বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। মাঠের ওপেনার হিসেবে অসংখ্য রেকর্ড গড়া তামিম ইকবাল এবার বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির চেয়ারে বসে দেশের ক্রিকেট কাঠামোকে আমূল বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মিরপুরে আয়োজিত নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে একগুচ্ছ আধুনিক ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
একই সাথে তামিম ইকবাল নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন। তার এই ঘোষণা দেশের ক্রিকেট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় লিগে ‘দ্বিতীয় একাদশ’ ও নতুন টুর্নামেন্ট
তামিম ইকবালের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় চমক হলো কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো সাজানো। এখন থেকে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রতিটি বিভাগীয় দলের একটি করে ‘দ্বিতীয় একাদশ’ থাকবে। এই মৌসুম থেকেই বিভাগীয় দলের দ্বিতীয় একাদশগুলো তিন দিনের একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে।
তামিম মনে করেন, বর্তমানে কেবল জাতীয় দলের আশেপাশে থাকা ক্রিকেটাররাই বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। কিন্তু যারা দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগে খেলেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্ল্যাটফর্ম নেই। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটাররা সারা বছর খেলার সুযোগ পাবেন, যা জাতীয় দলের জন্য যোগ্য বিকল্প তৈরিতে সাহায্য করবে।
বিসিবি নির্বাচন ও বর্তমান কমিটি
সংবাদ সম্মেলনে তামিম বিসিবির নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দেন। তিনি জানান, আগামী ৩ মে অ্যাডহক কমিটির সভায় নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এর ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি নির্বাচিত বোর্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চান তিনি।
সাকিব ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তামিম
সাকিব আল হাসান এবং সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, “তারা তিনজনই একই অবস্থায় আছেন। তাই শুধু একজনকে নিয়ে আলাদা করে কথা বলা ঠিক হবে না।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ক্রিকেটীয় যেকোনো প্রয়োজনে বিসিবি তাদের পাশে থাকতে প্রস্তুত।
মিরপুর স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও সৌরবিদ্যুৎ
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের দর্শকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারিতে যেখানে কোনো ছাদ নেই, সেখানে ২৭ হাজার স্কয়ার ফুট জুড়ে ক্যানোপি বা ছাদ বসানো হবে। এছাড়া পুরো স্টেডিয়ামকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার প্রাথমিক চিন্তাভাবনা চলছে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ধারাবাহিকতা
অ্যাডহক কমিটির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তামিম জানান, যদিও এই কমিটি নির্বাচনের জন্য গঠিত, তবুও তারা কিছু ভালো কাজের সূচনা করে যেতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী নির্বাচিত বোর্ড এসে এই ভালো উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তামিম ইকবালের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং আধুনিক চিন্তাচেতনা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ক্রিকেট ভক্তরা মনে করছেন, তামিমের হাত ধরে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বিশ্বপর্যায়ে পৌঁছাবে।




