বাংলাদেশের নীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রে গবেষণা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর পরিচালিত একটি বিশেষ জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজ ‘আর ভি ড. ফ্রিডটজফ ন্যানসেন’-এর মাধ্যমে পরিচালিত এই গবেষণায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার বৈচিত্র্যময় ও আশাব্যঞ্জক সব তথ্য। তবে একইসঙ্গে সামুদ্রিক ভারসাম্য রক্ষা ও দূষণ রোধে জানানো হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।
গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য: নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণী
বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী জানান, গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে বাংলাদেশের জলসীমায় নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া গভীর সমুদ্রে টুনা মাছের ব্যাপক আধিক্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে।
বড় পাওয়া: সুন্দরবনের নিচে ‘ফিশিং নার্সারি’
গবেষণার অন্যতম বড় সাফল্য হলো সুন্দরবনের তলদেশে একটি প্রাকৃতিক ‘ফিশিং নার্সারি’ বা মাছের প্রজননক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই নার্সারিটি সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে।
বাড়ছে সক্ষমতা: যুক্ত হচ্ছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ
গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে একটি বড় সুখবর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি যুক্ত হলে সমুদ্রের তলদেশের গভীরতা ও সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ আরও সহজ হবে।
উদ্বেগ ও সতর্কতা: প্লাস্টিক দূষণ ও ওভারফিশিং
গবেষণায় কিছু উদ্বেগের চিত্রও ফুটে উঠেছে:
- সমুদ্রের ২০০০ মিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
- অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ বা ‘ওভারফিশিং’-এর কারণে বড় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।
- গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত ইকোসিস্টেমের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ।
- আগ্রাসী ‘সোনার’ (SONAR) পদ্ধতির মাধ্যমে মাছ ধরায় স্বল্প গভীর পানিতে মাছ কমে যাচ্ছে, যা সাধারণ জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা গবেষণার তথ্যগুলো কাজে লাগিয়ে টেকসই সমুদ্র ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
সূত্র: বনিক বার্তা