বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২৬

পুরোনো হিসাব ভেঙে দিচ্ছে নতুন শক্তি- রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

বহুল পঠিত

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি সবসময়ই প্রতিযোগিতা, আন্দোলন এবং সংঘর্ষের জন্য পরিচিত। তবে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এই সময় থেকে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বর্তমানে দেশের প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের অবস্থান অনেকটা শক্তিশালী, সংগঠিত এবং জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ফলে ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ এক নতুন পথে এগোচ্ছে।

শিবিরের নির্বাচনী সাফল্যের গুরুত্ব

২০২৪ সালের ছাত্র সংসদ নির্বাচন গুলোতে শিবিরের ভুমিধস বিজয় বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ঝড় নিয়ে এসেছে। ডাকসু, জাকসু , চাকসু ও জাক্সুতে শিবিরের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬টার মধ্যে ২৪টি, জাহাঙ্গীরনগরে ২৫টির মধ্যে ২০টি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টির মধ্যে ২০টি পদে ভুমিধস বিজয় পেয়েছে। এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ছাত্রদের নতুন মানসিকতার প্রতিফলন। এখন শিক্ষার্থীরা এমন সংগঠন চায়, যারা তাদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য কাজ করবে।

বর্তমান (২০২৫) কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এর অগ্নিঝরা বক্তব্বের দৃশ্য।

ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃত্ব ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

শিবিরের বর্তমান নেতৃত্ব তরুণ, মেধাবী এবং দায়িত্বশীল ছাত্রদের মধ্যে থেকে উঠে এসেছে। তারা রাজনৈতিক আধিপত্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষাগত উন্নতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি, তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একতা, শান্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে কাজ করছে। ফলে শিবির এখন শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং ছাত্র কল্যাণে নিবেদিত একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড

শিবিরের জনপ্রিয়তার মূল কারণ তাদের কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড। তারা বৃত্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

  • বৃত্তি প্রদান: মেধাবী ও আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে।
  • শিক্ষাগত উন্নয়ন: মেন্টরিং সেশন ও একাডেমিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করেছে।
  • স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও মানসিক পরামর্শ সেবা দিচ্ছে।
  • নিরাপত্তা: নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এভাবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আস্থা শিবিরের প্রতি ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আন্দোলনে ভূমিকা

গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রশিবির ছাত্র আন্দোলনে নতুন রূপ দিয়েছে। তারা সামাজিক বৈষম্য, শিক্ষাগত সমস্যা ও ছাত্র অধিকারের বিষয়ে নিয়মিত আন্দোলন করছে। তবে তাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ। অন্যদিকে, তারা কখনোই সহিংস রাজনীতি সমর্থন করেনি। ফলে ছাত্রসমাজে শিবিরের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে।

ছাত্রশিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে শিবির সংগঠনের কাঠামো ও নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। তারা নেতৃত্ব বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতে কাজ করছে। পাশাপাশি, তারা বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নতি নিশ্চিত করা।

সামাজিক প্রভাব

শিবির এখন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার দিকেও কাজ করছে। তারা ধর্ম, জাতি বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি করতে রাজি নয়। এর ফলে তাদের পুরোনো বিতর্কিত ভাবমূর্তি বদলে গেছে। নতুন প্রজন্ম তাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। সুতরাং, শিবিরের কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক শান্তিতে অবদান রাখছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ও ভবিষ্যৎ

শিবিরের বিজয়ের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। ছাত্ররা এখন এমন সংগঠন খুঁজছে যারা তাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধান করবে। তাই শিবিরের প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, তারা যদি সহিষ্ণুতা ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ বজায় রাখে, তবে ছাত্র রাজনীতিতে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারবে।

ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছে। তাদের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, শিক্ষাগত অগ্রগতি ও সামাজিক একতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই ভবিষ্যতে শিবিরের ভূমিকা আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা যায়। সঠিক দিকনির্দেশনা বজায় থাকলে, তারা দেশের ছাত্র সমাজকে আরও শক্তিশালী ও সচেতন করে তুলতে পারবে।

লেখক: আব্দুর রহমান আল-আমীন (জিওবাংলা, টিভি)

আরো পড়ুন

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।

জকসু নির্বাচনের ফলাফল : ভিপি ও জিএসসহ শিবিরের প্রার্থীদের ভুমিধস জয়!

দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা শেষ হলো। অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ফলে দীর্ঘ সময় পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে নতুন নেতৃত্বের বলয়।

১১ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান: শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও মতবিনিময়ের বিশাল কর্মসূচি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলা সফরে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই চার দিনের সফরে তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফরের বিস্তারিত সূচি জানানো হয়েছে।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ