শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

হাসিনার আমলে পাচার ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: ফিনান্সিয়াল টাইমসের ডকুমেন্টারি

বহুল পঠিত

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমস। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রামাণ্যচিত্রের শিরোনাম ছিল “বাংলাদেশের হারানো বিলিয়নস: চোখের সামনেই লুট”

ডকুমেন্টারিতে আন্দোলনকারী, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার নিয়ে অনুসন্ধান দেখানো হয় কীভাবে বিপুল অর্থ হুন্ডি, হাওয়ালা, অতিরিক্ত বা কম ইনভয়েসিং এবং যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি কেনাবেচার মাধ্যমে পাচার হয়েছে। লন্ডনকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় প্রধান গন্তব্য হিসেবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে স্থানীয় আর্থিক খাত ও সম্পত্তি বাজারে।

অভিযোগ ও নাম প্রকাশ

প্রামাণ্যচিত্রে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যরা যার মধ্যে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও আছেন অবকাঠামো প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় অভিযুক্ত। এছাড়া প্রাক্তন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকেও অর্থ পাচারের অভিযোগে যুক্ত করা হয়েছে।

ডকুমেন্টারির এক পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়, কখনও কখনও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বন্দুকের মুখে ব্যাংকের পরিচালকদের অপহরণ করে পদত্যাগে বাধ্য করতেন, এবং তাদের শেয়ার শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠদের হাতে তুলে দিতেন।

বাংলাদেশ রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

বিশেষজ্ঞদের মতামত

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মোশতাক খান মন্তব্য করেন “হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতি কোনো গোপন বিষয় ছিল না। অনেক ঘটনা যেন সিনেমার কাহিনি মনে হতো। আমার ব্যক্তিগত কয়েকজন বন্ধু কারাগারে বন্দি ছিলেন হল অব মিররস’ বা ‘আয়না ঘর’ এ।”

ফিনান্সিয়াল টাইমসের সংবাদদাতা সুজানাহ স্যাভেজ বলেন, “আমরা প্রায়ই ভাবি স্বৈরতন্ত্র ও ব্যাপক দুর্নীতি দূরদেশের বিষয়। কিন্তু আসলে এটি বৈশ্বিক সমস্যা, আর যুক্তরাজ্যও এর কেন্দ্রবিন্দু।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ পুনরুদ্ধার টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা ইফতি ইসলাম জানান- পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। তাঁর মতে, “সম্ভবত ইতিহাসে কোনো দেশের এত বড় অঙ্কের অর্থপাচার নজিরবিহীন।”

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

ডকুমেন্টারিতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কথাও তুলে ধরা হয়। সুজানাহ স্যাভেজ বলেন, এ অর্থ ফেরত আনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো-লুটকারীদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো ছাড়া উপায় থাকে না। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, কতটা অর্থ ফেরত আনা সম্ভব এবং জনগণ তা কতটা মেনে নেবে।

অধ্যাপক মোশতাক খান মনে করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কার অপরিহার্য। “যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ঠেকানো কঠিন হবে।”

ডকুমেন্টারির শেষাংশে ছাত্রনেত্রী রাফিয়া রেহনুমা হৃদি বলেন-“আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো, আমরা হয়তো শহীদদের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করতে পারব না।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ