আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেন।
কীভাবে এ সিদ্ধান্ত এলো
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রমজান মাসে ২১ দিন স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি সরকারকে উকিল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাই আইন, রীতি ও প্রথা হিসেবে অনুসৃত হয়ে আসছে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কোনো কিছু কার্যকর করা যায় না এবং ১৫২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশে প্রচলিত প্রথা ও রীতিও আইনের মর্যাদা পায়।
এই প্রেক্ষাপটে রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই ছুটি
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিশু-কিশোরদের জন্য রোজা রেখে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্টসাধ্য। এতে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে তারা দূরে সরে যেতে পারে, যা ধর্মীয় চর্চার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকলে শহরাঞ্চলে যানজট আরও বেড়ে যায়, ফলে নগরবাসীকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়—এই বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আসে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা
এই রায়ের মাধ্যমে রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন, শারীরিক সুস্থতা এবং সামাজিক স্বাচ্ছন্দ্য- সবকিছুর মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





