শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫: সংবিধান সংস্কারের জন্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন

বহুল পঠিত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকার গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করেছেন।

অধ্যাদেশটি তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জনগণের মতামত বা সম্মতি জানার প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য। আইন উপদেষ্টা জানান, অধ্যাদেশটি আজ বা আগামীকাল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

গণভোটে ভোটারের অংশগ্রহণ ও প্রক্রিয়া

  • প্রশাসনিক কাঠামো:
    গণভোট অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন হবে, সেই কেন্দ্রগুলোতেই।
  • ভোটার তালিকা:
    একই ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হবে।
  • ব্যালট:
    গণভোটের ব্যালট নির্বাচনের ব্যালট থেকে ভিন্ন রঙের হবে, যাতে ভোটারের বিভ্রান্তি না হয়।
  • দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা:
    রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং কর্মকর্তারাই ভোট গ্রহণ ও গণনা পরিচালনা করবেন।
  • পোস্টাল ব্যালট:
    ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভোট স্থগিত করতে পারবেন। তবে নির্বাচন কমিশন মনে করলে, অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতেই গণভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা সম্ভব।

ব্যালটে থাকবে একমাত্র প্রশ্ন

গণভোটে ভোটারদের কাছে শুধুমাত্র একটি প্রশ্ন থাকবে:
“ভোটাররা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কারের চারটি প্রস্তাবে সম্মতি জানাচ্ছেন কি না?”

  • ব্যালটে দুইটি ঘর থাকবে: ‘হ্যাঁ’‘না’
  • ভোটার সম্মত হলে ‘হ্যাঁ’, না হলে ‘না’-তে সিল দিতে হবে।

চারটি মূল প্রস্তাব:

  1. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন।
  2. জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষবিশিষ্ট করা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন।
  3. জুলাই সনদের ৩০টি সংস্কার কার্যকর করা – নারীর প্রতিনিধিত্ব, ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন, সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ইত্যাদি।
  4. অন্য সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে।

আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এই ৩০টি প্রস্তাবে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য রয়েছে, যা অধ্যাদেশের অ্যাপেন্ডিক্সে সংযুক্ত থাকবে।

ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা

  • ভোট গণনা হবে জাতীয় নির্বাচনের মতোই
  • প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট আলাদা করে গণনা করবেন।
  • ফল সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাবে।
  • সব কেন্দ্রের ফল একত্র করে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে।
  • নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ, শৃঙ্খলা রক্ষা, বাতিল ব্যালট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেছে। এছাড়া, অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান উপদেষ্টা এবং আইন মন্ত্রণালয়ও প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে জনগণ সংবিধান সংস্কারে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

সারসংক্ষেপ:
গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়েছে। ডিসেম্বরে প্রজ্ঞাপনের পর ভোট গ্রহণ শুরু হবে এবং নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ