।
আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুআমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই,
ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহু ওয়া রাসূলুহুএবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

তাশাহুদের ফজিলত ও গুরুত্ব

তাশাহুদের শব্দগুলো গভীর অর্থবহ। এটি কেবল একটি দোয়া নয়, বরং এর মাধ্যমে মুমিন রাসূল (সা.) ও অন্যান্য নেক বান্দাদের জন্য দোয়া করে থাকেন।

হাদিসে তাশাহুদের মর্যাদা

আব্‌দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন- যখন আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম, তখন আমরা আল্লাহর প্রতি তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম, জিব্রীল ‘আ.)-এর প্রতি সালাম, মীকাঈল (‘আ.)-এর প্রতি সালাম এবং অমুকের প্রতি সালাম দিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে, আমাদের দিকে তাঁর চেহারা ফিরিয়ে বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা নিজেই ‘সালাম’। অতএব যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে বসবে, তখন বলবে আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াছ………। ” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬২৩০)

এই বর্ণনা থেকে তাশাহুদের গুরুত্ব ও মর্যাদার গভীরতা অনুধাবন করা যায়।

নামাজ সম্পূর্ণ করতে তাশাহুদের ভূমিকা

তাশাহুদে আল্লাহ্‌র একত্ব ও রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া হয়, যা ইসলাম ও নামাজের মূল ভিত্তি। এই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে নামাজ পূর্ণতা লাভ করে। তাশাহুদের মাধ্যমেই বান্দা সালামের পূর্বে নিজের ও সমগ্র উম্মাহর জন্য আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা ও শান্তি কামনা করার সুযোগ পায়।

নামাজে তাশাহুদ পাঠের নিয়ম

নামাজের বৈঠকে বসার ধরন এবং কখন তাশাহুদ পড়তে হবে, তার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।

প্রথম বৈঠক (কায়দায়ে উলা)

  • ফজরের ২ রাকাত, মাগরিবের ৩ রাকাত এবং যোহর, আছর ও এশার ৪ রাকাত নামাজের প্রথম দুই রাকাত শেষে দাঁড়ানোর আগে প্রথম বৈঠক হয়।
  • এই বৈঠকে শুধুমাত্র তাশাহুদ শেষ পর্যন্ত পাঠ করতে হয়।
  • তাশাহুদের পর আর কোনো দোয়া (যেমন: দরুদে ইব্রাহিম) না পড়ে, সাথে সাথে তৃতীয় রাকাতের জন্য ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দাঁড়িয়ে যেতে হয়।

শেষ বৈঠক (কায়দায়ে আখিরা)

  • নামাজের শেষ রাকাতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
  • এই বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদে ইব্রাহিম এবং দোয়া মাসুরা বা একটি মাসনূন দোয়া পাঠ করতে হয়।
  • এরপর ডানে ও বামে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হয়।

বসার ধরন ও হাতের অবস্থান (পুরুষদের জন্য)

  • বসার ধরন: হানাফি মাজহাবে পুরুষেরা শেষ বৈঠকে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসবে এবং ডান পা খাড়া করে তার আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখবে। (এটি ‘তাওয়ার্রুক’ বা ‘ইফতিরাশ’ নয়, বরং ‘ইফতিরাশ’-এর একটি রূপ)
  • হাতের অবস্থান: দুই হাত এমনভাবে উরুর উপর রাখা হবে যেন আঙ্গুলের মাথাগুলো হাঁটু বরাবর থাকে।

তর্জনী তোলার সময়

তাশাহুদ পাঠের সময় ডান হাতের শাহাদাত (তর্জনী) একবার আঙুল উঠাতে হবে এবং তা নামিয়ে দিতে হবে। এটি সুন্নাত । (শাইখ আহমাদুল্লাহ)

তাশাহুদ সহজে মুখস্থ করার উপায়

যদি কারও তাশাহুদ মুখস্থ না থাকে, তবে নামাজ শুদ্ধ করার জন্য তা মুখস্থ করা ফরযের কাছাকাছি।

খণ্ড খণ্ড করে মুখস্থের নিয়ম

একবারে মুখস্থ করার চেষ্টা না করে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন:

  1. প্রথম অংশ: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি… ওয়াত ত্বাইয়িবা-তু। (৩টি বাক্য)
  2. দ্বিতীয় অংশ: আসসালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিইয়্যু… ওয়া বারাকা-তুহ্। (২টি বাক্য)
  3. তৃতীয় অংশ: আসসালা-মু আলাইনা- ওয়া ‘আলা- ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লিহীন। (২টি বাক্য)
  4. চতুর্থ অংশ: আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু… ওয়া রাসূলুহু। (২টি বাক্য)

প্রতিদিন একটি করে ভাগ মুখস্থ করে নামাজে পড়ার অভ্যাস করুন।

অডিও শুনে শেখা

সঠিক উচ্চারণ নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য ক্বারীর তেলাওয়াত বা তাশাহুদের অডিও বারবার শুনুন। শুনে শুনে পুনরাবৃত্তি করলে উচ্চারণ দ্রুত ও নির্ভুল হয়। ইউটিউবে সার্চ করে সহীহ উচ্চারণ শুনে অনুশীলন করতে পারেন।

অর্থ বুঝে মুখস্থ করার কৌশল

যখন আপনি তাশাহুদের অর্থ বুঝবেন, তখন মুখস্থ করা সহজ হবে এবং নামাজে মনোযোগ (খুশু) বাড়বে। অর্থ উপলব্ধি করে পড়লে মুখস্থের প্রক্রিয়াটি কেবল যান্ত্রিক থাকে না, বরং আধ্যাত্মিক হয়ে ওঠে।

তাশাহুদ পাঠের সময় সাধারণ ভুল ও সমাধান

অসাবধানতাবশত অনেকে তাশাহুদ পাঠের সময় কিছু ভুল করে থাকেন।

উচ্চারণগত ভুল

তাশাহুদের উচ্চারণজনিত ভুল নামাজের অর্থ ও সওয়াবে প্রভাব ফেলতে পারে।

ভুল উচ্চারণে অর্থ পরিবর্তন

যেমন: ‘আত্তাহিয়্যাতু’ এর স্থলে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ তে ‘ত’ (তা) কে শক্তভাবে উচ্চারণ না করলে অর্থ বিকৃত হতে পারে। আরবি ‘ছ’ (সাদ) বা ‘ত্ব’ (ত্বোয়া) অক্ষরের সঠিক মাখরাজ (উচ্চারণের স্থান) জরুরি।

সঠিক উচ্চারণের কৌশল

  • যোগ্য কোনো আলেমের কাছে সরাসরি উচ্চারণ যাচাই করিয়ে নিন।
  • যেসব শব্দে সমস্যা হচ্ছে, সেগুলোকে বারবার পুনরাবৃত্তি করে অনুশীলন করুন।
  • ‘ছালা-ওয়া-তু’-তে ‘ছ’-এর মাখরাজ ও ‘ত্বইয়্যিবা-তু’-তে ‘ত্ব’-এর মাখরাজ বিশেষভাবে খেয়াল করুন।

বসার পদ্ধতিতে ভুল

অনেক সময় পুরুষেরা মহিলারা মতো বা মহিলারা পুরুষের মতো করে বসেন, যা সুন্নাহের খেলাফ। বসার নিয়মে মনোযোগ দিলে এই ভুল এড়ানো যায় (উপরে বর্ণিত নিয়ম দেখুন)।

মনোযোগ কমে যাওয়ার কারণ ও সমাধান

তাশাহুদ একটি লম্বা দোয়া হওয়ায় অনেক সময় মনোযোগ কমে যায়। এর সমাধান:

  • তাশাহুদের অর্থের দিকে মনোযোগ দিন। আপনি কী বলছেন, তা উপলব্ধি করুন।
  • তর্জনী উঠানোর সময় বিশেষভাবে মনোযোগী হোন, কারণ এটি তাওহীদের সাক্ষ্যদানের মুহূর্ত।
  • নামাজের আগে তাড়াহুড়ো পরিহার করে মনকে শান্ত করে নিন।

তাশাহুদের পর কোন দোয়া পড়া যায়

শেষ বৈঠকে তাশাহুদ শেষ করার পর সালাম ফেরানোর আগে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাঠ করা হয়।

দরুদে ইব্রাহিম

তাশাহুদের শেষে রাসূল (সা.) এর প্রতি দরুদ পাঠ করা হয়। যা উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রাসূলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম।

মাসনূন দোয়া

দরুদে ইব্রাহিমের পর কুরআন ও সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণিত যেকোনো দোয়া পড়া যায়। এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় ও উপকারী দোয়া হলো:

اَللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

সালাম ফেরানোর পূর্বে দোয়া

রাসূল (সা.) সালাম ফেরানোর পূর্বে বিশেষ কিছু দোয়া পড়তে বলেছেন, যেমন: জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া।

তাশাহুদ শেখার উপকারিতা

তাশাহুদ সঠিকভাবে জানার ও পাঠ করার অনেক উপকারিতা রয়েছে, যা নামাজের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।

নিয়মিত চর্চার গুরুত্ব

ঈমান দৃঢ় হয়

তাশাহুদে ‘আল্লাহ্‌ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই’ – এই সাক্ষ্য বারবার দেওয়া হয়, যা ঈমানকে মজবুত করে।

নামাজে খুশু-খুজু বাড়ে

অর্থ বুঝে পড়লে নামাজের প্রতি মনোযোগ (খুশু-খুজু) বাড়ে, ফলে নামাজে বিচ্ছিন্নতা কম আসে।

দোয়াগুলো সহজ হয়

দরুদ ও মাসনূন দোয়াগুলো মুখস্থ হয়ে গেলে তা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের অনুভূতিকে আরও গভীর করে।

তাশাহুদ সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

এখানে গুগল ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তাশাহুদ সম্পর্কিত বেশি সার্চ হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হলো:

প্রশ্ন: প্রথম তাশাহুদ না পড়ে দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয় কি?

উত্তর: এ অবস্থায় ফিরে আসবেন না তথা বসে পড়বেন না; বরং নামায চালিয়েই যাবেন। কেননা আপনি তাশাহুদ থেকে পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং পরবর্তী রুকনে চলে গিয়েছেন। এ অবস্থায় ফিরে আসা মাকরূহ, তবে যদি ফিরে এসে বসে পড়েন, তবে নামায বাতিল হবে না। কেননা আপনি হারাম কিছু করেননি। তবে এ অবস্থায় সাহু সিজদা করতে হবে। আর তা সালামের পূর্বে। (শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ))

কোন কোন বিদ্বান বলেছেন, নামায চালিয়ে যাওয়া ওয়াজিব, আর ফিরে আসবেন না। আর ওয়াজিব তাশাহুদ ছুটে যাওয়ার কারণে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করবেন।

প্রশ্ন: তাশাহুদে আঙুল কখন তোলা হয়?

উত্তর: ডান হাতের তর্জনী (শাহাদাত আঙুল) তাশাহুদে “আশহাদু আল লা- ইলা-হা” বলার সময় উঠানো হয় এবং “ইল্লাল্লা-হু” বলার সময় নামিয়ে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: তাশাহুদ কি দুইবার পড়তে হয়?

উত্তর: হ্যাঁ, তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজে তাশাহুদ দুইবার পড়তে হয়:

  1. প্রথম বৈঠক (প্রথম দুই রাকাত শেষে)।
  2. শেষ বৈঠক (নামাজ শেষে সালামের আগে)।

প্রশ্ন: তাশাহুদের সংক্ষিপ্ত কোনো রূপ আছে কি?

উত্তর: তাশাহুদের যে রূপটি আমরা সাধারণত পড়ি, সেটাই সহীহ হাদিস অনুযায়ী সবচেয়ে প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য। এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই যা নিয়মিত পড়া উচিত।

প্রশ্ন: তাশাহুদ ভুল পড়লে কি করণীয়?

উত্তর: যদি সামান্য উচ্চারণে ভুল হয় এবং অর্থ বিকৃত না হয়, তাহলে নামাজ শুদ্ধ। ভুলে কোনো অংশ বাদ দিলে বা ভুল করলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।

প্রশ্ন: তাশাহুদের সময় দৃষ্টি কোথায় রাখবে?

উত্তর: কোলের দিকে অতবা ডান হাতের শাহাদাত (তর্জনী) আঙুলের দিকে তাকাতে পারেন। তবে পুরো নামাজজুড়ে সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখার হাদিসও রয়েছে।

প্রশ্ন: তাশাহুদ কি শিশুকে সহজে শেখানো যায়? কীভাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, শেখানো যায়। ছোট ছোট অংশে ভাগ করে (যেমন উপরে দেখানো হয়েছে), সুর করে বা খেলার ছলে শেখানো যেতে পারে। অডিও বা ভিডিও ব্যবহার করলে তাদের জন্য এটি আরও মজাদার হবে।

প্রশ্ন: তাশাহুদে ভুলে গেলে সিজদায় সাহু দিতে হয় কি?

উত্তর: হ্যাঁ, তাশাহুদ নামাজের একটি ওয়াজিব অংশ। যদি কেউ প্রথম বা শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়তে ভুলে যায়, তবে তাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।

প্রশ্ন: তাশাহুদের কোন অংশে তর্জনী তুলতে হয়?

উত্তর: “আশহাদু আল লা- ইলা-হা” এই অংশে তর্জনী তুলতে হয়।

আরো পড়ুন

ব দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম অর্থসহ | B Diye Meyeder Islamic Name

আপনার ঘরে কি নতুন অতিথি আসছে? একটি ফুটফুটে কন্যা শিশু মানেই জান্নাতের সুসংবাদ। সন্তানের আগমনের খুশির সাথে সাথে বাবা-মায়ের সবচেয়ে আনন্দের দায়িত্ব হলো তার জন্য একটি সুন্দর, অর্থবহ এবং শ্রুতিমধুর নাম রাখা।

জানাজার নামাজের সঠিক নিয়ম সহ পূর্ণাঙ্গ গাইড | Janajar Namaz Bangla

মানুষ মরণশীল। প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু ইসলাম ধর্মে মৃত্যু মানেই শেষ নয়, বরং এটি অনন্তকালের জীবনের শুরু। আমাদের কোনো আপনজন যখন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, তখন তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় উপহার হলো "জানাজার নামাজ"।

রমজানের সময় সূচি ২০২৬, সেহরি ও ইফতারের দোয়া এবং বিস্তারিত

মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজান মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসে সিয়াম সাধনা ফরজ হয়। সঠিক সময়ে সাওম পালন জরুরি। তাই সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী জানা প্রয়োজন। রমজানের সময় সূচি ২০২৬ নিচে দেওয়া হলো। এই তালিকাটি ঢাকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী তৈরি। অন্যান্য জেলায় সময় এক থেকে দুই মিনিট পরিবর্তন হতে পারে। আসুন জেনে নিই সেহরি ও ইফতারের দোয়া এবং তারিখ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ