ন্যায়বিচারের পথে এক আশাব্যঞ্জক সূচনা
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক অধ্যায়। দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রবিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর শপথ গ্রহণ করান।
এই শপথের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, তিন বাহিনীর প্রধান, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীসহ বিচার বিভাগের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে, যা শপথ গ্রহণের দিন থেকেই কার্যকর।
বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে সম্মানজনক বিদায়
এদিকে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শনিবার অবসরে যান। ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় তিনি সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই নতুন প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের দীর্ঘ পথচলা
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বিচারিক জীবন দীর্ঘ ও গৌরবময়। তিনি-
- ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে আইন পেশা শুরু করেন
- ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন
- ২০০৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন
- দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতির দায়িত্ব পান
- ২০২৪ সালের আগস্টে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন
এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মান, শিকড়ে দেশপ্রেম
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে বৈশ্বিক আইনি দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করেন।
১৯৬১ সালের ১৮ মে জন্ম নেওয়া জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামে। তাঁর পিতা প্রয়াত এএফএম আবদুর রহমান চৌধুরী নিজেও ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একজন সম্মানিত বিচারক—যা তাঁর ন্যায়বিচারের উত্তরাধিকারকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
প্রত্যাশার আলোয় নতুন যাত্রা
আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে নতুন প্রধান বিচারপতির এই যাত্রা হবে বলেই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আজ নতুন নেতৃত্বে, নতুন আশায়।