আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপি ‘নির্বাচনের মাঠে’ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। নিচে মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-
প্রধান ঘোষণা
বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসনে (ফেনী-০১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩) প্রার্থী হয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন বগুড়া-৬ আসন থেকে।
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ঘোষণা করা তালিকায় ১২টি আসনে নারী প্রার্থী রয়েছে।
ঘোষণা ছাড়াও কিছু আসন পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে এবং অংশীদারদের জন্যও আসন রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক শর্ত ও সতর্কতা
এই তালিকা প্রাথমিক পর্যায়ের যেকোনো সময় বদল হতে পারে।
নির্বাচনের তফসিল এখনও চূড়ান্ত হয়নি এর আগে ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭টিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিএনপি বিভিন্ন ছোট-মধ্যম রাজনৈতিক দল ও সত্তার সঙ্গে নতুন জোট গঠনের দিকে কাজ করছে।
দল বলছে, নির্বাচিত হলে একটি জাতীয়-একতা ভিত্তিক সরকার গঠন করবে।
বিএনপি দীর্ঘদিনের দল হলেও সমালোচনা রয়েছে দল-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে।
প্রার্থী নির্বাচনের বিশিষ্ট কিছু দৃষ্টান্ত
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাধিক আসন থেকে নির্বাচন করছেন – এটা রাজনৈতিকভাবে একটি শক্তিমত্তার প্রতীক।
প্রথমবারের মতো তারেক রহমান আসছেন নির্বাচন মাঠে এতে পারিবারিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা প্রকাশ পাচ্ছে।
নারী প্রার্থীর বিষয়টি দৃষ্টিগোচর – ১২টি আসনে নারী প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের ভারসাম্য ও অংশগ্রহণ দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
তালিকা চূড়ান্ত নয় পরিবর্তন ও নতুন ঘোষণা এখনও আগামীর বিষয়।
বিশ্লেষণ: সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ
সুযোগ
তালিকা ঘোষণা করায় বিএনপি রাজনৈতিক গতিশীলতা দেখাতে পেরেছে সময়মতো ঘোষণা নির্বাচন-মূহুর্তে দলকে সচল রাখে।
নারী প্রার্থীর অন্তর্ভুক্তি দলকে ইতিবাচক ইমেজ দিতে পারে, বিশেষ করে ‘নির্বাচনের মাঠে বিএনপি’ থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
ভাঙাচোরা জোটের পরিবেশে নিজস্ব প্রার্থী তালিকা ঘোষণা দলকে স্বতন্ত্রতা এবং শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ দেয়।
চ্যালেঞ্জ
তালিকা পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও প্রকাশিত তালিকার অপ্রকাশিত আসন ঝুঁকি হিসেবে আছে এটা ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
অনেক আসনে অংশীদারদের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এতে দলীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ, সুষ্ঠু ভোট ব্যবস্থার প্রশ্ন ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতিমধ্যে রয়েছে এই পরিস্থিতিতে ‘নির্বাচনের মাঠে বিএনপি’ থিম বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
বিভাগভিত্তিক প্রার্থী তালিকা
রংপুর বিভাগ
জেলা
আসন
প্রার্থী
পঞ্চগড়
১
ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির
পঞ্চগড়
২
ফরহাদ হোসেন আজাদ
ঠাকুরগাঁও
১
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ঠাকুরগাঁও
৩
মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান জাহিদ
দিনাজপুর
১
মো. মঞ্জুরুল ইসলাম
দিনাজপুর
২
মো. সাদিক রিয়াজ
দিনাজপুর
৩
বেগম খালেদা জিয়া
দিনাজপুর
৬
অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন
নীলফামারী
২
এ এইচ এম মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ রুবেল
রংপুর
১
মোকাররম হোসেন সুজন
রংপুর
৩
শামসুজ্জামান শামু
কুড়িগ্রাম
১
সাইফুল ইসলাম রানা
গাইবান্ধা
২
আনিসুজ্জামান খান বাবু
রাজশাহী বিভাগ
জেলা
আসন
প্রার্থী
জয়পুরহাট
১
মোহাম্মদ মাসুদ রানা প্রধান
জয়পুরহাট
২
আবদুল বারী
বগুড়া
৬
তারেক রহমান
বগুড়া
৭
বেগম খালেদা জিয়া
রাজশাহী
২
মিজানুর রহমান মিনু
রাজশাহী
৬
আবু সাঈদ চাঁদ
নাটোর
২
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
সিরাজগঞ্জ
২
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
পাবনা
৩
হাসান জাফির তুহিন
খুলনা বিভাগ
জেলা
আসন
প্রার্থী
মেহেরপুর
১
মাসুদ অরুণ
কুষ্টিয়া
১
রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা
কুষ্টিয়া
৩
জাকির হোসেন সরকার
যশোর
২
সাবিরা সুলতানা
যশোর
৩
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
খুলনা
২
নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা
৩
রকিবুল ইসলাম বকুল
সাতক্ষীরা
১
হাবিবুল ইসলাম হাবিব
সাতক্ষীরা
৩
কাজী আলাউদ্দিন
বরিশাল বিভাগ
জেলা
আসন
প্রার্থী
বরগুনা
১
নজরুল ইসলাম মোল্লা
পটুয়াখালী
১
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী
ভোলা
১
গোলাম নবী আলমগীর
ভোলা
৩
মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ
বরিশাল
১
জহিরউদ্দিন স্বপন
বরিশাল
৫
মজিবর রহমান সরোয়ার
ঝালকাঠি
২
ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো
পিরোজপুর
২
আহমেদ সোহেল মনজুর
ঢাকা বিভাগ
জেলা
আসন
প্রার্থী
ঢাকা
১
খন্দকার আবু আশফাক
ঢাকা
৩
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
ঢাকা
৬
ইশরাক হোসেন
ঢাকা
৮
মির্জা আব্বাস
ঢাকা
১২
সাইফুল আলম নীরব
ঢাকা
১৪
সানজিদা ইসলাম তুলি
টাঙ্গাইল
২
আবদুস সালাম পিন্টু
নারায়ণগঞ্জ
২
নজরুল ইসলাম আজাদ
গাজীপুর
৫
ফজলুল হক মিলন
ফরিদপুর
২
শামা ওবায়েদ ইসলাম
মানিকগঞ্জ
৩
আফরোজা খান রিতা
মুন্সিগঞ্জ
১
শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ
সিলেট বিভাগ
জেলা
আসন
প্রার্থী
সুনামগঞ্জ
১
আনিসুল হক
সুনামগঞ্জ
৩
মো. কয়সর আহমেদ
সিলেট
১
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির
সিলেট
২
মোসাম্মৎ তাহসিনা রুশদীর লুনা
মৌলভীবাজার
৩
নাসের রহমান
হবিগঞ্জ
২
আবু মনসুর শাখাওয়াত হাসান জীবন
হবিগঞ্জ
৩
জি কে গউছ
চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা
আসন
প্রার্থী
কুমিল্লা
১
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
চাঁদপুর
১
আ ন ম এহছানুল হক মিলন
ফেনী
১
বেগম খালেদা জিয়া
নোয়াখালী
৩
মোহাম্মদ বরকত উল্লা বুলু
লক্ষ্মীপুর
২
আবুল খায়ের ভূঁইয়া
চট্টগ্রাম
১০
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
চট্টগ্রাম
১৬
মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা
কক্সবাজার
৩
লুৎফর রহমান কাজল
রাঙামাটি
–
দীপেন দেওয়ান
বান্দরবান
–
সাচিং প্রু
‘নির্বাচনের মাঠে বিএনপি’ এই ফোকাস-কিওয়ার্ডের আলোকে দেখা যাচ্ছে যে বিএনপি এবার নির্বাচনে আগ্রাসী পন্থায় অংশ নিচ্ছে প্রার্থী ঘোষণা, নারী অংশগ্রহণ, নতুন আসনচিত্র সবাই মিলিয়ে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল, অংশীদার বিষয়, ভোটপরিস্থিতি ইত্যাদি ভবিষ্যতে দলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।
একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা শেষ হলো। অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ফলে দীর্ঘ সময় পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে নতুন নেতৃত্বের বলয়।