বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২৬

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

বহুল পঠিত

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য জনগণকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।

ফ্যাসিবাদ রুখতে জনগণের রায়

ড. ইউনূস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই গণভোট জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সিদ্ধান্ত যদি জনগণের সরাসরি সম্মতিতে নেওয়া হয়, তবে ক্ষমতার অপব্যবহার কমে আসবে। ফলে স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ করা অনেক সহজ হবে।

গণতন্ত্রকে টেকসই করার মন্ত্র

বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। ড. ইউনূস বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে যাওয়া।”

গণভোটে হ্যাঁ ভোট: সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব

রাষ্ট্র সংস্কারের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি দেশের সচেতন নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, সচেতন জনতাই গণতন্ত্রের আসল পাহারাদার। এই গণভোটের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ একটি নিরাপদ ও শক্তিশালী আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্র সংস্কারে ঐক্যের ডাক

ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, দল-মত নির্বিশেষে এই গণভোট হবে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, যখন সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে সরাসরি রায় দেবে, তখন রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভ আরও শক্তিশালী হবে। এই প্রক্রিয়া কেবল বর্তমান রাজনৈতিক সংকট দূর করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জকসু নির্বাচনের ফলাফল : ভিপি ও জিএসসহ শিবিরের প্রার্থীদের ভুমিধস জয়!

দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা শেষ হলো। অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ফলে দীর্ঘ সময় পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে নতুন নেতৃত্বের বলয়।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ