ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়েই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন গতি আনতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে জাপান সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
জাপানের প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন–এর আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। যা বাংলাদেশ–জাপান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্লু-ইকোনমি ও আধুনিক উন্নয়ন কৌশলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আকি আবে’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
রোববার সকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ড. ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহধর্মিণী আকি আবে।
পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা: তিন অগ্রাধিকার খাত
নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. ইউনূস তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার খাতের কথা উল্লেখ করেন-
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
নারী, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা।
প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল সংযোগ
বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি।
তরুণ উদ্যোক্তা ও ‘থ্রি জিরো’ বাস্তবায়ন
শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
জাপান সফরের মূল উদ্দেশ্য
ড. ইউনূস জাপানে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেবেন। সংস্থাটি সামুদ্রিক গবেষণা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত।
সফরকালে-
- সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনা
- ব্লু-ইকোনমি উন্নয়ন
- প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা
এই খাতে বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের এই সফর শুধু একটি কূটনৈতিক ভিজিট নয়, বরং একটি আধুনিক, টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের পথে আরেকটি দৃঢ় পদক্ষেপ।




