মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেমেছে মানুষের ঢল। খালি পায়ে, ফুলের ডালা হাতে নিয়ে হাজার হাজার মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। দীর্ঘদিন পর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবসের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাত বারোটা এক মিনিটে রাষ্ট্রপতির ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করা হলে সাধারণ মানুষ দলে দলে এসে সারিবদ্ধভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ
এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ভিন্ন আবহে উদযাপিত। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচিত সরকারের অধীনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে ছিল বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা। ছাত্র-জনতা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শহীদ মিনার এলাকায় ভোর থেকে শুরু হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজন। দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণে পুরো প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আবেগঘন।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দিবসটি ঘিরে নেওয়া হয় বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি র্যাব ও আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন। শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
ভাষা আন্দোলনের চেতনায় নতুন অঙ্গীকার
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না-এটি ছিল জাতিসত্তা ও আত্মপরিচয়ের লড়াই। সেই চেতনা আজও বাঙালির হৃদয়ে অমলিন।
এই মহান দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন প্রজন্ম প্রতিজ্ঞা করেছে- বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও শুদ্ধ চর্চা অব্যাহত রাখবে।





