প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি—১১তম গ্রেড অবশেষে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বিষয়টি এখনও “নন-অফিশিয়াল” হলেও মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার ভোলার মনপুরা উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।
নন-অফিশিয়াল হলেও প্রক্রিয়া এগোচ্ছে
উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন:
“শিক্ষকদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। নন-অফিশিয়ালভাবে জানতে পেরেছি-এই দাবি বাস্তবায়িত হবে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বেতন কমিশন গঠনের সময়ও সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং পে-কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা বহুদিন ধরে বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এর ফলে বহু জায়গায় বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি মন্ত্রণালয়ের।
উপদেষ্টা বলেন:
“আমি জানতে পেরেছি ১১টি শিক্ষক সংগঠন ইতোমধ্যেই আন্দোলন স্থগিত করেছে। আশা করছি বাকিরাও পরীক্ষার স্বার্থে একই সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি
রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী শিক্ষকদের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়:
- প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড
- সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড
উন্নীতকরণের দাবি “যৌক্তিক” হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ নিয়ে অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়-
পে-কমিশনে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণ নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পেলেই অর্থ বিভাগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
কেন এই গ্রেড উন্নীতকরণ গুরুত্বপূর্ণ?
প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি—সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব, কাজের পরিধি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান বিবেচনায় ১১তম গ্রেড খুবই যৌক্তিক।
অনেক শিক্ষকের অভিযোগ ছিল-
- একই গ্রেডে বহু বছর আটকে থাকা
- দায়িত্ব ও কর্মঘণ্টার তুলনায় বেতন কম
- জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমতা না থাকা
গ্রেড উন্নীত হলে প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, নতুন শিক্ষক নিয়োগে আগ্রহ বাড়বে এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন শিক্ষকদের করণীয় কী?
মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই শিক্ষক সংগঠনগুলোকে কর্মসূচি স্থগিত রেখে-
- পরীক্ষা গ্রহণ
- ছাত্রদের ব্যাঘাত না ঘটানো
- সঙ্গতিপূর্ণ দাবিকে বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া
-এমন আহ্বান জানিয়েছে।