Thursday, September 10, 2026

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাতক্ষীরায় শিশু ও যুবকের উদ্যোগে বৃক্ষ ও বীজ রোপণ

বহুল পঠিত

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং একটি সুশোভিত, সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সাতক্ষীরায় পরিচালিত হলো এক অনন্য ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। পরিবেশ রক্ষায় শিশু ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার এই মহতী উদ্যোগে পুরো জেলা জুড়েই পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব।

Terre des Hommes (Tdh)-এর সহযোগিতায় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘SPiRiT-CALL’ প্রকল্পের আওতায় এ বিশাল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫,৪০০ জন শিশু ও যুবকের সক্রিয় অংশগ্রহণে মোট ৮,৭৫৩টি ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা এবং ১৬,৮০০টি বাবলা, খেজুর, তালসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির বীজ রোপণ করা হয়েছে।

৬৭টি গ্রামে বিস্তৃত বিশাল এই সবুজ উদ্যোগ

সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি এবং শ্যামনগর উপজেলার মোট ১৫টি ইউনিয়নের ৬৭টি গ্রামে এই পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে।

২০২৫ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুন ও সেপ্টেম্বর মাসের বিশেষ দিনগুলোসহ ০৪ জুন ও ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ব্যাপকভাবে এই বৃক্ষ ও বীজ রোপণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হয়। উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় এই জেলাটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তরুণদের এই ব্যাপক উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় সমর্থন

শিশু ও তরুণদের এই অনুপ্রেরণাদায়ক উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা ও সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ নাগরিকরা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ও সহযোগী হিসেবে ছিলেন:

  • বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
  • মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা
  • স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ
  • শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় জনগণ

সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি শিশু ও যুবদের পরিবেশ রক্ষায় আরও বেশি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছে।

পরিবেশ রক্ষায় শুধু গাছ লাগানো নয়, পরিচর্যাতেও দৃষ্টান্ত

SPiRiT-CALL প্রকল্পের আওতায় যুক্ত শিশু ও যুবরা কেবল গাছ বা বীজ লাগিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেনি। রোপণ করা গাছের সুরক্ষা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং গাছগুলোর শতভাগ বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে তারা নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তারা গাছ লাগানোর জন্য বেছে নিয়েছে:

  • নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও খালি জায়গা
  • রাস্তা ও প্রধান মহাসড়কের দুই পাশ
  • নদীর বেড়িবাঁধ এলাকা এবং নদী ও খালের তীরবর্তী অঞ্চল
  • বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ

গাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিশু-যুবরা সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে নেট, বাঁশ ও খাঁচা সংগ্রহ করে প্রতিটি চারার চারপাশে সুরক্ষাবেষ্টনী তৈরি করেছে। একই সাথে নিয়মিত গাছে পানি দেওয়া এবং পরিচর্যার জন্য তারা নিজেরা দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে।

স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থার প্রাধান্য ও সামাজিক সচেতনতা

সাতক্ষীরার লোনাপানি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থার সাথে মানানসই বৃক্ষ ও বীজ নির্বাচন করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবলা, খেজুর ও তালের বীজ রোপণের ফলে নদীর বাঁধ রক্ষা এবং বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এগুলো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

এই উদ্যোগের ফলে শিশু ও যুবদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের তাগিদ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন উপলব্ধি করতে পারছে যে গাছ লাগানোর মতোই গাছের সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যা করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।


পরিবেশ রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের এই অসাধারণ ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ কেবল গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫,৪০০ শিশু ও যুবকের এই সবুজ বিপ্লব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, দুর্যোগ-সহনশীল ও সবুজে ঘেরা সুন্দর সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখবে।

আরো পড়ুন

হাজারো রোগীর প্রথম পছন্দ: অভিজ্ঞ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডক্টর এ কে এম আহসান হাবিব

যেকোনো শারীরিক জটিলতা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন একজন নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ। রাজধানী ঢাকার নাগরিক স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়মিত রোগী...

ডিজিটাল ব্যাংক চালু হচ্ছে দেশে: ৮টি প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে চূড়ান্ত লাইসেন্স

বাংলাদেশে আধুনিক আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে তৈরি হতে যাচ্ছে এক নতুন মাইলফলক। খুব শীঘ্রই দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে শাখা ছাড়া সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল...

লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশের জিয়া বিন রাসেল

পূর্ব লন্ডনের একটি ব্যস্ত সড়ক। একসময় যেখানে রাত গভীর হলেই বসত মদ ও অনৈতিক আড্ডা, আজ সেখানে প্রতিধ্বনিত হয় পবিত্র আজান ও সুরেলী কণ্ঠে...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ