পাকিস্তানের ইতিহাস ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এক যুগান্তকারী সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মহাকবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবাল–এর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাদের জীবন ও কর্মভিত্তিক দুটি পৃথক ওয়েব সিরিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
জাতীয় পুনর্জাগরণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ
পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল–এর সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া হাউস, খ্যাতনামা পরিচালক, প্রযোজক এবং সৃজনশীল খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
বৈঠকে মন্ত্রী আহসান ইকবাল বলেন,
এই উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি হবে জাতীয় পুনর্জাগরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লবের একটি শক্তিশালী মাইলফলক। তরুণ প্রজন্মকে পাকিস্তানের আদর্শিক যাত্রা, সাংবিধানিক সংগ্রাম ও জাতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
সফট পাওয়ার ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির হাতিয়ার
মন্ত্রী আরও জানান,
এই ঐতিহাসিক ওয়েব সিরিজ দুটি পাকিস্তানের ‘সফট পাওয়ার’ এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি, চিন্তাশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা তুলে ধরাই এর প্রধান লক্ষ্য।
এ লক্ষ্যে সিরিজগুলো প্রচারের জন্য নিজস্ব ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম চালুর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ, গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব
এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে পাকিস্তান সরকার প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি রুপি সিড ফান্ডিং ঘোষণা করেছে।
এ ছাড়া-
- ঐতিহাসিক তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে লেখক ও গবেষকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা
- গবেষণাভিত্তিক চিত্রনাট্য উন্নয়ন
- আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ডিজিটাল প্রোডাকশন
- বৈশ্বিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখে গল্প বলার কৌশল
নিয়ে বিস্তারিত প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রীর মতে,
নাটক ও ডিজিটাল মিডিয়া বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম, যার মাধ্যমে জাতীয় বীরদের দর্শন ও চিন্তা তরুণদের কাছে সহজ ও অনুপ্রেরণামূলকভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যতের পথে পাকিস্তানের আত্মপরিচয়ের গল্প
আহসান ইকবাল বলেন,
“উদ্দেশ্যমূলক গল্প বলা জাতি গঠনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এই ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে আমরা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে চাই।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি টেলিভিশন প্রকল্প নয়; বরং এটি পাকিস্তানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আদর্শকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী প্রয়াস।





