রোজার নিয়ত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সহিহ হাদিসের আলোকে রমজানের রোজা সঠিক ও কবুল হওয়ার জন্য নিয়ত করা জরুরি। এই নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে- রোজার নিয়ত কখন করতে হবে, কীভাবে করতে হবে, মুখে বলা জরুরি কিনা? এই পূর্ণাঙ্গ গাইডটি সহিহ হাদিসের ভিত্তিতে রোজার নিয়তের সহ সবকিছু সহজভাবে ও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
নিয়ত কাকে বলে?
নিয়ত হল মনের ইচ্ছা, সঙ্কল্প বা প্রতিজ্ঞা করা। এটা অন্তরের কাজ, জিহবার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো কাজের প্রারম্ভে মনের মধ্যে যে দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করা হয়, এটাই হলো নিয়ত।
কেউ কেউ নিয়ত করার বদলে নিয়ত পড়েন এবং আরবীতে نَوَيْتُ أَنْ أَصُوْمَ غَدًا ‘‘নাওয়াইতু আন’’ বলে আরবীতে নিয়ত শুরু করেন এমন করলে কি সওয়াব বেশি হবে?
নিয়ত কখনই পড়তে বলা হয়নি, করতে বলা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম এবং চার মাযহাবের ইমামগণ কেউই মুখে মুখে নিয়ত পড়েননি বা উচ্চারণ করেননি।
কাজেই যারা নিয়ত পড়েন, মুখে মুখে বলেন এটা শুদ্ধ নয়। আর সওয়াব বেশি হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। সহিহ নির্দেশনা হলো নিয়ত করতে হবে, পড়তে নয়। কাজেই মুখে মুখে আরবীতে নিয়ত পড়লে এজন্য কোনো সওয়াব হবে না।
বিজ্ঞ উলামায়ে কিরাম বরং এটাকে বিদআত বলেছেন। বিশুদ্ধ পদ্ধতি হলো মনে মনে দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে নিয়ত করা।
রোজার নিয়ত কি? | Rojar Niyot
রোজার নিয়ত মানে মন থেকে রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প করা।
- নিয়ত মানে মন থেকে সংকল্প করা।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ।
- মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, মুখে নিয়ত করা কোনো সহিহ হাদিস থেকে পাওয়া যায় না।
- অনেক আলেম মুখে নিয়ত পড়া কে বিদয়াত বলেও দাবী করেছেন।
সহিহ হাদিসের ভিত্তিতে নিয়তের আসল অর্থ
ইসলামের অন্যতম মৌলিক ও বহুল প্রচলিত হাদিসটি হলো:
“প্রতিটি আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেকে তার নিয়তের ফলই পাবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯০৭)
তাই রোজার নিয়ত হলো হৃদয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প করা। আপনি যখন সাহরি খাওয়ার জন্য উঠছেন বা রাতে রোজা রাখার কথা ভাবছেন, তখনই আপনার নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যায়।
রোজার নিয়ত বাংলা | রোজার নিয়ত কখন করতে হয় ?
রোজার নিয়তের সময় রোজার প্রকারভেদে ভিন্ন হয়।
১. রমজানের ফরজ রোজা
রমজানের ফরজ রোজা রাখার জন্য ফজর উদয় হওয়ার আগেই অর্থাৎ রাতের মধ্যেই নিয়ত করে ফেলতে হবে। অর্থাৎ, আগের দিনের সূর্য ডোবার পর থেকে সাহরির শেষ সময় (ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ মুহূর্ত) পর্যন্ত যেকোনো সময় নিয়ত করা যথেষ্ট।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
مَنْ لَمْ يُجْمِعْ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلاَ صِيَامَ لَهُ
১. যে ব্যক্তি ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই সিয়াম পালনের নিয়ত করল না তার সিয়াম শুদ্ধ হল না। (আবূ দাঊদ : ২৪৫৪)
مَنْ لَمْ يَبِيْتِ الصِّيَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَلاَ صِيَامَ لَهُ
২. যে ব্যক্তি রাতের মধ্যেই সিয়ামের নিয়ত করল না তার সিয়াম শুদ্ধ হল না। (এ নির্দেশ শুধুমাত্র ফরয রোযার ক্ষেত্রে) (নাসাঈ : ৪/১৯৬)
২. নফল রোজার নিয়ত
নফল রোযার নিয়ত ফজরের আগে থেকে হওয়া জরুরী নয়। বরং দিনের বেলায় সূর্য ঢলার আগে বা পরে নিয়ত করলেই রোযা শুদ্ধ হয়ে যায়। তবে নফল রোযার ক্ষেত্রেও শর্ত হল, যেন নিয়ত করার আগে ফজর উদয় হওয়ার পর কোন রোযা নষ্টকারী জিনিস ব্যবহার না করা হয়। বলা বাহুল্য, যদি তা (পানাহার বা অন্য কিছু) ব্যবহার করে থাকে তাহলে রোযা হবে না। (আবদুল হামীদ ফাইযী)
৩. কাজা রোজার নিয়ত
রমজানের কাজা রোজা রাখার বিধান ফরজ রোজার মতোই। অর্থাৎ, এই রোজার নিয়ত ফজর উদয় হওয়ার আগেই অর্থাৎ রাতের মধ্যেই করে ফেলতে হবে।
রোজার নিয়ত কীভাবে করবেন?
নিয়ত মুখে না বললেও মন থেকে ইচ্ছা করলেই যথেষ্ট। আপনার মন যখন এই সংকল্প করে যে, “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল রোজা রাখব,” তখনই আপনার নিয়ত হয়ে যায়।
রমজানে মুখে উচ্চারণের প্রচলিত নিয়ত
রোজার নিয়ত আরবি
মুখে উচ্চারণের ক্ষেত্রে নিচে দেওয়া আরবী নিয়তটি অনেক অঞ্চলে প্রচলিত:
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
উচ্চারণ: “নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।”
রোজার নিয়ত বাংলা অর্থ
“হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।”
অন্যান্য কিছু রোজার নিয়ত
অন্যান্য নির্দিষ্ট রোজার ক্ষেত্রে কেবল নিয়তের সময় বা রোজা রাখার উদ্দেশ্যের কথা মনে মনে উল্লেখ করাই যথেষ্ট।
নফল রোজার নিয়ত | nofol rojar niyot
কেবল মনে মনে এই ইচ্ছা পোষণ করা যে, আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নফল রোজা রাখছেন।
নফল রোজার নিয়ত আরবি
আরবিতে নফল রোজার নিয়তের কোনো সহিহ দলিল নেই, তবে প্রচলিত নিয়তটি রমজানের নিয়তের মতোই।
নফল রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
নফল রোজার নিয়ত মুখে করার দরকার নেই, মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা স্মরণ করাই যথেষ্ট।
বাংলা অর্থ
মনে মনে সংকল্প করুন: “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আজ নফল রোজা রাখছি।” (যদি দ্বিপ্রহরের আগে নিয়ত করেন)
আরাফার রোজার নিয়ত
আরাফার দিন রোজা রাখার জন্য ফজর উদয় হওয়ার আগেই মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই নফল রোজা রাখার সংকল্প করতে হবে।
আশুরার রোজার নিয়ত
আশুরার (মুহাররম মাসের ১০ তারিখ) দিন রোজা রাখার জন্য ফজর উদয় হওয়ার আগেই মনে মনে এই নফল রোজা রাখার সংকল্প করতে হবে।
শবে বরাতের রোজার নিয়ত
শবে বরাতের (শা’বান মাসের ১৫ তারিখ) রোজা রাখার জন্য ফজর উদয় হওয়ার আগেই মনে মনে এই নফল রোজা রাখার সংকল্প করতে হবে।
সুন্নত রোজার নিয়ত
সোম ও বৃহস্পতিবারের মতো সাধারণ সুন্নত রোজার নিয়ত করার জন্য নফল রোজার মতোই ফজর উদয় হওয়ার আগে অথবা দ্বিপ্রহরের আগেই (যদি কিছু না খেয়ে থাকেন) সংকল্প করা যথেষ্ট।
রোজার নিয়ত মুখে বলা কি জরুরি?
সহিহ হাদিস অনুযায়ী:
- মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়।
- হৃদয়ের নিয়তই যথেষ্ট।
- অনেকে মুখে বলাকে বিদয়াত বলেছেন।
ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, ইবাদতের জন্য নিয়ত হলো হৃদয়ের দৃঢ় সংকল্প, মুখে উচ্চারণ করা কেবল একটি প্রচলিত প্রথা মাত্র, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
রোজার নিয়ত না করলে রোজা হবে কি?
- নিয়ত না করলে রোজা সহিহ হবে না।
- মনে মনে ইচ্ছা করাই নিয়ত হিসেবে গণ্য।
রোজা (সিয়াম) আল্লাহর জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক ইবাদত। ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য নিয়তকে পূর্বশর্ত করা হয়েছে। তবে নিয়ত মানেই মুখে আরবিতে কিছু বলা নয়, বরং রোজা রাখার জন্য আপনার মন থেকে ইচ্ছা বা সংকল্পই হলো নিয়ত। আপনি সেহরি খেলে বা সারাদিন না খেয়ে থাকার সংকল্প করলেই আপনার নিয়ত হয়ে যায়।
রোজার নিয়ত সম্পর্কিত সহিহ হাদিস
নিয়তের গুরুত্ব বোঝাতে ইসলামে একাধিক সহিহ হাদিস রয়েছে।
প্রতিটি কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল
সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এই মৌলিক হাদিসটি রয়েছে:
“আমলসমূহের ফলাফল নিয়ত বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল লাভ করবে।” (বুখারি, হাদিস: ১)
এই হাদিস অনুযায়ী, রোজার জন্যও নিয়ত বাধ্যতামূলক। নিয়ত ছাড়া রোজা কেবল উপবাস হিসেবে গণ্য হবে, ইবাদত হিসেবে নয়।
সেহরির বরকত সম্পর্কিত হাদিস
সেহরি খাওয়া নিয়তের একটি অন্যতম আলামত হিসেবে গণ্য হয়।
১. ‘‘তোমরা সেহরী খাও। কারণ, সেহরীতে বরকত আছে।’’ (বুখারী ১৮২৩, মুসলিম ১০৯৫নং)
২. “তোমরা সেহরী খেতে অভ্যাসী হও। কারণ, সেহরীই হল বরকতময় খাদ্য।’” (আহমাদ, মুসনাদ, নাসাঈ সহীহুল জামেইস সাগীর, আলবানী ৪০৮১নং)
৩. ইরবায বিন সারিয়াহ বলেন, একদা রমাযানে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আমাকে সেহরী খেতে ডাকলেন; বললেন, ‘‘বরকতময় খানার দিকে এস।’’ (আহমাদ, মুসনাদ, আবূ দাঊদ, নাসাঈ, ইবনে হিববান, সহীহ, ইবনে খুযাইমাহ, সহীহ, সহীহুল জামেইস সাগীর, আলবানী ৭০৪৩নং)
৪. ‘‘আমাদের রোযা ও আহলে কিতাবের রোযার মাঝে পার্থক্য হল সেহরী খাওয়া।’’ (মুসলিম ১০৯৬, আবূ দাঊদ ২৩৪৩, ফাসিঃ মুসনিদ ৯৮পৃঃ)
আপনি যখন বরকত লাভের উদ্দেশ্যে সেহরি খাওয়ার জন্য ওঠেন, তখন আপনার মনে রোজা রাখার সংকল্প তৈরি হয়, যা নিয়তের কাজ করে।
ভুল নিয়ত ও সংশোধনী
- শুধু মুখে পড়া কিন্তু মনে সংকল্প না করা = ভুল: যদি কেউ শুধু মুখে নিয়ত পড়ে, কিন্তু তার মনে রোজা রাখার কোনো সংকল্প না থাকে, তবে তার রোজা কবুল নাও হতে পারে।
- কাউকে খুশি করার জন্য রোজা = ইবাদত বাতিল: রোজা একটি ইখলাসের ইবাদত। যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য বা লোক দেখানোর জন্য রোজা রাখা হয়, তবে সেই ইবাদত বাতিল হয়ে যাবে।
সেহরি ও ইফতারের দোয়া
রোজার নিয়তের পাশাপাশি সেহরি ও ইফতারের দোয়া পাঠ করা সুন্নত।
ইফতারের দোয়া আরবি
১. ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ العُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
২. اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي
ইফতারের দোয়া বাংলা
ইফতারের জন্য সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত দোয়াটি হলো:
১. “যাহাবায যামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরূক্বু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।”
বাংলা অর্থ: “পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সতেজ হয়েছে এবং আল্লাহ চাহে তো প্রতিদান নিশ্চিত হয়েছে।” (আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৭)
২. “আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিরহ্মাতিকাল্লাতী ওয়াসি‘আত কুল্লা শাই’ইন আন তাগফিরা লী“
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার যে রহমত সকল কিছু পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে তার উসীলায় আবেদন করি, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
সেহরির দোয়া
সেহরির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া হাদিসে পাওয়া যায় না। তবে সেহরি শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা এবং শেষে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানানো মুস্তাহাব। অনেকে রোজার নিয়তকে সেহরির দোয়া হিসেবে পড়ে থাকেন।
রোজার ফজিলত (গুরুত্ব ও মর্যাদা)
রোজা ইসলামের একটি মহান ইবাদত, যা মানুষের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। কুরআন ও সহিহ হাদিসে রোজার অসংখ্য ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
১. আল্লাহ নিজেই রোজার প্রতিদান দেবেন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“রোজা আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
– রোজার মর্যাদা এতই মহান যে আল্লাহ তাআলা নিজেই এর পুরস্কার নির্ধারণ করেন।
২. তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
৩. জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামের বিশেষ দরজা
হাদিসে এসেছে—
রোজাদারদের জন্য জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামের একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যেখানে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবে।
(সহিহ বুখারি)
৪. গুনাহ মাফের মাধ্যম
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
৫. রোজা জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল
রোজা মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে ঢালের মতো কাজ করে।
(সহিহ বুখারি)
৬. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
রোজাদারের দোয়া ইফতারের আগে অবশ্যই কবুল হয়—এমন সুসংবাদ রয়েছে হাদিসে।
৭. আত্মসংযম ও চরিত্র গঠনের ইবাদত
রোজা মানুষকে ধৈর্য, সংযম, সহানুভূতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শিক্ষা দেয়।
শেষ কথা
রোজার নিয়ত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক সময়ে এবং সঠিক নিয়তে রোজা রাখলে রোজা সহিহ হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। সহিহ হাদিসে নিয়তের গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, তাই প্রতিদিন ফজরের আগে মন থেকে রোজা রাখার চিন্তা করাই যথেষ্ট। মুখে আরবী নিয়ত পড়া নয়, বরং মনের ইখলাস ও সংকল্পই রোজার নিয়তের মূল ভিত্তি।
রোজার নিয়ত সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. রোজার নিয়ত কীভাবে করতে হয়?
উত্তর: মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প করতে হয়।
২. নিয়ত কাকে বলে?
উত্তর: নিয়ত হলো মনের ইচ্ছা, সংকল্প বা প্রারম্ভিক প্রতিজ্ঞা।
৩. রোজার অর্থ কী?
উত্তর: রোজার অর্থ: সুবহে সাদিক থেকে শুরু থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত পানাহার ও রোজা ভঙ্গের কারণগুলো থেকে বিরত থাকা।
৪. সাহরির দোয়া কী?
উত্তর: সেহরির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। সেহরি শুরু করার সময় শুধু ‘বিসমিল্লাহ’ বলা উচিত।
৫. রোজার নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার বিধান কী?
উত্তর: সহিহ হাদিসের ভিত্তিতে মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, বরং এটি বিদআত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
৬. দোয়া কী?
উত্তর: দোয়া হলো আল্লাহর কাছে প্রার্থনা বা আরজি।
৭. নামাজের নিয়ত কখন করতে হয়?
উত্তর: নামাজ শুরু করার ঠিক আগে, অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমা বলার সাথে সাথে মনে মনে নিয়ত করতে হয়।
৮. নিয়ত অর্থ কী?
উত্তর: নিয়ত অর্থ: সংকল্প বা মনের দৃঢ় ইচ্ছা।
৯. নিয়ত কিভাবে করে?
উত্তর: মনে মনে যে ইবাদতটি করা হচ্ছে তার উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কিনা, সেই সংকল্প করার মাধ্যমে নিয়ত করতে হয়।
১০. রোজা রাখার নিয়ম কী?
উত্তর: নির্দিষ্ট সময় পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকা এবং ইবাদতগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করা।
১১. নামাজ শুরু করার আগে কোন দোয়া পড়তে হয়?
উত্তর: নামাজ শুরু করার আগে সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই, শুধু মনে মনে নিয়ত করে ‘আল্লাহু আকবার’ (তাকবীরে তাহরীমা) বলতে হয়।
১২. ইফতারের দোয়া কি?
উত্তর: “যাহাবায যামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরূক্বু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।”
১৩. নিয়াত কাকে বলে?
উত্তর: নিয়াত (বা নিয়ত) হলো মনের ইচ্ছা।
১৪. রোজা কী?
উত্তর: রোজা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত পানাহার ও অন্য নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার ইবাদত।
১৫. নফল রোজার আরবি নিয়ত কী?
উত্তর: নফল রোজার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আরবি নিয়ত সহিহ হাদিসে নেই।
১৬. রোজার নিয়তের বাংলা অর্থ কী?
উত্তর: “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখার নিয়ত করলাম।”
১৭. রোজা কত প্রকার?
উত্তর: রোজা মূলত দুই প্রকার: ফরজ রোজা (রমজানের) এবং নফল রোজা। এছাড়াও ওয়াজিব (কাজা, মানত) ও সুন্নাত রোজা রয়েছে।
১৮. রোজা কত বছর বয়সে ফরজ হয়?
উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) হলে রোজা ফরজ হয়।
১৯. নিয়ত কথার অর্থ কী?
উত্তর: নিয়ত কথার অর্থ: সংকল্প।
২০. নামাজে নিয়ত করা কি ফরজ?
উত্তর: হ্যাঁ, নামাজের শুদ্ধতার জন্য নিয়ত করা ফরজ।
২১. নিয়ত ঠিক হওয়া প্রয়োজন কেন?
উত্তর: নিয়ত ঠিক হওয়া প্রয়োজন, কারণ ইবাদতের উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে খুশি করা, যা নিয়তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়।
২২. পুরো রমাযানের জন্য শুরুর দিন একবার নিয়ত করে নিলে কি তা যথেষ্ট হবে?
উত্তর: হাঁ, তা হবে। তবে প্রতিদিনই নিয়ত করা মুস্তাহাব বা সুন্নাত। উল্লেখ্য যে, সাহরী খাওয়া সুন্নাত, কিন্তু নিয়ত করা ফরয।
২৩. রোজার নিয়ত করা কি ফরজ?
উত্তর: হ্যাঁ, রোজার নিয়ত করা ফরজ।
ব্যাখ্যা:
রোজা একটি ইবাদত, আর প্রত্যেক ইবাদতের শুদ্ধতার জন্য নিয়ত অপরিহার্য। নিয়ত বলতে মুখে উচ্চারণ বোঝায় না; বরং মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প করাই নিয়ত।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:
- নিয়ত মনে মনে করলেই যথেষ্ট
- মুখে নিয়ত পড়া ফরজ নয়
- রমজানের ফরজ রোজার নিয়ত রাতেই (সুবহে সাদিকের আগে) করা উত্তম
- সাহরি খাওয়াও নিয়তের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়
সুতরাং, নিয়ত ছাড়া রোজা সহিহ হবে না, তাই নিয়ত করা ফরজ।
২৪. রোজা রাখার দোয়া
উত্তর: রোজা রাখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ দোয়া বা আরবি নিয়ত হাদিসে প্রমাণিত নেই। রোজার নিয়ত মনে মনে করাই যথেষ্ট। তবে সহজ বোঝার জন্য বাংলায় বলা যায়—
বাংলা অর্থ (নিয়তের ভাব): “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আজকের রোজা রাখার নিয়ত করলাম।”