মহাবিশ্ব শুধু অসংখ্য গ্যালাক্সিতে ভরা নয়- এটি ভরা অজানা রহস্যেও। সেই রহস্যের অন্যতম বড় অধ্যায় হলো কসমিক ভয়েড (Cosmic Void)– গ্যালাক্সির মাঝখানে থাকা বিশাল শূন্য অঞ্চল। এবার এই রহস্যময় শূন্যতাগুলোর সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নাসা।
এই যুগান্তকারী কাজটি করবে নাসার অত্যাধুনিক Nancy Grace Roman Space Telescope। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই মিশনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের গঠন, বিস্তার এবং ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি সম্পর্কে বিপ্লবী নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।
কী এই কসমিক ভয়েড
বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী, দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে। কিন্তু এগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে নেই। বরং গ্যালাক্সিগুলো এক ধরনের বুদবুদ-সদৃশ জাল (Cosmic Web) তৈরি করে।
এই বুদবুদের ভেতরের প্রায় সম্পূর্ণ ফাঁকা অঞ্চলগুলোকেই বলা হয় কসমিক ভয়েড– যেখানে গ্যালাক্সি খুবই কম অথবা প্রায় নেই বললেই চলে।
কেন ভয়েড এত গুরুত্বপূর্ণ
গবেষকদের মতে, এই শূন্য অঞ্চলগুলোই হতে পারে ডার্ক এনার্জি বোঝার চাবিকাঠি। কারণ-
- যেখানে পদার্থ কম, সেখানে ডার্ক এনার্জির প্রভাব বেশি স্পষ্ট
- মহাবিশ্বের দ্রুত সম্প্রসারণ কেন ঘটছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে
- ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা সহজ হবে
অর্থাৎ, যা নেই- সেই শূন্যতাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
রোমান টেলিস্কোপ কীভাবে কাজ করবে
এই গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হবে রোমান টেলিস্কোপের বিশেষ জরিপ কর্মসূচি-
High Latitude Wide-Area Survey।
এর মাধ্যমে-
- গ্যালাক্সি সমতল থেকে দূরের বিশাল আকাশ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হবে
- হাজার হাজার কসমিক ভয়েড শনাক্ত করা সম্ভব হবে
- কিছু ভয়েডের ব্যাস হতে পারে প্রায় ২ কোটি আলোকবর্ষ
রোমান টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণ করবে প্রায় ২,৪০০ বর্গডিগ্রি আকাশ, যা প্রায় ১২ হাজার পূর্ণিমার চাঁদের সমান এলাকা। এটি এতটাই সংবেদনশীল যে অত্যন্ত দূরের ও ক্ষীণ গ্যালাক্সিও শনাক্ত করতে পারবে।
মহাবিশ্ব বোঝার পথে নতুন দিগন্ত
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে-
- মহাবিশ্ব কীভাবে গঠিত হয়েছে
- সময়ের সঙ্গে কীভাবে বিস্তৃত হচ্ছে
- ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি কীভাবে কাজ করে
এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা অনেকটাই সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, নাসার এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা– যেখানে শূন্যতাই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন