মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। চলার পথে বা শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ প্রতিনিয়ত ছোট-বড় নানা গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য ক্ষমার দরজা সব সময় খোলা রেখেছেন। বান্দা যখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তখন পরম দয়ালু আল্লাহ তার তওবা কবুল করে নেন।
কোরআন মাজিদে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন (তওবা) কর।’ (সুরা হুদ: ৩)
তবে তওবা মানে কেবল মুখে কয়েকবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলা নয়। খাঁটি নিয়তে তওবা কবুল হওয়ার জন্য ইসলামে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে, যা প্রতিটি মুসলমানের জেনে রাখা প্রয়োজন।
তওবা কবুল হওয়ার ১০টি জরুরি শর্ত
ইসলামি রাজাদের মতামত এবং কোরআন-হাদিসের আলোকে তওবা কবুল হওয়ার প্রধান ১০টি শর্ত নিচে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো:
১. অবিলম্বে গুনাহ ছেড়ে দেওয়া
তওবার প্রথম ধাপ হলো আপনি যে পাপে লিপ্ত আছেন, তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা। গুনাহ চালু রেখে মুখে ক্ষমা চাইলে সেই তওবা কবুল হয় না।
২. মন থেকে লজ্জিত হওয়া
যে অপরাধটি আপনি করে ফেলেছেন, তার জন্য ভেতর থেকে তীব্র অনুশোচনা থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অনুতপ্ত হওয়াই হলো তওবা।’ (ইবনে মাজাহ)
৩. ভবিষ্যতে পুনরায় পাপ না করার শক্ত সংকল্প
মনে মনে শক্ত ইচ্ছা থাকতে হবে যে, জীবনে আর কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে এই পাপে ফিরে যাবেন না। মানুষের দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু নিয়ত হতে হবে একবারে খাঁটি।
৪. মানুষের হক বা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া
পাপ যদি অন্য কোনো মানুষের পাওনা, সম্পত্তি বা সম্মানের সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সেই মানুষের পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে বা ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
৫. শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তওবা করা
লোকদেখানো বা সামাজিক শাস্তির ভয়ে পাপ ছাড়া তওবা নয়। তওবা হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তাআলার ভয়ে এবং তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে।
৬. খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করা
পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায় এমন অসৎ সঙ্গ ও পরিবেশ ত্যাগ করতে হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন অসৎ বন্ধুরা একে অপরের শত্রুতে পরিণত হবে।
৭. পাপের সব মাধ্যম থেকে দূরে থাকা
যেসব বস্তু, স্থান বা অ্যাপস আপনাকে গুনাহর দিকে প্ররোচিত করে, সেগুলো জীবন থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিন।
৮. দুই রাকাত নফল তওবার নামাজ পড়া
পাপ হয়ে গেলে সুন্দরভাবে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে রবের কাছে কাঁদো কাঁদো গলায় ক্ষমা চাওয়া একটি অন্যতম সুন্দর সুন্নত।
৯. তওবার পর ভালো কাজ বা নেক আমল বাড়ানো
নেক আমল মানুষের মনকে পবিত্র করে। কোরআনে এসেছে, যারা খাঁটি মনে তওবা করে সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের আগের পাপগুলোকে পুণ্যে বদলে দেন।
১০. শেষ সময় আসার আগেই তওবা করা
মৃত্যুর যন্ত্রণা শুরু হওয়ার আগে কিংবা পশ্চিমে সূর্য ওঠার আগে পর্যন্ত তওবার দরজা খোলা থাকে। তাই তওবা করতে দেরি করা যাবে না।
তওবা করার পর ভুল হলে কি নিরাশ হবেন?
যদি তওবা করার পর শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আবার কোনো ভুল হয়ে যায়, তবে কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের অত্যন্ত ভালোবাসেন। বান্দা যতবার ভুল করবে, ততবারই যদি সে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন।
তওবা হলো এক নতুন সূচনার নাম। তাই আগামীকালের ভরসায় বসে না থেকে, আজই নিজের সমস্ত ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চেয়ে নিন।




