শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য উন্মোচনের পথে নাসা: কসমিক ভয়েডের পূর্ণ মানচিত্র তৈরি করবে রোমান টেলিস্কোপ

বহুল পঠিত

মহাবিশ্ব শুধু অসংখ্য গ্যালাক্সিতে ভরা নয়- এটি ভরা অজানা রহস্যেও। সেই রহস্যের অন্যতম বড় অধ্যায় হলো কসমিক ভয়েড (Cosmic Void)– গ্যালাক্সির মাঝখানে থাকা বিশাল শূন্য অঞ্চল। এবার এই রহস্যময় শূন্যতাগুলোর সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নাসা

এই যুগান্তকারী কাজটি করবে নাসার অত্যাধুনিক Nancy Grace Roman Space Telescope। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই মিশনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের গঠন, বিস্তার এবং ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি সম্পর্কে বিপ্লবী নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।

কী এই কসমিক ভয়েড

বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী, দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে। কিন্তু এগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে নেই। বরং গ্যালাক্সিগুলো এক ধরনের বুদবুদ-সদৃশ জাল (Cosmic Web) তৈরি করে।

এই বুদবুদের ভেতরের প্রায় সম্পূর্ণ ফাঁকা অঞ্চলগুলোকেই বলা হয় কসমিক ভয়েড– যেখানে গ্যালাক্সি খুবই কম অথবা প্রায় নেই বললেই চলে।

কেন ভয়েড এত গুরুত্বপূর্ণ

গবেষকদের মতে, এই শূন্য অঞ্চলগুলোই হতে পারে ডার্ক এনার্জি বোঝার চাবিকাঠি। কারণ-

  • যেখানে পদার্থ কম, সেখানে ডার্ক এনার্জির প্রভাব বেশি স্পষ্ট
  • মহাবিশ্বের দ্রুত সম্প্রসারণ কেন ঘটছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে
  • ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা সহজ হবে

অর্থাৎ, যা নেই- সেই শূন্যতাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

রোমান টেলিস্কোপ কীভাবে কাজ করবে

এই গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হবে রোমান টেলিস্কোপের বিশেষ জরিপ কর্মসূচি-
High Latitude Wide-Area Survey

এর মাধ্যমে-

  • গ্যালাক্সি সমতল থেকে দূরের বিশাল আকাশ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হবে
  • হাজার হাজার কসমিক ভয়েড শনাক্ত করা সম্ভব হবে
  • কিছু ভয়েডের ব্যাস হতে পারে প্রায় ২ কোটি আলোকবর্ষ

রোমান টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণ করবে প্রায় ২,৪০০ বর্গডিগ্রি আকাশ, যা প্রায় ১২ হাজার পূর্ণিমার চাঁদের সমান এলাকা। এটি এতটাই সংবেদনশীল যে অত্যন্ত দূরের ও ক্ষীণ গ্যালাক্সিও শনাক্ত করতে পারবে

মহাবিশ্ব বোঝার পথে নতুন দিগন্ত

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে-

  • মহাবিশ্ব কীভাবে গঠিত হয়েছে
  • সময়ের সঙ্গে কীভাবে বিস্তৃত হচ্ছে
  • ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি কীভাবে কাজ করে

এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা অনেকটাই সহজ হবে।

সব মিলিয়ে, নাসার এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা– যেখানে শূন্যতাই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

আরো পড়ুন

ইউটিউবের চেয়েও বেশি আয়ের সুযোগ আসছে ‘এক্স’-এ!

ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছেন প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক। যারা অনলাইনে কনটেন্ট তৈরি করে আয় করতে চান, তাদের জন্য একটি বড় বার্তা দিয়েছেন তিনি। মাস্ক ইঙ্গিত দিয়েছেন, জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) থেকে শিগগিরই ইউটিউবের চেয়েও বেশি আয় করা সম্ভব হবে।

রোবটের অসাধারণ পারফরম্যান্স: ব্যাডমিন্টনে মানুষকে হারিয়ে বিশ্বরেকর্ড

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের শাওশিং শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ব্যাডমিন্টন ম্যাচ পুরো বিশ্বকে অবাক করেছে। কোর্টে দেখা গেল মানুষ বনাম রোবট । সাধারণত ব্যাডমিন্টনকে ক্রীড়াবিদদের দক্ষতা এবং প্রতিক্রিয়ার পরীক্ষা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এই বিশেষ ম্যাচে প্রযুক্তি এবং মানুষের দক্ষতা একসঙ্গে মিলিত হয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে।

প্রযুক্তির ইতিহাসে চীনের বিস্ময়: ২ সেকেন্ডেই ৭০০ কিমি গতির বিশ্বরেকর্ড গড়া ম্যাগলেভ ট্রেন

বিশ্বের পরিবহন প্রযুক্তিতে নতুন এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্থাপন করল চীন। দেশটির গবেষকদের তৈরি একটি ম্যাগলেভ ট্রেন মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যেই ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। ট্রেনটির গতি এতটাই বেশি যে কাছ থেকে দেখলেও এক সেকেন্ডের বেশি চোখে ধরা পড়ে না- সচেতন না থাকলে বোঝার আগেই সেটি চোখের আড়াল হয়ে যায়।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ