ইউটিউব ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। বিশ্বজুড়ে সাধারণ বা ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য ইউটিউব অবশেষে তাদের বহুল প্রত্যাশিত ‘পিকচার-ইন-পিকচার’ (PiP) মোড চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ফিচারের মাধ্যমে এখন থেকে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা বদলে যাবে।
এতদিন এই সুবিধাটি কেবল ইউটিউব প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য সংরক্ষিত ছিল, কিন্তু নতুন এই আপডেটের ফলে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস—উভয় ডিভাইসের সাধারণ ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
পিকচার-ইন-পিকচার (PiP) মোড কী?
পিকচার-ইন-পিকচার বা পিআইপি মোড হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ইউটিউব অ্যাপ থেকে বের হয়ে গেলেও ভিডিওটি বন্ধ হবে না। পরিবর্তে, ফোনের স্ক্রিনের এক কোণায় একটি ছোট ভাসমান উইন্ডোতে ভিডিওটি চলতে থাকবে। এতে ব্যবহারকারীরা ভিডিও দেখার পাশাপাশি অন্য অ্যাপে মেসেজ করা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা অন্যান্য কাজ অনায়াসেই করতে পারবেন।
যেভাবে কাজ করবে এই ফিচার
এই ফিচারটি ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। ইউটিউবে কোনো ভিডিও চলাকালীন স্ক্রিন সোয়াইপ আপ করলে বা হোম বাটন চাপলে ভিডিওটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ‘মিনি প্লেয়ারে’ রূপ নেবে। ব্যবহারকারী চাইলে এই মিনি প্লেয়ারটিকে স্ক্রিনের যেকোনো জায়গায় সরিয়ে রাখতে পারবেন।
নতুন ফিচারের সীমাবদ্ধতা
ইউটিউব ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা উন্মুক্ত করলেও কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বজায় রেখেছে। ইউটিউব জানিয়েছে:
- মিউজিক কনটেন্ট: অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও, আর্ট ট্র্যাক কিংবা শিশুদের গানের ক্ষেত্রে এই পিআইপি মোড কাজ করবে না।
- প্রিমিয়াম সুবিধা: মিউজিক ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ডে চালানোর সুবিধা এখনো কেবল প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্যই রাখা হয়েছে।
- ধাপে ধাপে রোলআউট: ফিচারটি বিশ্বব্যাপী ধীরে ধীরে চালু করা হচ্ছে, তাই সব ব্যবহারকারী একসাথে এটি নাও পেতে পারেন। খুব শীঘ্রই ধাপে ধাপে সবার ফোনে এই আপডেট পৌঁছে যাবে।
বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণ ও প্রতিক্রিয়া
শুরুতে এই ফিচারটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত পরিসরে চালু ছিল। এখন তা বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি।
ইউটিউবের এই নতুন আপডেট নিয়ে অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কিছু প্রযুক্তি বিশ্লেষকের মতে, অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস সিস্টেমে এই প্রযুক্তি আগে থেকেই বিদ্যমান থাকায় ইউটিউবের এই দীর্ঘসূত্রিতা অনভিপ্রেত ছিল।
ইউটিউবের এই নতুন ফিচারের ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আনন্দদায়ক হবে। বিশেষ করে যারা স্মার্টফোনে একসাথে একাধিক কাজ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই আপডেটটি বড় একটি স্বস্তির খবর।




