ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে দেশের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে নির্বাচিত সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে ক্ষমতার এই লড়াইয়ের মধ্যেও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন সবচেয়ে বেশি- নতুন সরকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কী করবে?
নির্বাচনী মাঠে দুই জোটই উন্নয়ন, স্বস্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতারা। এতে দীর্ঘদিন পর অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
রমজানকে সামনে রেখে বাজারে স্বস্তির বার্তা
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরপরই রমজান মাস শুরু হওয়ায় বাজার স্থিতিশীলতা হবে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করা গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে শুল্ক ছাড়, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজার তদারকি জোরদারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কাজ করা হবে। শুধু রমজান নয়, সারা বছরই পণ্যের দাম সহনীয় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিকল্পনা
বিএনপি সূত্র জানায়, শিক্ষা উপকরণ সহজলভ্য করতে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের চিন্তাভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে দলটির নির্বাচনী অঙ্গীকারে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
বাজেট নিয়ে বাস্তবতা ও সম্ভাবনা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে বড় কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সময়সাপেক্ষ হলেও কিছু ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-এর প্রকল্পগুলো নতুন সরকার পর্যালোচনা করতে পারে।
এক এনবিআর কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরের সময় সীমিত হলেও আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে নতুন সরকার নিজের দর্শন ও অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবে।
মূল্যস্ফীতি কমাতে প্রত্যাশা
বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে আশার ইঙ্গিত মিলছে। বাজার ব্যবস্থাপনা, শুল্ক নীতি ও সামাজিক সুরক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামনে কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো—অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা। চলতি বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার রায় নয়-এটি হতে পারে অর্থনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই-নতুন সরকার যেন বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে স্বস্তি ও স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করে।





