শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

বিয়ের খুতবা: ইসলামী রীতিতে বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ খুতবা | biyer khutba

বহুল পঠিত

বিয়ের খুতবা কি?

ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় বিয়ে করা প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ। বিয়ের খুতবা (muslim biyer khutba) হলো বিবাহের সময় শরিয়াহ মোতাবেক যে খুতবা পড়া হয়। বিয়ের খুতবা পড়ার নিয়ম প্রত্যেক মুসলিমের জানা জরুরী। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। যা নবদম্পতিকে ইসলামী জীবনযাত্রা অনুসরণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে।

বিয়ের খুতবা পড়ার নিয়ম

বিয়ের খুতবা পাঠ করার নির্দিষ্ট কিছু আদব ও নিয়ম রয়েছে:

১. সময়: বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ ইজাব ও কবুলের ঠিক আগে খুতবা পাঠ করতে হয়।
২. পাঠকারী: সাধারণত যিনি বিয়ে পড়ান (কাজি বা আলেম), তিনি এই খুতবা পাঠ করেন। তবে বর নিজেও এই খুতবা পাঠ করতে পারেন।
৩. শ্রবণের আদব: খুতবা চলাকালীন বর-কনে এবং উপস্থিত সকলের চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব।
৪. বিষয়বস্তু: এতে আল্লাহর প্রশংসা, রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ এবং তাকওয়া (আল্লাহভীতি) সংক্রান্ত কুরআনের তিনটি আয়াত পাঠ করা হয়।

বিয়ের খুতবা আরবি

বিয়ের খুতবা আরবী ভাষায় পড়া হয়, এবং এটি মূলত ইসলামী রীতির একটি অংশ। আরবি খুতবার অংশ দেয়া হলো:-

‏ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا‏ اتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ‏‏

‏ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ‏

‏ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا ٧٠ يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا٧١

সূত্র: বাংলাহাদিসবিডি সুনান আবূ দাউদ- ২১১৫

২য় আরেকটি হাদিসে এসেছে:

 إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا فَمَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ حَقَّ تُقٰتِہٖ وَلَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَاَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ

يٰۤـاَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّكُمُ الَّذِىۡ خَلَقَكُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَةٍ وَّخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالًا كَثِيۡرًا وَّنِسَآءً​ ۚ وَاتَّقُوا اللّٰهَ الَّذِىۡ تَسَآءَلُوۡنَ بِهٖ وَالۡاَرۡحَامَ​ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيۡبًا‏

يٰۤـاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَقُوۡلُوۡا قَوۡلًا سَدِيۡدًا ۙ‏ ٧٠ يُّصۡلِحۡ لَـكُمۡ اَعۡمَالَـكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَـكُمۡ ذُنُوۡبَكُمۡؕ وَمَنۡ يُّطِعِ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيۡمًا‏

সূত্র: বাংলাহাদিসবিডি সুনান আত তিরমিজী – ১১০৫ 

বিয়ের খুতবা বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল হামদা-লিল্লাহ, নাস্তাঈনুহু অ নাস্তাগফিরুহু অনাউযু বিহি মিন শুরুরি আনফুসিনা। মাই ইয়াহদিল্লাহু ফালা মুদিল্লালাহু অ মাইইয়ুদিল্লু ফালা হাদিয়া-লাহ। ওয়াশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ও রসুলুহু।

ইয়া আইইয়ুহাল্লাযীনা আমানুত্তাকুল্লাহাল্লাযী তাসা-‘আলূনা বিহি ওয়াল আরহামা, ইননাল্লাহা কানা ‘আলাইকুম রকীবা।

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানুত্তাকুল্লহা হাক্কা তুকাতিহি ওলা তামুতুন্না ইল্লা ওয়াংতুম মুসলিমুন। ইয়া আযুহাল্লাযীনা আমানুত্তাকুল্লাহা ও কুলু কওলান সাদীদা। ইউসলিহ লাকুম আ’মালাকুম ও ইয়াগফিরু লাকুম জুনূবাকুম। ওয়ামন ইয়ুতিউ’ল্লাহা অ রাসুলাহু ফাকদ ফাঝা ফাওঝান আযীমা।

দ্বিতীয়টি: বিবাহের খুতবা বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল হামদা-লিল্লা-হ, নাসতা’ইনুহু ওয়া নাস্তাগফিরুহু ওয়া না’উযুবিল্লা-হি মিন শুরুরি আনফুসিনা- ওসায়্যিআ-তি আ’মা-লিনা-। ফামাইয়াহদিহিল্লা-হু ফালা- মুদিল্লা লাহ, ওয়া মাই ইয়ুদলিল ফালা- হা-দিআ লাহ। আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহু ওয়া রাসূলুহ।

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকুল্লা-হা হাক্কাতুকা-তিহী ওয়ালা-তামূতুন্না ইল্লা-ওয়া আনতুম মুছলিমূন

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুত্তাকূরাব্বাকুমুল্লাযীখালাকাকুম মিন নাফছিওঁ ওয়া-হিদাতিওঁ ওয়া খালাকা মিনহা-ঝাওজাহা-ওয়াবাছছা মিনহুমা-রিজা-লান কাছীরাওঁ ওয়ানিছাআওঁ ওয়াত্তাকুল্লাহাল্লাযী তাছাআলূনা বিহী ওয়াল আরহা-মা ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলাইকুম রাকীবা।

ইয়া- আয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাক্বুল্লা-হা ওয়া ক্বুলু ক্বাওলান সাদিদা। ইউস্বলিহ লাকুম আ’মালাকুম ওয়া ইয়াগফিরলাকুম যুনুবাকুম। ওয়ামাই ইউত্বি’ইল্লা-হা ওয়া রাসুলাহু ফাক্বদ ফা-ঝা ফাওঝান ‘আযীমা-

বিবাহের খুতবা বাংলা অনুবাদ

সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য। আমরা শুধু তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, তাঁর নিকটই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর কাছে আশ্রয় চাই আমাদের অন্তরের মন্দ প্ররোচনা থেকে। আল্লাহ যাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, তাকে বিপথে নেয়ার কেউ নেই; আর যাকে আল্লাহ গোমরাহ্ করেন, তাকে পথ দেখানোর ক্ষমতা কারো নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে প্রার্থনা কর এবং সতর্ক থাক আত্মীয়তার রক্ষা সম্পর্ক । নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সর্বদা তীক্ষ্ণদৃষ্টি রাখেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যথোপযুক্তভাবে ভয় করার মত। এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করিও না।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্য ও সঠিক কথা বলো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের কাজগুলোকে সংশোধন করে দেবেন, তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহান সফলতার অধিকারী হবে।

২য়টির অনুবাদ: Bibaher khutba bangla

সকল প্রশংসা শুধু আল্লাহ তা’আলার জন্য। আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, এবং তাঁর নিকটই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই আমাদের অন্তরের কু-প্রবৃত্তি এবং আমাদের মন্দ কর্মকাণ্ড থেকে। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে বিপথে নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার শক্তিও কারো নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোনো ইলাহ, কোনো উপাস্য নেই। এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে যথাযথভাবে ভয় করো, এবং কখনোই মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আলে-ইমরান—১০২)

হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করো— যিনি তোমাদের সবাইকে একটিমাত্র প্রাণ বা নফস থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন। এরপর তাদের দুজনের মাধ্যমে অসংখ্য পুরুষ ও নারীকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করেছেন। তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো, এবং সতর্ক হও- আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের সকল কাজ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। (সূরা নিসা—১)

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো এবং সর্বদা সত্য ও সঠিক কথা বলো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের কাজগুলোকে সংশোধন করবেন, তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে নিঃসন্দেহে বিরাট সফলতা লাভ করবে। (সূরা আহযাব ৭০–৭১)

বিয়ের খুতবা হাদিস

ইসলামী শরীয়তের পরিপূরক হিসেবে বিয়ের খুতবায় কিছু হাদিস অন্তর্ভুক্ত করা হয় যা নবদম্পতিকে জীবনযাত্রা সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
হাদিস:
বিয়ে না করা বা চিরকুমার থাকা নিষিদ্ধ

সুনান আত তিরমিজী ১০৮২: সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে চিরকুমার বা অবিবাহিত অবস্থায় জীবন কাটাতে নিষেধ করেছেন। ইসলামে বিবাহ শুধু একটি সামাজিক বিধান নয়, বরং সুন্নাহর অনুসরণ এবং দীনকে পরিপূর্ণ করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যাইদ ইবনু আখযাম (রাহঃ)-এর বর্ণনায় আরও এসেছে যে, এ আয়াতটি কাতাদাহ (রাহঃ) তিলাওয়াত করেন: “আমরা তোমার পূর্বে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি, আর তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান দান করেছি।” (সূরা রা’দ: ৩৮)

আবু দাউদ ২০৪৬: আহমদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ)… মা‘কাল ইবন ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে।

তিনি বলেন- এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন সুন্দরী ও ভালো পরিবারে জন্ম নেওয়া এক মহিলার ব্যাপারে জানতে পেরেছি, তবে সে সন্তান জন্ম দিতে পারে না। আমি কি তাকে বিয়ে করব?” নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তরে বললেন, “না।” লোকটি দ্বিতীয়বার এসে একই প্রশ্ন করলে, নবীজী আবারও তাকে নিষেধ করলেন।
তৃতীয়বার সে যখন একই প্রশ্ন করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- “তোমরা এমন নারীদের সাথে বিবাহ করো, যারা স্বামীকে ভালোবাসে এবং সন্তান জন্মদানে সক্ষম। কারণ কিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যাধিক্যের মাধ্যমে আমি পূর্ববর্তী উম্মতের ওপর গর্ব প্রকাশ করব।”

এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, ইসলামে বিয়ের উদ্দেশ্য শুধু দাম্পত্য জীবন নয়; বরং উত্তম পরিবার গঠন, সন্তান জন্মদান, উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সমাজের কল্যাণ সাধনও বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিয়ের মূল আমল গুলো

বিয়েতে মোট ছয়টি মূল আমল রয়েছে

দুটি ফরজ (অবশ্যক কাজ):

১. ইজাব ও কবুল

  • পাত্র ও পাত্রীর পক্ষ থেকে বিয়েতে সম্মতি প্রদান করা।
  • তা এক মজলিসে হওয়া আবশ্যক।

২. দুইজন সাক্ষী

  • কমপক্ষে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব–কবুল সম্পন্ন করতে হবে।

একটি ওয়াজিব:

৩. বিয়ের মোহর

  • পাত্র কর্তৃক পাত্রীর জন্য নির্ধারিত অধিকার।
  • মোহর নির্ধারণ করা ওয়াজিব।

তিনটি সুন্নত:

৪. বিয়ের খুতবা

  • নিকাহের সময় খুতবা পাঠ করা সুন্নত।

৫. খেজুর বিলানো

  • বিয়ের আনন্দে খেজুর বা মিষ্টান্ন বিলানো সুন্নত।

৬. দাওয়াতে ওলিমা

  • ইসলামে দাম্পত্য জীবনের সূচনায় বিয়ে উপলক্ষে ওলিমাহ করা একজন পুরুষের (বরের) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মেয়ের বাবার জন্য নয়।

এর বাইরে বিয়ের জন্য অতিরিক্ত কিছু শর্ত বা আমল শরীয়তে নেই। – মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ কুরাইশী (হাফিযাহুল্লাহ)

বিয়ের খুতবায় পড়া কুরআনের আয়াতসমূহ

সূরা আলে ইমরান ১০২

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ حَقَّ تُقٰتِہٖ وَلَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَاَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে সেইভাবে ভয় কর, যেভাবে তাকে ভয় করা উচিত। তোমাদের মৃত্যু (না আসে, বরং) এই অবস্থায়ই যেন আসে যে, তোমরা মুসলিম।

সূরা আন-নিসা ০১


یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّخَلَقَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَبَثَّ مِنۡہُمَا رِجَالًا کَثِیۡرًا وَّنِسَآءً ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡ تَسَآءَلُوۡنَ بِہٖ وَالۡاَرۡحَامَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلَیۡکُمۡ رَقِیۡبًا ١

অর্থ: হে লোক সকল! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি হতে এবং তারই থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী (সমগ্র পৃথিবীতে) ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার অছিলা দিয়ে তোমরা একে অন্যের কাছে (নিজেদের হক) চেয়ে থাক। এবং আত্মীয়দের (অধিকার ছিন্ন করা) কে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। 

সূরা আল-আহযাব ৭০-৭১

يٰۤـاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَقُوۡلُوۡا قَوۡلًا سَدِيۡدًا ۙ‏ ٧٠ يُّصۡلِحۡ لَـكُمۡ اَعۡمَالَـكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَـكُمۡ ذُنُوۡبَكُمۡؕ وَمَنۡ يُّطِعِ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيۡمًا‏ ٧١

৭০। হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সরল সঠিক কথা বল। ৭১। আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের আমলগুলোকে ত্রুটিমুক্ত করবেন আর তোমাদের পাপগুলোকে ক্ষমা করে দিবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে সে সাফল্য লাভ করে- মহাসাফল্য।

খুতবার শেষের আমল

এই আয়াতগুলো পাঠ করার পর বিয়ে পড়ানো ব্যক্তি (কাজি/ইমাম) উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে কিছু নসিহত করতে পারেন এবং এরপর মূল বিয়ের কার্যক্রম (ইজাব ও কবুল) সম্পন্ন করবেন।

বিয়ের পর বরের জন্য দু’আ: বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর বর-কনের জন্য এই দু’আটি পড়া সুন্নাহ:

بَارَكَ اللهُ لَكُمَا وَبَارَكَ عَلَيْكُمَا وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِيْ خَيْرٍ-

“বারাকাল্লাহু লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা ওয়া জামা’আ বাইনাকুমা ফি খাইর।”
অর্থ: আল্লাহ তোমার জন্য বরকত দান করুন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং কল্যাণের সাথে তোমাদের উভয়কে একত্রিত করুন। ইবনু মাজাহ হা/১৯০৫;

বিবাহের পর স্ত্রীর জন্য স্বামীর দো‘আ 

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ-

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খায়রাহা ওয়া খায়রা মা জাবালতাহা ‘আলাইহি, ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা জাবালতাহা ‘আলাইহি।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট তার মঙ্গল চাই এবং তার সেই কল্যাণময় স্বভাব প্রার্থনা করি, যার উপর আপনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই তার অনিষ্ট হ’তে এবং সেই মন্দ স্বভাবের অনিষ্ট হ’তে, যা দিয়ে আপনি তাকে সৃষ্টি করেছেন’। এই সময় স্ত্রীর কপালের চুল ধরে স্বামী উক্ত বরকতের দো‘আটি করবে। আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৪৪৬, 

বিয়ের খুতবার গুরুত্ব

বিয়ের সময় খুতবা পাঠ করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। নিকাহের মতো পবিত্র ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের শুরুতে আল্লাহর স্মরণ, তাকওয়া, নসিহত ও দোয়া প্রদান করা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশিত পথ। তাই মুসলিম সমাজে বিয়ের খুতবার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

১. নবীজীর স্থাপিত সুন্দর সুন্নত

রাসূলুল্লাহ ﷺ অধিকাংশ নিকাহে খুতবা পাঠ করেছেন এবং অন্যদেরও এটি পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য আলেমরা একে “সুন্নতে মুস্তাহাব্বা” বা “জোরালো সুন্নত” বলেছেন।

২. খুতবা নিকাহকে ইবাদতের রূপ দেয়

বিয়ের খুতবার মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা, তাওহীদ, তাকওয়ার নির্দেশনা, কুরআনের আয়াত এবং দোয়া থাকে।
এগুলো নিকাহকে শুধু সামাজিক চুক্তি নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা একটি ইবাদত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

৩. দাম্পত্য জীবনের যোগ্যতা অর্জনে উপদেশ

খুতবায় সাধারণত তিনটি আয়াত পাঠ করা হয়, যেগুলো তাকওয়া, ন্যায়পরায়ণতা ও দাম্পত্য জীবনে দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়।
এর মাধ্যমে নবদম্পতি জীবনের শুরুতেই সঠিক ইসলামি মনোভাব পায়।

৪. গোনাহ ও কুসংস্কার থেকে দূরে রাখে

বিয়ের অনুষ্ঠানে অনর্থক হাসাহাসি, অপচয়, গান-বাজনা বা অশালীনতা যেন না হয়- তার একটি বড় কারণ হলো খুতবার বরকত।
খুতবা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, এটি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া একটি পবিত্র আমল।

৫. বরকত ও রহমত নাজিলের মাধ্যম

খুতবার মধ্যে আল্লাহর নাম, কুরআনের আয়াত ও দোয়া থাকে- যা আল্লাহর রহমত ও বরকতকে টেনে আনে।
দাম্পত্য জীবনের শুরুতে এ বরকত অত্যন্ত মূল্যবান।

বিয়ের খুতবা পাঠের ফজিলত

বিয়ের সময় খুতবা পাঠ করা নবী করীম ﷺ–এর সুন্নত। যদিও এটি বিয়ের শর্ত নয়, তবে এতে এমন অনেক বরকত ও উপকার রয়েছে, যা দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর ও আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে।

১. নবীজীর সুন্নত পালনের সৌভাগ্য

বিয়ের আগে খুতবা পড়া রাসূলে আকরাম ﷺ এর নিয়মিত আমল ছিল।
সুন্নত পালনে মহান আল্লাহ বিশেষ প্রশান্তি ও সাওয়াব দান করেন।
সুন্নত অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন করলে পুরো নিকাহ বরকতময় হয়ে যায়।

২. তাকওয়া ও নসিহতের বরকত

খুতবায় সাধারণত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত পাঠ করা হয়, যেগুলো তাকওয়া, ন্যায়, সতর্কতা ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়।
এতে নবদম্পতি ও উপস্থিত সবার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।
দাম্পত্য জীবনের শুরুতে এই মনোভাব অত্যন্ত মূল্যবান।

৩. খুতবা নিকাহকে ইবাদতের রূপ দেয়

শুধু সামাজিক রীতি নয়, খুতবার মাধ্যমে নিকাহ সরাসরি একটি ইবাদতের রূপ পায়।
এতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত থাকে।
ফলে বিয়ে পুরোপুরি ইসলামী পরিবেশে এবং পবিত্রতার সাথে সম্পন্ন হয়।

৪. শয়তানি কাজ ও কুসংস্কার থেকে রক্ষা

যেসব বিয়েতে খুতবা থাকেনা সেসব অনুষ্ঠান প্রায়ই অনর্থক হাসি-তামাশা, অপচয়, গান-বাজনা ইত্যাদির দিকে ঝুঁকে যায়।
খুতবার আধ্যাত্মিকতা অনুষ্ঠানে গাম্ভীর্যতা এনে দেয় এবং পাপ থেকে দূরে রাখে।

৫. নবদম্পতির জন্য দোয়া ও কল্যাণ

খুতবায় নবদম্পতির জন্য দোয়া করা হয়।
দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি দম্পতির জীবনে নেমে আসে।
শুরুর দোয়া – পুরো জীবনের জন্য কল্যাণের দরজা খুলে দেয়।

৬. সমাজে সুন্নাহর প্রচার

খুতবা মানুষকে সুন্নত ও কুরআনের শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এটি ইসলামী পরিবেশকে শক্তিশালী করে এবং সমাজে সঠিক বিয়ে পালনের ধারা প্রতিষ্ঠা করে।

বিবাহের খুতবা pdf

বিবাহে পড়া খুতবা সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর FAQ (Frequently Asked Questions)

প্রশ্ন: বিয়ের খুতবা কখন পড়তে হয়? | বিয়ের খুতবা আগে না পরে?

উত্তর: বিয়ের খুতবা সাধারণত বিয়ের সময় পড়া হয় আরও সহজভাবে বলতে গেলে কবুলের পূর্বে এই খুতবা পড়া হয়।

প্রশ্ন: নবীজির বিয়ের খুতবাকে পাঠ করেন ?

উত্তর: নবীজির বিয়ের খুতবা সাধারণত তার ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের দ্বারা পাঠ করা হয়। তবে রাসূলুল্লা ( ﷺ ) ও উম্মে হাবিবা (রা.)-এর বিয়ের খুৎবা বাদশা নাজ্জাশী প্রদান করেন।

প্রশ্ন: বিয়ের খুতবা পড়া কি ?

উত্তর: বিয়ের খুতবা পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

প্রশ্ন: বিয়ের খুতবা কী?

উত্তর: বিয়ের খুতবা হলো নিকাহের আগে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী আল্লাহর স্মরণ, নসিহত ও দোয়া পাঠ করা সুন্নত।

প্রশ্ন: বিয়ের খুতবাকে আরবি ভাষায় কী বলা হয়?

উত্তর: এটিকে আরবি ভাষায় “খুতবাতুল হাজাহ” বলা হয়।

প্রশ্ন: বিয়ের খুতবা কোথায় পড়া হয়?

উত্তর: নিকাহ অনুষ্ঠান বা মজলিসে, যেখানে পাত্র-পাত্রীর আত্মীয় ও সাক্ষী উপস্থিত থাকেন।

প্রশ্ন: নবী করিম (সাঃ) বিয়েতে খুতবা পড়তেন কি?

উত্তর: হ্যাঁ, নবী করিম ﷺ নিকাহ অনুষ্ঠানে খুতবা পাঠ করতেন।

প্রশ্ন: বিয়ের খুতবার মূল উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: নবদম্পতিকে তাকওয়া, নসিহত ও আল্লাহর স্মরণে শুরু করার জন্য।

প্রশ্ন: খুতবায় যে আয়াতগুলো পড়া হয় সেগুলোর বার্তা কী?

উত্তর: আল্লাহভীতি, দায়িত্বপরায়ণতা, সত্যনিষ্ঠা ও দাম্পত্য জীবনে ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা।

প্রশ্ন: বিয়ের খুতবা কি আবশ্যক?

উত্তর: ফরজ নয়, এটি সুন্নত; কিন্তু পড়লে বরকত ও সওয়াব বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন: বিয়ের খুতবার সারাংশ কী?

উত্তর: বিয়ের খুতবা নবদম্পতিকে আল্লাহভীতি, দায়িত্ব, ন্যায়পরায়ণতা এবং কল্যাণময় জীবনযাপনের শিক্ষা দেয় এবং অনুষ্ঠানকে পবিত্র ও বরকতময় করে।

আরো পড়ুন

ব দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম অর্থসহ | B Diye Meyeder Islamic Name

আপনার ঘরে কি নতুন অতিথি আসছে? একটি ফুটফুটে কন্যা শিশু মানেই জান্নাতের সুসংবাদ। সন্তানের আগমনের খুশির সাথে সাথে বাবা-মায়ের সবচেয়ে আনন্দের দায়িত্ব হলো তার জন্য একটি সুন্দর, অর্থবহ এবং শ্রুতিমধুর নাম রাখা।

জানাজার নামাজের সঠিক নিয়ম সহ পূর্ণাঙ্গ গাইড | Janajar Namaz Bangla

মানুষ মরণশীল। প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু ইসলাম ধর্মে মৃত্যু মানেই শেষ নয়, বরং এটি অনন্তকালের জীবনের শুরু। আমাদের কোনো আপনজন যখন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, তখন তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় উপহার হলো "জানাজার নামাজ"।

রমজানের সময় সূচি ২০২৬, সেহরি ও ইফতারের দোয়া এবং বিস্তারিত

মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজান মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসে সিয়াম সাধনা ফরজ হয়। সঠিক সময়ে সাওম পালন জরুরি। তাই সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী জানা প্রয়োজন। রমজানের সময় সূচি ২০২৬ নিচে দেওয়া হলো। এই তালিকাটি ঢাকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী তৈরি। অন্যান্য জেলায় সময় এক থেকে দুই মিনিট পরিবর্তন হতে পারে। আসুন জেনে নিই সেহরি ও ইফতারের দোয়া এবং তারিখ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ