ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, কিন্তু আল্লাহ চাইলে সঠিক প্রস্তুতি আমাদের জীবন রক্ষা করতে পারে। সচেতনতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে বড় বিপদও অনেকটাই কমে যায়। এই নির্দেশিকাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে একজন সাধারণ পাঠক খুব সহজেই বুঝতে পারেন-
ভূমিকম্পের আগে, সময়, এবং পরে কী করণীয়।
ভূমিকম্প কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক?
ভূমিকম্প হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক একটি গজব যা পৃথিবীর ভেতরের প্লেট বা ভূস্তরের নড়াচড়ার কারণে কম্পন সৃষ্টি হয়। এই কম্পন আমাদের বাড়ি, ভবন, সেতু, রাস্তা- সবকিছুতে প্রভাব ফেলে। তবে ইতিবাচক দিক হলো- সচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনা অনেক কমে যায়।
ভূমিকম্পের কারণ
পৃথিবীর ভূত্বকে কয়েকটি বড় টেকটনিক প্লেট রয়েছে। যখন এদের মধ্যে ঠোকাঠুকি, চাপ বা সরে যাওয়া ঘটে তখন ভূমিকম্প হয়।
বাংলাদেশের নিচে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেট পরস্পরের সাথে ধাক্কা খায়-ফলে এই অঞ্চলে ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো হলো:
- সিলেট
- চট্টগ্রাম
- ঢাকা
- ময়মনসিংহ
- কক্সবাজার
তবে প্রস্তুতির মাধ্যমে ঝুঁকি অনেক কমানো যায়।
তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা
ভূমিকম্পের শক্তি মাপা হয় রিকটার স্কেল বা মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল (Mw)-এ।
- 3–4 মাত্রা: হালকা কম্পন
- 5–6 মাত্রা: মাঝারি ক্ষতি
- 7 বা তার বেশি: বড় ধরনের বিপর্যয়
তবে ইতিবাচক দিক হলো—বিশ্বজুড়ে ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা মান বাড়ছে, এবং সচেতনতা বাড়াই প্রকৃত শক্তি।
ভূমিকম্পের আগে করণীয় (Preparedness Guide)
ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো- আগের প্রস্তুতি। যত বেশি প্রস্তুত থাকবেন, তত কম ক্ষতি হবে এবং তত বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারবেন।
জরুরি প্রস্তুতির তালিকা
নিচের তালিকা আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সংকটে আপনাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করবে।
আল্লাহর জিকিরে রত থাকা
বিপদ-আপদ থেকে একমাত্র রক্ষা করতে পারেন মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি ব্যাতিত অন্য কেউই আমাদের রক্ষা করতে পারবেন না। তাই তার প্রতি অটল বিশ্বাস রেখে ভূমিকম্প বা যেকোন বিপদের সময় আতঙ্কগ্রস্থ না হয়ে শান্তমনে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সর্বদা আল্লাহর নামে জিকির পাঠের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখা
এই ব্যাগটি সবসময় নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন।
ব্যাগে রাখুন:
- পানি
- শুকনো খাবার
- টর্চ
- অতিরিক্ত ব্যাটারি
- পাওয়ার ব্যাংক
- সিটি
- প্রাথমিক চিকিৎসা
- ওষুধ
- গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের কপি
ফার্স্ট এইড বক্স রাখা
বক্সে রাখুন:
- ব্যান্ডেজ
- অ্যান্টিসেপ্টিক
- পেইনকিলার
- কাঁচি
- কাপড়
- গ্লাভস
এগুলো ছোটখাটো আঘাতে জীবন বাঁচাতে পারে।
পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা শেখানো
সবার সাথে আগে থেকেই আলোচনা করুন-
- নিরাপদ জায়গা কোথায়
- দরজার পথ কোনটা
- বাইরে কোন জায়গায় মিলিত হবেন
- ফোন কাজ না করলে কীভাবে যোগাযোগ করবেন
পরিবারের সবাই একই পরিকল্পনায় থাকলে আতঙ্ক কমে যায়।
বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা হয় ঘরের আসবাবপত্র পড়ে যাওয়ায়।
ভারী আসবাবপত্র ঠিকভাবে স্থাপন
- আলমারি, বুকশেলফ, শোকেস-দেয়ালে শক্ত করে বেঁধে দিন
- টিভি টেবিল বা ওয়ার্ডরোব নড়বড়ে হলে ঠিক করুন
গ্যাস লাইন, ইলেকট্রিক লাইনে সতর্কতা
- গ্যাস সংযোগ ঠিক আছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন
- বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড নষ্ট হলে ঠিক করিয়ে নিন
- বাড়িতে পাইপ লিক হলে দ্রুত মেরামত করুন
নিরাপদ জায়গা চিহ্নিত করা
ঘরের ভেতরে নিরাপদ জায়গা:
- মজবুত টেবিলের নিচে
- বিছানার পাশে
- শক্ত দেয়ালের পাশে
ঘরের বাইরে নিরাপদ জায়গা:
- খোলা মাঠ
- খালি রাস্তা
- ভবন থেকে দূরের জায়গা
ভূমিকম্পের সময় করণীয় (During Earthquake)
ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্ক নয়- তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তই জীবন রক্ষা করে।
ঘরের ভেতরে থাকলে করণীয়
“Drop, Cover & Hold” নিয়ম
এই তিনটি ধাপ আপনাকে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা দেয়-
- Drop: নিচু হয়ে যান
- Cover: মাথা ঢেকে টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন
- Hold: টেবিল বা আসবাবপত্র ধরে থাকুন
জানালা, কাঁচ, ভারী জিনিস থেকে দূরে থাকা
কাঁচ ভেঙে পড়লে বড় আঘাত লাগতে পারে।
ভারী আলমারি পড়ে গেলে প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে।
দরজার ফ্রেমের নিচে অবস্থান
যদি টেবিল বা আশ্রয় না পান, তবে শক্ত দরজার ফ্রেমে দাঁড়ানো নিরাপদ।
বাইরে থাকলে করণীয়
খোলা জায়গায় অবস্থান
ভবন, দোকান বা যেকোনো স্থাপনা থেকে দূরে যান।
খোলা জায়গায় দাঁড়ালে আঘাতের ঝুঁকি কম থাকে।
ভবন, গাছ, ইলেকট্রিক পোল থেকে দূরে থাকা
এসব জিনিস পড়ে গেলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
যানবাহনে থাকলে নিরাপদ থামা
রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় ভূমিকম্প অনুভব করলে-
- হঠাৎ ব্রেক না কষে ধীরে থামুন
- সেতুর নিচে বা ফ্লাইওভারের পাশে থামবেন না
- গাড়ির ভেতরে থাকুন
ভূমিকম্পের পরে করণীয় (After Earthquake)
ভূমিকম্প শেষ হলেও বিপদ তখনো কাটেনি।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
আহতদের উদ্ধার
- হালকা আঘাত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিন
- গুরুতর আঘাত হলে উদ্ধারকর্মীদের ডাকুন
গ্যাস/ইলেকট্রিক লাইন চেক করা
- গ্যাস লিক হলে আশপাশে আগুন বা লাইট অন করবেন না
- বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ রাখুন
জরুরি নম্বরে যোগাযোগ
জরুরি সাহায্যের জন্য নিচে সরকারি নম্বর দেওয়া আছে।
ভবনে প্রবেশের আগে যা নিশ্চিত করবেন
ফাটল, ধসের ঝুঁকি
যদি দেয়াল বা সিলিং ফাটল দেখা যায়- সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থাকুন।
পানির লাইন, গ্যাস লিকেজ
- পানি নোংরা হলে তা সেদ্ধ করে পান করুন
- গন্ধ বা সিস্ শব্দ শুনলে গ্যাস লিক হতে পারে
ভূমিকম্পে বর্জনীয় কাজ (What NOT to Do)
ভূমিকম্পের সময় কিছু ভুলই বড় বিপদ ডেকে আনে।
১. লিফট ব্যবহার
লিফট আটকে গেলে উদ্ধার করতে সময় লাগে।
২. আগুন জ্বালানো
গ্যাস লিক থাকলে আগুন লাগতে পারে।।
৩. ভিড়ে দৌড়াদৌড়ি
এতে পা হড়কানো, পড়ে যাওয়া বা চাপা পড়ার আশঙ্কা থাকে।
শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
এই তিনটি গ্রুপ দ্রুত চলাফেরা করতে পারে না, তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
১. আলাদাভাবে করণীয়
- শিশুদের হাত ধরে রাখুন
- বয়স্কদের ধরে নিয়ে যান
- গর্ভবতী নারীদের আগে নিরাপদ স্থানে নিন
২. শিশুদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া
স্কুলে থাকলে শিক্ষকরা নিরাপদ পরিকল্পনা অনুসরণ করেন।
বাসায় থাকলে মজবুত টেবিল বা বিছানার পাশে রাখুন।
৩. সহায়তা নিশ্চিত করা
প্রয়োজনে প্রতিবেশীদের সাহায্য নিন।
বাংলাদেশে ভূমিকম্প হেল্পলাইন ও জরুরি নম্বর
জরুরি মুহূর্তে নিচের নম্বরগুলো কাজে লাগবে:
১. সরকারি হেল্পলাইন
999 – জাতীয় জরুরি সেবা
1090 – দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কল সেন্টার
২. ফায়ার সার্ভিস
ফায়ার সার্ভিস – 02-9555555
৩. হাসপাতাল তালিকা (ঢাকা)
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ: 02-55165088
- স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- ইউনাইটেড হাসপাতাল
- স্কয়ার হাসপাতাল
ভূমিকম্পের সময় করনীয় ( FAQs Section)
১. ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে জরুরি করণীয় কী?
“Drop, Cover & Hold”—এটাই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ নিয়ম।
২. ঘুমিয়ে থাকলে ভূমিকম্প অনুভব করলে কী করবেন?
- বিছানার বালিশ বা কাঁথা দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন
- বিছানার পাশের মজবুত জায়গায় লুটিয়ে পড়ুন
- আতঙ্কিত হয়ে দৌড় দেবেন না
৩. ভূমিকম্পে বাড়ি থেকে দৌড়ে বের হওয়া কি নিরাপদ?
না। এতে আঘাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। বরং ঘরের ভিতরেই নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন।
৪. ভূমিকম্প কতক্ষণ স্থায়ী হয়?
সাধারণত ১০–৩০ সেকেন্ড। খুব বড় ভূমিকম্প ১ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।
৫. বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি কতটা?
ভূতাত্ত্বিক অবস্থার কারণে ঝুঁকি রয়েছে, তবে সচেতনতা বাড়লে ক্ষতি কমানো যায়।
৬. ভূমিকম্পের সময় কি কি করণীয়?
- “Drop, Cover & Hold” নিয়ম মানুন
- টেবিল বা মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন
- জানালা, কাঁচ ও ভারী জিনিস থেকে দূরে থাকুন
- লিফট ব্যবহার করবেন না
- আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করবেন না
৭. ভূমিকম্প রোধের উপায় কী কী?
ভূমিকম্প রোধ করা যায় না। তবে ক্ষতি কমানো যায়-
- ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ
- সঠিক গ্যাস/ইলেকট্রিক লাইন ব্যবস্থাপনা
- সচেতনতা বৃদ্ধি
- ড্রিল, ট্রেনিং ও প্রস্তুতি
- সরকারি নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ
৮. ভূমিকম্পের পরে কী করণীয়?
- আহতদের সাহায্য করুন
- গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ লাইন চেক করুন
- ফাটা ভবনে প্রবেশ করবেন না
- সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন
- আফটারশকের জন্য সতর্ক থাকুন
৯. ভূমিকম্প হলে অ্যাপার্টমেন্টে করণীয়?
- লিফট ব্যবহার নয়
- সিঁড়ি নিরাপদ হলে সিঁড়ির পাশে অপেক্ষা করুন
- টেবিল/ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন
- বারান্দা বা জানালার কাছে যাবেন না
- ভূমিকম্প থামা পর্যন্ত ঘরের ভিতরে থাকুন
১০. ভূমিকম্পের কারণ কী?
ভূমিকম্পের মূল কারণ হলো টেকটোনিক প্লেটের চাপ, সরে যাওয়া, ফাটল বা ঘর্ষণ।
১১. ভূমিকম্পের ফলাফল কী কী?
- ভবন ভেঙে পড়া
- রাস্তা ফেটে যাওয়া
- গ্যাস লিক এবং আগুন লাগা
- সেতু/বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত
- মানুষের প্রাণহানি
- বিদ্যুৎ/যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া
১২. ভূমিকম্পের প্রধান কারণ কোনটি?
টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালন বা Plate Movement-এই কারণটিই সবচেয়ে প্রধান।
১৩. বাংলাদেশে ভূমিকম্প হওয়ার প্রধান কারণ কী?
বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি।
১৪. ভূমিকম্পের পর একজন সচেতন ব্যক্তির কী কী করণীয়?
- পরিবার ও প্রতিবেশীকে নিরাপদে বের হতে সহায়তা করা
- জরুরি নম্বরে খবর দেওয়া
- গ্যাস/বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করা
- আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া
- গুজব না ছড়ানো, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ
১৫. ভূমিকম্পের মাপ কীভাবে করা হয়?
ভূমিকম্পের মাপ করা হয়—
- রিকটার স্কেল (Magnitude)
- মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল (Mw)
- মডিফায়েড মারকেলি ইন্টেনসিটি স্কেল (MMI)
১৬. ভূমিকম্পের দেশ কোনটি
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয়—
- জাপান
- ইন্দোনেশিয়া
- নিউজিল্যান্ড
- চিলি
- নেপাল
এগুলোকে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ বলা হয়।
১৭. পাত সঞ্চালন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ কী?
টেকটোনিক প্লেটের সরে যাওয়া বা একটির নিচে আরেকটির ঢুকে যাওয়া (Subduction)—এটাই পাত সঞ্চালনজনিত ভূমিকম্পের প্রধান কারণ।
১৮. ভূমিকম্পের তরঙ্গ কত প্রকার এবং কী কী?
ভূমিকম্পের তরঙ্গ দুই প্রকার—
১। বডি ওয়েভ (Body Waves)
- P-Wave (Primary Wave)
- S-Wave (Secondary Wave)
২। সারফেস ওয়েভ (Surface Waves)
- Love Wave
- Rayleigh Wave
১৯. বাংলাদেশে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প হয়েছিল কত সালে?
বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পগুলো হলো:
- 1897 সালের গ্রেট আসাম ভূমিকম্প (8.7 মাত্রা)
- 1950 সালের ভূমিকম্প
- 1997 চট্টগ্রাম ভূমিকম্প
- 2004 বঙ্গোপসাগরীয় ভূমিকম্প
সবচেয়ে বড়টি 1897 সালে।
২০. ভূমিকম্প কেন হয় ইসলাম কি বলে?
ইসলামে ভূমিকম্পকে আল্লাহর কুদরত, পরীক্ষা বা সতর্কবার্তার অংশ বলা হয়।
মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে থাকার এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়।
২১. Earthquake কী?
Earthquake হলো পৃথিবীর ভেতরের শক্তি মুক্ত হওয়ার কারণে সৃষ্ট কম্পন বা কাঁপুনি। একে বাংলায় ভূমিকম্প বলা হয়।
২২. পানির কম্পন কী?
পানির কম্পন হলো পানির ওপর বা নিচে চাপ সৃষ্টি হলে যে ঢেউ তৈরি হয়।
সমুদ্রের তলায় ভূমিকম্প হলে বিশাল পানির কম্পন সৃষ্টি হয়—যা সুনামি হতে পারে।
২৩. ভূমিকম্পের ভূমিকা কী?
ভূমিকম্প পৃথিবীর ভৌগোলিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে, যেমন-
- নতুন পাহাড় তৈরি
- জমির উচ্চতা পরিবর্তন
- নদীর গতিপথ বদলানো
এই পরিবর্তনগুলো প্রকৃতির স্বাভাবিক অংশ।
২৪. ভূমিকম্পের মাত্রা কত?
রিকটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা সাধারণত
1 থেকে 10 পর্যন্ত মাপা হয়।
৫–৬ মাত্রার ভূমিকম্পে মাঝারি ক্ষতি হয়,
৭–৮ মাত্রায় ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
২৫. ভূমিকম্প পরিমাপ যন্ত্রের নাম কি?
ভূমিকম্প পরিমাপের যন্ত্র হলো-
সিসমোগ্রাফ (Seismograph)
এবং রেকর্ডিং চার্টকে বলে সিসমোগ্রাম (Seismogram)।
২৬. রিখটার স্কেলের মাত্রা কত?
রিক্টার স্কেলের সাধারণ মাত্রা-
- 2.0–3.0 : খুব হালকা
- 4.0–5.0 : অনুভূত হয়
- 5.0–6.0 : মাঝারি ক্ষতি
- 6.0–7.0 : বড় ক্ষতি
- 7.0–8.0 : ভয়াবহ ক্ষতি
- 8.0+ : বিপর্যয়কর
২৭. ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের সূত্র কে বের করেন?
রিকটার স্কেল উদ্ভাবন করেন-
চার্লস এফ. রিখটার (Charles F. Richter)
তিনি 1935 সালে এই সূত্র তৈরি করেন।