দীর্ঘ ১৮ মাসের বিরতির পর আবারও নিজের চেনা কর্মপরিসরে ফিরলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার সকালে তিনি মিরপুরের টেলিকম ভবনে অবস্থিত Yunus Centre-এ উপস্থিত হলে সেখানে তৈরি হয় আবেগঘন ও আনন্দময় পরিবেশ।
সকালের সূর্যের আলোয় ইউনূস সেন্টারে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। হাসিমুখে শুভেচ্ছা, করমর্দন আর আন্তরিকতায় ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একজন মানুষের অফিসে ফেরা নয়-এটি একটি আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তন।
ফিরেই তিনি গ্রামীণভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। এসব বৈঠকে সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশ ও জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস। সেই অধ্যায় শেষ করে আবারও তিনি ফিরে এলেন তাঁর আজীবনের সাধনার জায়গায়-মানুষের জন্য কাজ করার মঞ্চে।
চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনেও ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
দেশ-বিদেশে অসংখ্য মানুষের কাছে অধ্যাপক ইউনূস শুধু একজন নোবেলজয়ী নন-তিনি আশা, মানবিকতা ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের প্রতীক। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই দেখছেন নতুন করে অনুপ্রেরণা ছড়ানোর সূচনা হিসেবে।
একজন মানুষ ফিরলেন, ফিরল এক মানবিক দর্শন-বাংলাদেশের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর।





