গাজার সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফেরাতে এবং মানবিক সংকট দূর করতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর পথ সুগম করতে তিনি ইসরায়েলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। শান্তির এই যাত্রায় সংঘাত নয়, বরং মানুষের জীবন বাঁচানোই এখন বিশ্বের প্রধান অগ্রাধিকার।
মানবিক সংস্থাগুলোই আশার আলো
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) গাজায় খাদ্য, চিকিৎসা এবং আশ্রয় নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে।
গুতেরেসের মতে, মানবিক সংস্থাগুলো কেবল ত্রাণ পৌঁছায় না, তারা মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্নকেও বাঁচিয়ে রাখে। বর্তমানে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই সংস্থাগুলোর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি।
সংহতি ও সহমর্মিতার কণ্ঠস্বর
শুধু জাতিসংঘ নয়, ইসরায়েল-ভিত্তিক ১৮টি প্রগতিশীল এনজিও-ও এই মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তারা মনে করে, নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা মানবিক সংস্থাগুলোর মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ (MSF)-এর মতো সংস্থাগুলো, যারা দীর্ঘ দিন ধরে সেবা দিয়ে আসছে, তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকা গাজার লাখ লাখ মানুষের জন্য পরম স্বস্তির খবর হতে পারে।
এক নজরে মানবিক সংকটের চিত্র ও সম্ভাবনা:
- আশার আলো: আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মানবিক করিডোরগুলো উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
- সহযোগিতা: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রাণ সহায়তা আসছে, যা বিতরণের জন্য প্রস্তুত সংস্থাগুলো।
- লক্ষ্য: ১৫ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং বিধ্বস্ত অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা।
আগামীর পথ: যুদ্ধ নয়, জীবন হোক প্রথম লক্ষ্য
৭ অক্টোবর পরবর্তী ভয়াবহতা কাটিয়ে গাজা এখন নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। যদিও এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও বিশ্ব নেতাদের এই ইতিবাচক হস্তক্ষেপ শান্তির পথকে আরও প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৭০ হাজার প্রাণের বিয়োগান্তক ঘটনার পর এখন সময় এসেছে ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন জীবন গড়ার।
সোর্সঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন