বুধবার, জানুয়ারি ৭, ২০২৬

গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে: যেভাবে ইতিহাস গড়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

বহুল পঠিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার উত্থান কোনো পরিকল্পিত ক্ষমতালাভের গল্প নয়; বরং এটি সময়, পরিস্থিতি ও দায়িত্ববোধের সম্মিলিত ফল। একসময় যিনি ছিলেন নিরালস গৃহবধূ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে- তিনিই পরিণত হন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। এই রূপান্তর শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি জাতির রাজনৈতিক অভিযাত্রারও প্রতিচ্ছবি।

১৯৪৫ সালে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া রাজনীতির পরিবেশে বড় হননি। সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তার জীবন সীমাবদ্ধ ছিল পরিবার ও সামাজিক পরিসরে। রাষ্ট্রক্ষমতার রাজনীতি কিংবা দলীয় সভা- এসব তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল না।

কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নেমে আসে দেশের কালো অধ্যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন মোড় ঘুরিয়ে দেয়, তেমনি বদলে দেয় খালেদা জিয়ার জীবনও। নেতৃত্বশূন্য বিএনপি, বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান- এই প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তার ছিল না। দলের প্রবীণ নেতাদের অনুরোধ এবং সময়ের দাবি মেনেই তিনি রাজনীতিতে পা রাখেন।

১৯৮২ সালে বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন দলের মুখ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা, পরিমিত ভাষা ও আপোষহীন অবস্থান তাকে অনন্য করে তোলে। ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রবেশ করেন।

এরপর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া নেতৃত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কারচুপির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে রাজনীতিতে নৈতিকতার প্রশ্নটি সামনে আনেন তিনি। বারবার গ্রেপ্তার, দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখেও তিনি আপস করেননি। এই অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া শুধু সরকারপ্রধান হননি; তিনি ভেঙে দেন স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির এক দীর্ঘ দেয়াল। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসীন হন।

তিনি শুধু একটি দলের নেত্রী নন; তিনি এক সময়ের প্রতীক- যিনি আপসহীন থেকেছেন, নিপীড়নের মুখেও নত হননি। গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রনায়ক, ক্ষমতায় থেকে কারাগার- এই দীর্ঘ যাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিকে শিখিয়েছে, গণতন্ত্রের লড়াই কখনো ব্যক্তিগত নয়; এটি প্রজন্মের উত্তরাধিকার।

গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী- এই যাত্রা ছিল না সহজ কিংবা পূর্বনির্ধারিত। এটি ছিল সংকটের ভেতর দায়িত্ব গ্রহণের, অনিশ্চয়তার মাঝেও নেতৃত্ব দেওয়ার এবং রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার গল্প। বেগম খালেদা জিয়ার উত্থান তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নারীর ক্ষমতায়নের এক মাইলফলক।

আরো পড়ুন

পুরোনো হিসাব ভেঙে দিচ্ছে নতুন শক্তি- রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি সবসময়ই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, আন্দোলন এবং সংঘর্ষের মাধ্যমে পরিচিত। তবে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (Shibir) এই সময় থেকে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বর্তমানে দেশের প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের অবস্থান শক্তিশালী এবং সংগঠিত। ফলে ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ এক নতুন পথে এগোচ্ছে।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ