মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজান মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসে সিয়াম সাধনা করা ফরজ। সঠিক সময়ে সিয়াম পালন জরুরি। তাই সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী জানা প্রয়োজন। রমজানের সময় সূচি ২০২৬ নিচে দেওয়া হলো। এই তালিকাটি ঢাকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী তৈরি। অন্যান্য জেলায় সময় এক থেকে দুই মিনিট পরিবর্তন হতে পারে। আসুন জেনে নিই সেহরি ও ইফতারের দোয়া এবং তারিখ।
সেহরির দোয়া
সেহরি খাওয়ার নিয়ত করা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখার নিয়ত করতে হয়।
নিয়্যত: মুখে পড়ার চেয়ে অন্তরে নিয়্যত করা বেশি জরুরি।
মনে মনে স্থির করতে পারেন:
“হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখার নিয়্যত করলাম”
ইফতারের দোয়া (বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ)
ইফতারের সময় দোয়া –
ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
দোয়া বাংলা উচ্চারণ: যাহাবায যামা-উ অবতাল্লাতিল উরুকু অসাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লাহ।
অর্থ: পিপাসা দূরীভূত হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল এবং আল্লাহ চাহেন তো সওয়াব সাব্যস্ত হল। (সঃ জামে ৪/২০৯, আবু দাউদ ২/৩০৬ )।
২০২৬ সালের রোজার তারিখ ও সময়সূচী তালিকা
নিচের তালিকাটি ২০২৬ সালের রমজান মাসের সম্ভাব্য তারিখ ও সময় নির্দেশ করে। রোজার চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এক দিন আগে বা পরে হতে পারে।
| তারিখ | বার | সেহরির সময় | ইফতারের সময় |
|---|---|---|---|
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ | ৬:০৫ অপরাহ্ণ |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ | ৬:০৬ অপরাহ্ণ |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ | ৬:০৭ অপরাহ্ণ |
| ২০ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ | ৬:০৮ অপরাহ্ণ |
| ২১ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ | ৬:০৮ অপরাহ্ণ |
| ২২ ফেব্রুয়ারি | রবিবার | ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ | ৬:০৯ অপরাহ্ণ |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি | সোমবার | ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ | ৬:১০ অপরাহ্ণ |
| ২৪ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | ৫:০২ পূর্বাহ্ণ | ৬:১১ অপরাহ্ণ |
| ২৫ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | ৫:০১ পূর্বাহ্ণ | ৬:১২ অপরাহ্ণ |
| ২৬ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫:০০ পূর্বাহ্ণ | ৬:১২ অপরাহ্ণ |
| ২৭ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ | ৬:১৩ অপরাহ্ণ |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ | ৬:১৪ অপরাহ্ণ |
| ০১ মার্চ | রবিবার | ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ |
| ০২ মার্চ | সোমবার | ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ | ৬:১৬ অপরাহ্ণ |
| ০৩ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ | ৬:১৬ অপরাহ্ণ |
| ০৪ মার্চ | বুধবার | ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ | ৬:১৭ অপরাহ্ণ |
| ০৫ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ | ৬:১৮ অপরাহ্ণ |
| ০৬ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ | ৬:১৯ অপরাহ্ণ |
| ০৭ মার্চ | শনিবার | ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ | ৬:২০ অপরাহ্ণ |
| ০৮ মার্চ | রবিবার | ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ | ৬:২০ অপরাহ্ণ |
| ০৯ মার্চ | সোমবার | ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ | ৬:২১ অপরাহ্ণ |
| ১০ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ | ৬:২২ অপরাহ্ণ |
| ১১ মার্চ | বুধবার | ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৩ অপরাহ্ণ |
| ১২ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৩ অপরাহ্ণ |
| ১৩ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৪ অপরাহ্ণ |
| ১৪ মার্চ | শনিবার | ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৫ অপরাহ্ণ |
| ১৫ মার্চ | রবিবার | ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৬ অপরাহ্ণ |
| ১৬ মার্চ | সোমবার | ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৬ অপরাহ্ণ |
| ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৭ অপরাহ্ণ |
| ১৮ মার্চ | বুধবার | ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৮ অপরাহ্ণ |
| ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ | ৬:২৯ অপরাহ্ণ |
সেহরির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট
সেহরি খাওয়া ইসলামে অত্যন্ত বরকতময় একটি আমল। নবীজী (সা.) এর হাদিসে এর তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। মুমিন মুসলমানের জন্য এটি একটি সুন্নাত। সেহরি খাওয়া শরীরে শক্তি যোগায়। এটি পুরো দিনের রোজা রাখা সহজ করে। আল্লাহ তায়ালা সেহরি খাওয়ার উম্মতকে বিশেষ রহমত দান করেন। ফেরেশতারাও সেহরি গ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করেন। এই নেক আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে আরো কাছে যায়। সেহরি শুধুমাত্র খাবার নয়, বরং এটি ইবাদতের অংশ। শেষ রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠা আল্লাহর স্মরণের বহিঃপ্রকাশ। এটি রোজাকে সুস্থ ও সবল থাকার ক্ষমতা দেয়। প্রতিটি মুসলিমের উচিত সেহরির সময় নির্ধারণ মেনে চলা। এটি একটি মহৎ সৌভাগ্যের বিষয়।
১. বরকতময় অধ্যায়: সেহরির সময় অত্যন্ত বরকতময় বলে গণ্য হয়। হাদিসে এসেছে, সেহরিতে বরকত রয়েছে। তাই প্রত্যেক রোজাদারের এই সময় উপকৃত হওয়া উচিত।
২. ফেরেশতাদের দোয়া: যেসব বান্দা সেহরি খায়, আকাশের ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমত কামনা করেন। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিষয়।
৩. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের থেকে ভিন্নতা: আমাদের নবী (সা.) সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে আলাদা হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
৪. সারাদিনের শক্তি: সারাদিন রোজা রাখার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। সেহরি সেই শক্তি যোগান দেয়। ফলে বান্দা সহজেই সিয়াম পালন করতে পারে।
৫. আল্লাহর নৈকট্য লাভ: সেহরি খাওয়া আল্লাহর আদেশ পালনের একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে বান্দা তার প্রতিপালকের সান্নিধ্য লাভ করে।
৬. নেক আমল: সেহরি খাওয়া একটি নেক আমল। এই ছোট কাজটির মাধ্যমে মানুষ বিশাল পুণ্য অর্জন করতে পারে।
৭. শেষ রাতের জাগরণ: সেহরির জন্য ঘুম থেকে ওঠা শেষ রাতের ইবাদতের অংশ। এটি মানুষকে পাপমুক্ত জীবন যাপনে সাহায্য করে।
ইফতারের ফজিলত ও সঠিক নিয়মাবলী
ইফতার করা রোজাদারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত। দিনভর পানাহার বর্জনের পর ইফতারের সময় আসে। আল্লাহ বলেন, রোজাদারদের জন্য দুটি আনন্দের সময় রয়েছে। একটি হলো ইফতারের সময়। ইফতারের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর শোকর আদায় করে। সূর্যাস্তের সাথে সাথেই ইফতার করা মুস্তাহাব। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নাত। খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করা যায়। ইফতারের আগে দোয়া পড়া উত্তম। দীর্ঘসময় পর খাবার গ্রহণ করার কারণে শরীরে শান্তি ফিরে আসে। আল্লাহ রোজাদারের দোয়া কবুল করেন। ইফতারের সময় গরিব ও অভাবীদের খাওয়ানো বড় সওয়াব।
১. দোয়া কবুলের সময়: ইফতারের মুহূর্তটি দোয়া কবুলের জন্য বিখ্যাত। এই সময় বান্দা মন খুলে আল্লাহর কাছে চাইতে পারে।
২. খেজুরের গুরুত্ব: খেজুর দিয়ে ইফতার করা নবীজীর সুন্নাত। এতে শরীরে দ্রুত শক্তি ফিরে আসে। খেজুর স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
৩. তাড়াতাড়ি ইফতার: সূর্যাস্তের পর দ্রুত ইফতার করা উচিত। দেরি না করে সাথে সাথে ইফতার করা বেশি উত্তম।
৪. গরিবকে খাওয়ানো: ইফতারের সময় গরিব মানুষকে খাবার দেওয়া অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
৫. শুকরিয়া আদায়: আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা জরুরি। ইফতার করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর শোকর জ্ঞাপন করি।
৬. মেজাজ শান্ত রাখা: সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর ইফতার করলে শরীর ও মন শান্ত হয়। এটি মানুষকে স্থির রাখতে সাহায্য করে।
৭. দোয়া পাঠ: ইফতারের আগে বিশেষ দোয়া পাঠ করা উচিত। এই দোয়া পড়ে তারপর ইফতার শুরু করলে বেশি বরকত হয়।
রমজান মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও মহত্ত্ব
রমজান মাস হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ এই মাসে বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে। শয়তান শৃঙ্খলিত হয়ে যায়। তাই এই মাসে পাপ করা সহজ নয়। মানুষ সহজেই নেক কাজ করতে পারে। তাকওয়া অর্জন করা রোজার প্রধান উদ্দেশ্য। রমজান মানুষকে সৎকর্মপরায়ণ হতে শেখায়। এই মাসে তারাবির নামাজ পড়া হয়। কোরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব বেড়ে যায়। দান-খয়রাত করার প্রবণতা বাড়ে।
১. শবে কদর: রমজান মাসে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর রয়েছে। এই রাত্রি হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এই রাতে ইবাদত করলে অঢেল সওয়াব পাওয়া যায়।
২. কোরআন নাজিল: পবিত্র কোরআন এই মাসে নাজিল হয়েছে। তাই এই মাসে কোরআন পড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৩. জান্নাতের দরজা: এই মাসে জান্নাতের সাতটি দরজা খোলা থাকে। মুমিনরা সহজেই নেক আমলের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারে।
৪. জাহান্নামের তালা: জাহান্নামের সব দরজা এই মাসে বন্ধ করে দেওয়া হয়। গুনাহগাররাও এই মাসে আল্লাহর ক্ষমা পেতে পারে।
৫. তাকওয়া অর্জন: রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়। এটি চরিত্র গঠনে সাহায্য করে।
৬. সহমর্মিতা বৃদ্ধি: রোজা রাখার ফলে গরিব মানুষের কষ্ট অনুভব করা যায়। এতে ধনী ও গরিবের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
৭. মাফ চাওয়া: রমজান মাসে আল্লাহ বান্দাদের পাপ মাফ করে দেন। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত তওবা করা।
রোজা রাখার স্বাস্থ্য উপকারিতা ও বিজ্ঞানসম্মত দিক
রোজা শুধু ইবাদত নয়, এটি শরীরের জন্যও উপকারী। বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণায় এটি প্রমাণ করেছেন। রোজা শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূর করে। এটি পাকস্থলীকে বিশ্রাম দেয়। হজম শক্তি বাড়ে। ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। মানসিক চাপ কমে যায়। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে। সামগ্রিকভাবে শরীর সতেজ থাকে। তবে ইফতারে ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়। সেহরিতে শাকসবজি খাওয়া ভালো। পানি পান করা জরুরি।
১. ডিটক্সিফিকেশন: রোজা রাখলে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের হয়ে যায়। এটি শরীরকে পরিষ্কার রাখে।
২. ওজন কমানো: নিয়মিত রোজা রাখলে অতিরিক্ত ওজন কমে যায়। এটি স্থূলতা দূর করতে সাহায্য করে।
৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমা: রোজা হার্টের জন্য ভালো। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোলেস্টেরল কমায়।
৪. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা: রোজা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
৫. মস্তিষ্কের উন্নতি: রোজা মস্তিষ্কের ফাংশন উন্নত করে। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৬. ত্বকের সৌন্দর্য: রোজা ত্বকের জন্য উপকারী। এটি ব্রণ এবং ত্বকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
৭. শক্তি বৃদ্ধি: রোজার পর শরীরে নতুন শক্তি সঞ্চারিত হয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
রোজা ভঙ্গের কারণ ও সতর্কতা সমূহ
রোজা একটি ফরজ ইবাদত। কিন্তু কিছু কাজ রোজা ভঙ্গ করে। জেনে বুঝে এই কাজগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার খাওয়া রোজা ভঙ্গ করে। পানি পান করলেও রোজা ভেঙে যায়। সহবাস করলে রোজা নষ্ট হয়। মিথ্যা বলা বা গীবত করা রোজার মর্যাদা নষ্ট করে। যদিও এগুলো শারীরিকভাবে রোজা ভাঙে না, কিন্তু সওয়াব নষ্ট হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত রোজা বিনষ্ট করে। মহিলাদের হায়েজ বা নেফাস থাকলে রোজা হয় না। অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। পরে এই রোজাগুলো কাযা করতে হয়।
১. ইচ্ছাকৃত ভোজন: জেনে শুনে দিনের বেলায় কিছু খেলে রোজা ভেঙে যায়। এর জন্য কাফফারা দিতে হতে পারে।
২. সহবাস: রোজার দিনে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস নিষিদ্ধ। এটি রোজা নষ্ট করার অন্যতম কারণ।
৩. ইনজেকশন বা পুষ্টি প্রয়োগ: খাবারের পরিবর্তে শরীরে সরাসরি পুষ্টি দিলে রোজা ভঙ্গ হতে পারে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
৪. ঋতুস্রাব: মহিলাদের মাসিক বা হায়েজ হলে রোজা রাখা যায় না। এটি শরীয়তসম্মত বিধান।
৫. মিথ্যা ও অপবাদ: মিথ্যা বলা, অন্যকে গালি দেওয়া রোজার ফজিলত নষ্ট করে। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
৬. অসুস্থতা: গুরুতর অসুস্থ হলে রোজা না রাখার অনুমতি আছে। স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করা জরুরি।
৭. ভুলবশত ভঙ্গ: ভুলবশত খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙে না। সাথে সাথে রোজা পূর্ণ করে ইফতার করতে হবে।
তারাবির নামাজ ও রমজানের ইবাদত
তারাবির নামাজ রমজান মাসের একটি বিশেষ ইবাদত। এটি ইশার নামাজের পর পড়া হয়। বিশ রাকাত তারাবি পড়া সুন্নাত। এতে পুরো কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। মসজিদে জামাতের সাথে তারাবি পড়া উত্তম। নারীরাও ঘরে তারাবি পড়তে পারেন। তারাবির সময় দোয়া ও জিকির করা ভালো। শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করা একটি উত্তম আমল। রমজানের প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ পড়া উচিত। আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ শান্তি পায়।
১. কোরআন খতম: তারাবির নামাজে হাফেজ সাহেবরা কোরআন তিলাওয়াত করেন। শ্রোতারা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
২. জামাতের ফজিলত: মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ পড়ার সওয়াব অনেক বেশি। তাই তারাবিতে জামাতে শামিল হওয়া ভালো।
৩. ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশকে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। এটি একটি অত্যন্ত নেক আমল।
৪. তাহাজ্জুদ: শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া উত্তম। এই সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা বেশি ফলপ্রসূ।
৫. দোয়া ও মুনাজাত: তারাবির পর দোয়া ও মুনাজাত করা উচিত। নিজের এবং উম্মাহর জন্য দোয়া চাওয়া জরুরি।
৬. দান-সাদকাহ: রমজান মাসে দান-সাদকাহ করার প্রবণতা বাড়ে। আল্লাহ এই মাসের দানকে সত্তর গুণ বাড়িয়ে দেন।
৭. ক্ষমা প্রার্থনা: রমজান মাসে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা উচিত। আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন।
রমজান শেষে ঈদের প্রস্তুতি ও জাকাত প্রদান
রমজান শেষ হলে মুসলমানদের জন্য ঈদুল ফিতর আসে। এটি আনন্দের দিন। ঈদের আগে জাকাত ফিতর দেওয়া ফরজ। গরিব মানুষকে সাহায্য করার জন্য এটি দেওয়া হয়। নতুন জামা কেনা ঈদের অঙ্গ। শিশুরা খুব আনন্দিত থাকে। ঈদের নামাজ জামাতে পড়া হয়। একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করা হয়। ঈদ মোবারক বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করে। রমজানের সুশিক্ষা সারা বছর বাস্তবায়ন করা উচিত।
১. জাকাত ফিতর: ঈদের নামাজের আগে জাকাত ফিতর দেওয়া ওয়াজিব। এটি গরিবদের ঈদের আনন্দ ভাগ করে দেয়।
২. ঈদের নামাজ: ঈদের দিন সকালে ঈদগাহে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়া হয়। এটি ওয়াজিব ইবাদত।
৩. নতুন পোশাক: ঈদের দিন সবাই নতুন জামা-কাপড় পরে। এটি সৌন্দর্য বাড়ায় এবং আনন্দ আনে।
৪. শুভেচ্ছা বিনিময়: পরস্পর ঈদ মোবারক বলে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এতে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ে।
৫. সাক্ষাৎ: বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের সাথে দেখা করা হয়। সম্পর্ক মজবুত হয়।
৬. খাবার আয়োজন: ঈদের দিন বিশেষ খাবার রান্না করা হয়। সেমাই, পোলাও এবং অন্যান্য সুস্বাদু খাবার খাওয়া হয়।
৭. আল্লাহর শোকর: আল্লাহ যে আমাদের রমজান পূর্ণ করতে সাহায্য করেছেন তার জন্য শোকর আদায় করা।
সাতটি সাধারণ প্রশ্ন এবং উত্তর
১. ২০২৬ সালে বাংলাদেশে রোজা কবে শুরু হবে?
উত্তর: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হতে পারে।
২. সেহরির শেষ সময় কখন?
উত্তর: সেহরির শেষ সময় সুবহে সাদেকের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। ভোর হওয়ার আগেই খাওয়া শেষ করতে হবে।
৩. ইফতারের আগে কোন দোয়া পড়তে হয়?
উত্তর: ইফতারের আগে “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু” দোয়াটি পড়তে হয়।
৪. রোজা রাখার নিয়ত কিভাবে করব?
উত্তর: মনে মনে নিয়ত করা যথেষ্ট। বলা যেতে পারে, “আমি আগামীকালের রোজা রাখার নিয়ত করলাম।”
৫. রোজার দিনে টুথপেস্ট ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তর: সতর্কতার সাথে টুথপেস্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে এটি গলার ভেতর চলে গেলে রোজা ভেঙে যেতে পারে।
৬. অসুস্থ ব্যক্তির রোজা করণীয় কী?
উত্তর: অসুস্থতা গুরুতর হলে রোজা না রাখতে পারেন। সুস্থ হওয়ার পর রোজাগুলো কাযা করতে হবে।
৭. শবে কদর কবে পালন করা হয়?
উত্তর: রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখ) শবে কদর অনুষ্ঠিত হয়।