বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক। সেখানে দাবি করা হয়েছে-অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিনিয়োগে চমক দেখাতে পারেনি। কিন্তু ব্যবহৃত সময়সীমা ও উপস্থাপনার ধরন খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এটি পূর্ণ বাস্তবতা নয়; বরং বিভ্রান্তিকর ফ্রেমিংয়ের উদাহরণ।
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য এলো বড় সুযোগ ও আশার বার্তা। আর্থিক ঝুঁকি মোকাবেলায় উদ্ভাবনী বীমা সমাধানের ধারণা উপস্থাপন করলে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল সরকার। টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। একই সঙ্গে দেশের কৃষিখাতকে শক্তিশালী করতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অর্থ পাচার ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের আর্থিক খাত। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নেমে আসে চরম অস্থিরতা-ডলার সংকট, রিজার্ভের পতন, তারল্য ঘাটতি এবং আমানতকারীদের ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ার হিড়িক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বাংলাদেশের সমুদ্র বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২২টি আধুনিক মাদার ভেসেল সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু)–এর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের আমদানি বিল পরিশোধের পরও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রয়েছে। গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক আকুর কাছে ১.৬১ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অর্থ পরিশোধ করেছে, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির স্বাভাবিক নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার অংশ।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে রেমিট্যান্স ছাড়াল ১০ বিলিয়ন ডলার । প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ১০.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
এটি টাকায় প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা।
ফলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স ১৩.৫৬% বৃদ্ধি পেয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ২.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে)।
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতি কঠিন চাপে পড়েছিল। তবে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।