আধুনিক জীবনের নানামুখী ব্যস্ততা ও দৈনন্দিন মানসিক চাপের যুগে মাঝেমধ্যে মন মেজাজ খারাপ হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে খেয়াল করে দেখেছেন কি, ইদানীং আপনার প্রায়ই অহেতুক মেজাজ খিটখিটে থাকছে? সারাক্ষণ এমন বিরক্তি ও খিটখিটে মেজাজ ধরে রাখা কেবল আপনার নিজের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, বরং চারপাশের প্রিয়জন ও সহকর্মীদের জন্যও মোটেই ভালো কিছু নয়।
আপনিও যদি এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যান, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট জেফ্রি মেল্টজারের পরামর্শগুলো মেনে দেখতে পারেন। তাঁর বাতলে দেওয়া চারটি সহজ কিন্তু জাদুকরী উপায় নিমেষেই আপনার মেজাজ ফুরফুরে করে তুলতে পারে।
১. মেজাজ খারাপ হওয়ার আসল কারণ চিহ্নিত করুন
মন খারাপ বা অতিরিক্ত খিটখিটে ভাব দূর করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নিজের ভেতরের আবেগ ও ভাবনাগুলোকে অনুধাবন করা। থেরাপিস্ট জেফ্রি মেল্টজারের মতে, মেজাজ খারাপ হলে প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করুন এবং ভেতরের অনুভূতির স্বীকৃতি দিন।
উদাহরণস্বরূপ, নিজেকে স্পষ্ট করে বলুন ‘আজ আমার নিজেকে খুব ক্লান্ত লাগছে’ অথবা ‘আমার মনে হচ্ছে আজ সবাইকেই আমার অহেতুক বিরক্তিকর লাগছে।’ এভাবে নিজের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাকে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করতে পারলে কাছের মানুষদের সাথে বিনা কারণে বাজে ব্যবহারে জড়িয়ে পড়া বা ঝগড়া করা থেকে নিজেকে সহজেই বিরত রাখা যায়।
২. পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রত্যক্ষ কারণ। ঘুম কম হওয়ার এই ক্ষতিকর অভ্যাসটি কেবল ছোটদের নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।
থেরাপিস্টদের মতে, মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে গভীর রাত পর্যন্ত স্মার্টফোনে স্ক্রোল করা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অহেতুক সময় নষ্ট করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও নিশ্চিন্ত ঘুম নিশ্চিত করতে পারলে সারাদিন মন ও মেজাজ প্রফুল্ল রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।
৩. মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন
হুট করে খুব বেশি রাগ উঠে গেলে বা প্রচণ্ড বিরক্তি বোধ হলে সোজা বেসিনে গিয়ে মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, মুখে ও চোখে ঠান্ডা স্পর্শ দিলে তা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং শরীরের ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মেকানিজমকে শিথিল করে।
হুট করে মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিলে শারীরিক অস্বস্তির সাথে সাথে মন ও শরীর দুটোই নিমিষে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এটি চোখের পলকে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে আনতে সত্যি জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
৪. সময়মতো ও সুষম খাবার খান
ঘুমের ঘাটতির পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকাও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হ্যাংরি’ (Hangry) অনুভূতি। সারা দিন ঠিকমতো খাবার না খেয়ে কিংবা পুষ্টিকর খাবারের বদলে কেবল অতিরিক্ত মিষ্টি ও জাঙ্ক ফুড খেয়ে পেট ভরালে মেজাজের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তাই কারণে-অকারণে চারপাশে থাকা মানুষদের ওপর চড়াও হওয়ার আগে নিজেকে ঠাণ্ডা মাথায় প্রশ্ন করুন আজ ঠিকমতো সময়মতো দুপুরের খাবার বা পুষ্টিকর কোনো নাশতা খাওয়া হয়েছে তো? শরীর সঠিক জ্বালানি পেলে মেজাজও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
ইতিবাচক বার্তা
পেশাগত জীবন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে দিনশেষে মানসিক প্রশান্তি ধরে রাখাটা এক ধরণের শিল্প। নিজের খিটখিটে মেজাজের পেছনে থাকা ক্ষুধা, ঘুমের ঘাটতি কিংবা মানসিক ক্লান্তি চিহ্নিত করতে পারলেই সমস্যার অর্ধেক সমাধান হয়ে যায়। আজ থেকেই এই ছোট ছোট ৪টি অভ্যাস আপনার জীবনে প্রয়োগ করুন; দেখবেন জীবনের ছোট ছোট মানসিক চাপ সামলানো কত সহজ হয়ে গেছে এবং মন সবসময় ফুরফুরে থাকছে।




