বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তায় আগামীর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ছাত্রশিবিরের

বহুল পঠিত

৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’ সম্পন্ন

‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার কার্যক্রম শুরু হয়।

২০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনী ভাবনার মিলনমেলা

তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী মেধাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
দিনভর বিভিন্ন সেশন, আইডিয়া উপস্থাপন ও আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজনের পর্দা নামে।

উদ্বোধনী আয়োজন ও অতিথিদের বক্তব্য

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২১৩তম শহীদ শাহাবুদ্দিনের পিতা মো. রফিকুল্লাহ
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ

উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন ড. ওয়ারেসুল করিম
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন Center for Strategic and Peace Studies-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. মিজানুর রহমান, যিনি Critical Thinking-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম

পোস্টার থেকে প্রজেক্ট- উদ্ভাবনী আইডিয়ায় ভরপুর প্রতিযোগিতা

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া মূল প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত ২০০-এর বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীরা-

  • পোস্টার প্রেজেন্টেশন
  • পেপার প্রেজেন্টেশন
  • ভিডিও প্রেজেন্টেশন
  • প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন

-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন, সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিয়ে বাস্তবভিত্তিক ও বিজ্ঞানমনস্ক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

পুরস্কার বিতরণ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা

বিকেলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়ের

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন—

  • মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব
  • বুয়েটের ন্যানোম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলাম
  • ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম
  • সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ
  • নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের লেকচারার ড. একরাম উদ্দিন

“এটি কেবল প্রতিযোগিতা নয়, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মহড়া”

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন,

“এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের একটি সুদূরপ্রসারী বুদ্ধিবৃত্তিক মহড়া। তরুণদের উদ্ভাবনী মেধার সঙ্গে সততা ও দেশপ্রেম যুক্ত হলে কোনো অপশক্তিই দেশের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবির এমন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা শুধু ডিগ্রিধারী নয়—বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকটে বিজ্ঞানমনস্ক সমাধানের পথপ্রদর্শক হবে।

অতিথিদের মূল্যায়ন

আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন,

“নৈতিকতা ছাড়া মেধা কেবল দুর্নীতির জন্ম দেয়। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রয়োজন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং সততা-দেশপ্রেমের সমন্বিত চর্চা।”

তারা তরুণদের সমস্যার ভোক্তা নয়, সমাধানের নির্মাতা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

সুত্রঃ আমারদেশ

আরো পড়ুন

জুলাই শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গঠনের আলোচনা, এনসিপির উদ্যোগে নতুন সমন্বয়ের আভাস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নতুন করে ঐক্য গড়ার আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন শক্তি পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৃহত্তর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধে সরকারের সহায়তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঈদের আগেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ও প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। শহীদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে দেশকে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ