শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

বেগম জিয়ার কফিন কাঁধে তুলে নিলেন আজহারী, আবেগে স্তব্ধ জনসমুদ্র

বহুল পঠিত

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা শেষে এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো জাতি। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষ হওয়ার পর বেগম জিয়ার কফিন কাঁধে তুলে নেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে মানুষের ঢল নেমে আসে খামারবাড়ি, ফার্মগেট ও আসাদগেট পর্যন্ত। শোক আর শ্রদ্ধায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে নীরব ও ভারাক্রান্ত।

আবেগঘন মুহূর্তে আজহারীর উপস্থিতি

জানাজা শেষে কফিন কাঁধে তোলার সময় উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগ ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ড. মিজানুর রহমান আজহারীর এই উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ জানাজায় নতুন মাত্রা যোগ করে। অনেকেই এ দৃশ্যকে সম্মান, দায়িত্ব ও নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

রাষ্ট্র ও সমাজের বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণ

জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সরকারের একাধিক উপদেষ্টা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মামুনুল হক, শায়খ আহমাদুল্লাহসহ দেশের খ্যাতনামা আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা।

শেষ বিদায়ের পথে বেগম জিয়া

জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটে এক ঐতিহাসিক ও শোকাবহ বিদায়ের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ