এমিরেটসে রুদ্ধশ্বাস লড়াই, নায়কের ভূমিকায় গোলরক্ষক
এমিরেটস স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে যেন এক মুহূর্তেই থমকে গিয়েছিল আর্সেনাল সমর্থকদের হৃদস্পন্দন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই নায়ক হয়ে আবির্ভূত হলেন দাভিদ রায়া। তার এক অবিশ্বাস্য সেভেই শেষ পর্যন্ত ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওনকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল আর্সেনাল।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার তো সরাসরি বলে দিলেন-
“এটা গোটা মৌসুমের সেরা সেভগুলোর একটি।”
প্রথমার্ধে ওডেগোর, দ্বিতীয়ার্ধে নাটক
ম্যাচের প্রথমার্ধেই আধিপত্য দেখায় আর্সেনাল। মার্টিন ওডেগোরের নিখুঁত ফিনিশে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির পর ম্যাচের শুরুতেই ব্রাইটনের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।
তবে ব্রাইটন হাল ছাড়েনি।
৬৪তম মিনিটে ইয়াসিন আইয়ারি গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন। ধীরে ধীরে আর্সেনালের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে সফরকারীরা।
৭৬তম মিনিট: যেখানে বদলে যেতে পারত ম্যাচের গল্প
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৭৬তম মিনিটে। বদলি খেলোয়াড় ইয়ানকুবা মিনতেহ (বা ইয়ানকুবা) বক্সের ভেতর বাঁ পায়ে জোরাল শট নেন। বল ছুটে যাচ্ছিল দূরের পোস্টের ওপরের কোণায়- গোল প্রায় নিশ্চিত!
ঠিক তখনই অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় শরীর শূন্যে ভাসিয়ে এক হাতে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান দাভিদ রায়া। এক সেকেন্ডের সেই প্রতিক্রিয়াই বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।
গ্যালারি যেন একসাথে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।
আর্তেতার চোখে আদর্শ পারফরম্যান্স
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসে কথা বলতে গিয়ে রায়ার প্রশংসায় ভাসান আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা—
“এটা ছিল অসাধারণ একটি সেভ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমাদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্সই আমরা চাই।”
এই মন্তব্যেই স্পষ্ট- শিরোপা লড়াইয়ে এমন মুহূর্তই পার্থক্য গড়ে দেয়।
শীর্ষে আর্সেনাল, শিরোপার বার্তা
এই জয়ের ফলে
- ১৮ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৩ ড্রয়ে আর্সেনালের পয়েন্ট ৪২
- ৪০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ম্যানচেস্টার সিটি
শুধু তিন পয়েন্ট নয়, এই জয় আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস ও শিরোপা–আকাঙ্ক্ষার বড় বার্তা দিয়ে গেল।
এমিরেটসে এই রাত মনে করিয়ে দিল-
শিরোপা জিততে শুধু গোলদাতাই নয়, কখনো কখনো একজন গোলরক্ষকই হয়ে ওঠেন পুরো ম্যাচের নায়ক।
সূত্রঃ বিডিনিউস ২৪