বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বুধবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব নিলেন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে।
শিক্ষাজীবন ও পেশাগত পরিচয়
মোস্তাকুর রহমান একজন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি.কম (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পোস্ট-কোয়ালিফিকেশন পর্যায়ে তার পেশাগত অভিজ্ঞতা ৩৩ বছরেরও বেশি।
শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
- বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন
- রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ
- অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ
- ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
এসব সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে দায়িত্ব পালন করে তিনি শিল্প অর্থায়ন, ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা ও আর্থিক নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগে ভূমিকা রাখেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
মোস্তাকুর রহমানের আরেকটি বড় শক্তি হলো—নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড–সহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, যা তাকে আর্থিক তদারকি ও নিয়ন্ত্রক সম্মতি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা দিয়েছে।
উদ্যোক্তা থেকে আর্থিক গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ
একই সঙ্গে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী এবং একজন জ্যেষ্ঠ আর্থিক প্রশাসন (Financial Governance) বিশেষজ্ঞ।
করপোরেট ফাইন্যান্স, রপ্তানি অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তার ৩০ বছরের বেশি নেতৃত্বমূলক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, পুঁজি ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি নিরূপণ এবং আর্থিক তদারকিতে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
বহুখাতে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা
উৎপাদন শিল্প, রিয়েল এস্টেট, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগসহ একাধিক খাতে মোস্তাকুর রহমানের বিস্তৃত নেতৃত্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এসব খাতে তিনি-
- আর্থিক পরিকল্পনা
- বিনিয়োগ তদারকি
- সুশাসন কাঠামো বাস্তবায়ন
সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকা আর্থিক স্থিতিশীলতা, শিল্প অর্থায়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাঠামোবদ্ধ সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।





