বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জয়গান: নেপালে ‘এসডিজি চ্যাম্পিয়ন প্রাইজ’ জিতলেন আসাদুজ্জামান

বহুল পঠিত

বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবন ও যুব নেতৃত্বের মঞ্চে ফের বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলেন ২১ বছর বয়সী তরুণ স্বপ্নদ্রষ্টা মো: আসাদুজ্জামান আপেল। নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে মর্যাদাপূর্ণ ও পূর্ণ-অর্থায়িত ‘এসডিজি চ্যাম্পিয়ন প্রাইজ’ (SDG Champion Prize) প্রদান করা হয়েছে।

গাইবান্ধার এই কৃতি সন্তানের যুগান্তকারী মেগা-উদ্যোগ “AI & Robotics for Human Rights and Self-Reliant Bangladesh”-এর জন্য এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।

কেন এই স্বীকৃতি?

আসাদুজ্জামান আপেলের প্রকল্পটি নিছক কোনো সাধারণ উদ্যোগ নয়; এটি একটি ভবিষ্যৎমুখী জাতীয় উন্নয়ন কাঠামো। তার এই প্রজেক্ট জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDGs) মধ্যে ১৬টি লক্ষ্যমাত্রা (SDGs 1-13, 15-17) সরাসরি বাস্তবায়নে সক্ষম।

দারিদ্র্য বিমোচন, জেন্ডার সমতা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছেন, তা আন্তর্জাতিক বিচারকদের মুগ্ধ করেছে।

উদ্ভাবন ও ‘টেন জিরোস’ ডকট্রিন

তরুণ এই উদ্যোক্তা ও INROLL-MENTOR PUBLIC LIMITED-এর প্রতিষ্ঠাতা সিইও আপেল কেবল প্রযুক্তি নিয়েই কাজ করেননি, তিনি সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি নতুন দার্শনিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন, যার নাম “Ten Zeros Doctrine”। এটি দশটি ‘শূন্য’ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে:

  • শূন্য ক্ষতি (Zero Harm)
  • শূন্য ঝুঁকি (Zero Risk)
  • শূন্য অপচয় (Zero Waste)
  • শূন্য দুর্নীতি (Zero Corruption)
  • শূন্য সামাজিক সমস্যা ও পরনির্ভরশীলতা ইত্যাদি।

নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘থ্রি জিরোস’ ভিশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তিনি তার নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সাজিয়েছেন।

সাংবিধানিক অধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ

মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা আপেল তার প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের সংবিধানকে। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (মৌলিক প্রয়োজন), ২৭ (সমতা) এবং ৩৯ (বাক-স্বাধীনতা)-এর মতো অধিকারগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব। তার লক্ষ্য—একটি পদ্ধতিগত দুর্নীতিমুক্ত, নারীবান্ধব এবং সাইবার-সুরক্ষিত বাংলাদেশ।

মেধা ও পরিশ্রমের সংমিশ্রণ

বর্তমানে ভারতের RIMT ইউনিভার্সিটিতে বিএ-এলএলবি (BA-LLB) অধ্যয়নরত আপেল নিজের জমানো অর্থ ব্যয় করে ১২টিরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে ফিল্ড অবজারভেশন করেছেন। শিক্ষার্থী বন্ধুদের নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি দক্ষ ও পেশাদার টিম। গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) মাধ্যমে তিনি এমন একটি করপোরেট কাঠামো তৈরি করেছেন যা G20 এবং OECD-এর নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ভিশন ২০৩০: স্বনির্ভরতার স্বপ্ন

আসাদুজ্জামান আপেল ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে দেখার স্বপ্ন দেখেন। তার লেখা বই “From Student to World” এবং “The Zero-Unemployment Axiom”-এ তিনি বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

নেপালের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের এই তরুণ জয়ের যে পতাকা উড়িয়েছেন, তা দেশের লক্ষ কোটি তরুণের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: UNP100 News

আরো পড়ুন

চাকরি ছেড়ে কৃষিতে সাফল্য: মাল্টাবাগান আর কেঁচো সারে স্বপ্ন গড়লেন নাঈম হুদা

চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই চেনা গণ্ডি পেরিয়ে কৃষিকেই নিজের স্বপ্নের ঠিকানা বানিয়েছেন দিনাজপুরের তরুণ নাঈম হুদা। আজ তাঁর হাত ধরেই বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে হলুদ মাল্টায় ভরা বাগান আর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া কেঁচো সারের খামার।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ