সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা সেন্টার পুনরায় সম্পূর্ণভাবে চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্বাভাবিক নিয়মে ভিসা আবেদন গ্রহণ, বায়োমেট্রিক, কাগজপত্র যাচাইসহ সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ।
এই সিদ্ধান্তে হাজারো ভিসা প্রত্যাশী বাংলাদেশির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যারা ভারতগামী ভিসার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কাটল।
কেন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল ভিসা সেন্টার
এর আগে বুধবার ঢাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনের মোর্চা ‘জুলাই ঐক্য’ ব্যানারে ঘোষিত ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দুপুর ২টা থেকে সাময়িকভাবে ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিষয়টি ঘিরে ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যক্রম পুনরায় চালু করায় তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা স্বাভাবিক, সেবায় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই
ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে-
- ভিসা সেন্টারে বর্তমানে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা নেই
- পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে
- নতুন আবেদনকারীরাও স্বাভাবিক নিয়মে সেবা পাচ্ছেন
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট: উত্তেজনার মাঝেও যোগাযোগ অটুট
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই দিন দুপুরের দিকে বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, এমন সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটের মধ্যেও ঢাকায় ভারতীয় ভিসা সেন্টার পুনরায় চালু হওয়া প্রমাণ করে-
- দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রয়েছে
- জনগণের ভোগান্তি এড়াতে উভয় পক্ষই বাস্তবসম্মত অবস্থান নিচ্ছে
- দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৈনন্দিন কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
সাধারণ মানুষের জন্য বড় বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা সেন্টার পুনরায় চালুর মাধ্যমে একটি স্পষ্ট ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে-
- বাংলাদেশ-ভারত মানুষের মধ্যে যাতায়াত বন্ধ হচ্ছে না
- চিকিৎসা ও শিক্ষাগমনের মতো মানবিক বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে
- সাময়িক রাজনৈতিক উত্তেজনা সাধারণ নাগরিক সেবায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে না
বিশেষ করে যারা মেডিক্যাল ভিসা ও শিক্ষাভিসার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তির খবর।
সব মিলিয়ে, ভারতীয় ভিসা সেন্টার ফের চালু হওয়া শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়- এটি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক নির্ভরতা, যোগাযোগ ও বাস্তব সম্পর্ক অটুট থাকার প্রতিফলন। বর্তমান বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী, দায়িত্বশীল ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।