চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের পতিত জমিতে শুরু হয়েছে সম্ভাবনাময় এক কৃষি বিপ্লব। সেখানে কালোজিরা চাষে আশাতীত সাফল্য পেয়ে স্থানীয় কৃষকেরা এই ফসলকে এখন আদর করে ডাকছেন ‘কালো হীরা’ নামে। স্বল্প খরচে চাষ, কম সময়ে ফলন এবং বাজারে ভালো দাম—এই তিন সুবিধার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই কালোজিরা চাষ হাইমচরের কৃষকদের কাছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর হাইমচরে মাত্র ১ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালোজিরা চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ও ভালো লাভের কারণে চলতি মৌসুমে সেই আবাদ বেড়ে ১৮ হেক্টরে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ বেশি। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
হাইমচরের চরাঞ্চলের মাটি সাধারণত বেলে-দোঁআশ প্রকৃতির। ধান কাটার পর বছরের একটি সময় এই জমিগুলো দীর্ঘদিন পতিত পড়ে থাকে। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সেই পতিত জমিতেই এখন কালোজিরা চাষ করে কৃষকেরা অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে জমির সঠিক ব্যবহার যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি কৃষকের আর্থিক অবস্থাও উন্নত হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও আধুনিক চাষাবাদ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ। বিশেষ করে ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এবং ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’ কৃষকদের এই উদ্যোগকে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কালোজিরা চাষ তুলনামূলক সহজ এবং এতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ খুবই কম। ফলে কীটনাশক বা অতিরিক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। অল্প খরচে চাষ করে তারা বিঘাপ্রতি কয়েক গুণ বেশি লাভ পাচ্ছেন। অনেক কৃষক বলছেন, এই ফসল তাদের পরিবারে নতুন করে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে।
সম্প্রতি হাইমচরের কালোজিরা ক্ষেত পরিদর্শনে এসে কুমিল্লা অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাত জানান, এ অঞ্চলের মাটির pH মান ৬.৫ থেকে ৭.০, যা কালোজিরা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অনুকূল মাটি ও আবহাওয়ার কারণে এখানে এই ফসলের ফলন ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবু তাহের বলেন, সঠিক বাজারব্যবস্থা এবং বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে হাইমচর খুব দ্রুতই দেশের অন্যতম কালোজিরা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে শুধু কৃষকরাই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পতিত জমির সঠিক ব্যবহার এবং লাভজনক ফসলের দিকে কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে চরাঞ্চলের কৃষি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। হাইমচরের কালোজিরা চাষ সেই সম্ভাবনারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠছে।
সুত্রঃ আমার দেশ





