বাংলা সিনেমার জয়যাত্রা এখন আর কেবল দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এবারের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া তানিম নূর পরিচালিত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে সাফল্যের নতুন রেকর্ড গড়েছে। দেশের দর্শকদের মাতানোর পর এবার আন্তর্জাতিক দর্শকদের হৃদয় জয় করতে আগামী ৩ এপ্রিল থেকে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মোট ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।
বিশ্বের নামিদামি সিনেমা চেইনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’
আন্তর্জাতিক পরিবেশক সংস্থা ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’-এর মাধ্যমে সিনেমাটি বিদেশের বড় বড় সব থিয়েটারে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি, কানাডার ১০টি এবং যুক্তরাজ্যের ৪টি প্রেক্ষাগৃহে এটি চলবে। বিশ্বের জনপ্রিয় সিনেমা চেইন যেমন এএমসি থিয়েটার্স, রিগ্যাল সিনেমাস, সিনেপ্লেক্স, সিনেমার্ক, শোকেস সিনেমাস এবং সিনেওয়ার্ল্ড-এ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বড় পর্দায় এই সিনেমাটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এএমসি থিয়েটার্সের ২১টি এবং রিগ্যাল সিনেমাসের ১৪টি স্ক্রিনে সিনেমাটি চলবে। অন্যদিকে কানাডায় সিনেপ্লেক্সের ১০টি স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে এটি। টরন্টো, নিউ ইয়র্ক, ডালাস ও লন্ডনের মতো বড় শহরগুলোতে বসবাসরত দর্শকরা ৩ এপ্রিল থেকেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
তারকাবহুল কাস্টিং ও দুর্দান্ত নির্মাণ
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর অভিনয়শিল্পীরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেশের শক্তিমান অভিনেতা মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী। এছাড়া আরও আছেন শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, শ্যামল মওলা, জাকিয়া বারী মম এবং আজমেরী হক বাঁধনসহ একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা।
পরিচালক তানিম নূর এর আগে ‘উৎসব’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ হলে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে, তাতে ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকে এটি পরিচালকের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশনায় সহযোগী যারা
যুক্তরাষ্ট্রে ও কানাডায় পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। আর যুক্তরাজ্যে ৪টি স্ক্রিনে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিবেশনা সহযোগী হিসেবে কাজ করছে রেভেরি ফিল্মস। বিদেশের মাটিতে বাংলা সিনেমার এই বিশাল পরিসরে মুক্তি প্রবাসী বাঙালিদের জন্য আনন্দের সংবাদ নিয়ে এসেছে।
কেন দেখবেন বনলতা এক্সপ্রেস
১. গল্পের বৈচিত্র্য: সমসাময়িক গল্পের পাশাপাশি দুর্দান্ত সাসপেন্স দর্শকদের শেষ পর্যন্ত বসিয়ে রাখবে।
২. পারফরম্যান্স: মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো দুই মহাতারকাকে এক সিনেমায় দেখা সব সময়ই বোনাস।
৩. নির্মাণশৈলী: তানিম নূরের আধুনিক সিনেমাটোগ্রাফি ও পরিচালনা সিনেমাটিকে আন্তর্জাতিক মান দিয়েছে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা বাংলা সিনেমার উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয়। বিদেশের মাটিতে এই সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্য দেশের নির্মাতাদের আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করবে। আপনি যদি দেশের বাইরে থাকেন, তবে আপনার কাছের থিয়েটারে এখনই টিকিট বুক করে নিন।




