ট্রেনের গতি: চোখের পলকেই ছুটে গেল ভবিষ্যৎ
বিশ্বের পরিবহন প্রযুক্তিতে নতুন এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্থাপন করল চীন। দেশটির গবেষকদের তৈরি একটি ম্যাগলেভ ট্রেন মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যেই ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। ট্রেনটির গতি এতটাই বেশি যে কাছ থেকে দেখলেও এক সেকেন্ডের বেশি চোখে ধরা পড়ে না- সচেতন না থাকলে বোঝার আগেই সেটি চোখের আড়াল হয়ে যায়।
এমন অভূতপূর্ব এই সাফল্যের খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
গবেষণায় নেতৃত্ব দিল চীনের প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়
এই উচ্চগতির ম্যাগলেভ ট্রেনটি তৈরি ও পরীক্ষার কাজ চালান চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি–এর গবেষকরা। পরীক্ষায় তারা এক হাজার টনেরও বেশি ওজনের ট্রেনকে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-এত দ্রুতগতির পরও গবেষকরা ট্রেনটিকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে থামাতে সক্ষম হয়েছেন, যা প্রযুক্তিগত দক্ষতার এক বড় প্রমাণ।
বিশেষ ট্র্যাকে পরীক্ষায় মিলল বিশ্বস্বীকৃতি
এই পরীক্ষা চালানো হয় একটি বিশেষভাবে নির্মিত ম্যাগলেভ ট্র্যাকে। পরীক্ষার সাফল্যের মাধ্যমে ট্রেনটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ইলেকট্রিক ম্যাগলেভ ট্রেন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও
গত ৩ ডিসেম্বর ট্রেনটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন মানুষ ট্রেনটি দেখার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু চোখের পলক ফেলার আগেই ট্রেনটি প্রচণ্ড গতিতে তাদের পাশ দিয়ে ছুটে চলে যায়- যা দেখে বিস্মিত হয়েছেন লাখো মানুষ।
ঘর্ষণহীন প্রযুক্তিই গতির রহস্য
এই ম্যাগলেভ ট্রেনটি চলে অতিপরিবাহী চুম্বক প্রযুক্তির মাধ্যমে। ফলে ট্রেনটির চাকা ও রেললাইনের মধ্যে কোনো সরাসরি সংযোগ নেই। চৌম্বক শক্তির কারণে ট্রেনটি রেললাইনের ওপর ভেসে চলে, ফলে ঘর্ষণ একেবারেই থাকে না।
এই ঘর্ষণহীন চলাচলই ট্রেনটিকে এত উচ্চ গতি অর্জনে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
ভবিষ্যতে রকেট উৎক্ষেপণেও ব্যবহার হতে পারে প্রযুক্তি
গবেষকদের মতে, এই ম্যাগলেভ প্রযুক্তির গতি ও শক্তি এতটাই উন্নত যে ভবিষ্যতে এটি রকেট উৎক্ষেপণের সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
আর যদি এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যায়, তবে কয়েক ঘণ্টার যাত্রা নেমে আসবে কয়েক মিনিটে। এক শহর থেকে আরেক শহরে দ্রুত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত তখন আর কল্পনা নয়- হবে বাস্তবতা।
চীনের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশ্ব পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করল।