রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

তরুণরাই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি: ডঃ ইউনূসের উদ্দীপনাময় বার্তা

বহুল পঠিত

তরুণদের জন্য ডঃ ইউনূসের বার্তা হলোতোমরাই বর্তমান, তোমরাই ভবিষ্যৎ গড়বে।
গতকাল রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সুইডেন ও নরওয়ের তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “অনেকে বলেন তরুণরা ভবিষ্যৎ। কিন্তু আমি বলি তরুণরাই বর্তমান। তোমরাই প্রযুক্তি, চিন্তা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ব বদলে দিতে পারো।”

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের দুনিয়ায় তরুণরা

তিনি আরও বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আজকের তরুণরা এক নতুন সম্ভাবনার যুগে প্রবেশ করেছে। তোমাদের স্বপ্নই হতে পারে একটি নতুন, মানবিক পৃথিবীর নকশা।”

বৈশ্বিক তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময়

সুইডেন ও নরওয়ের প্রতিনিধিদলে ছিলেন-
নিকোলাস উইকস, হকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, অ্যালিস ল্যান্ডারহোম, অ্যান্টন হোল্মলুন্ড, হান্না লিন্ডকভিস্টসহ অনেকে।

এই আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং নর্ডিক অফিসের কর্মকর্তারা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে যুব সমাজের ভূমিকা

অধ্যাপক ইউনূস স্মরণ করিয়ে দেন- “জুলাই মাসে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ছিল এক ঐতিহাসিক মোড়। অসংখ্য তরুণ তখন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি করেছিল।”

সরকার এরই মধ্যে সংস্কারমূলক কমিশন গঠন করেছে এবং ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’-এ অংশ নিয়েছে।

তরুণদের চোখে বাংলাদেশ

তরুণদের জন্য ডঃ ইউনূসের বার্তা শুধু বক্তব্য নয়, এটি দেশের ভেতরের চিত্র তুলে ধরার আহ্বান। তিনি তরুণ নেতাদের উদ্দেশে বলেন: “বাংলাদেশের প্রতিটি রাস্তা, দেয়ালচিত্র, প্রতিবাদলিপি তরুণদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের কথা বলে। এগুলোই জীবন্ত ইতিহাস।”

থ্রি-জিরো ও সোশ্যাল বিজনেস মডেল

আলোচনায় উঠে আসে ইউনূসের বিখ্যাত থ্রি জিরো লক্ষ্য:

  1. শূন্য কার্বন নিঃসরণ
  2. শূন্য সম্পদ বৈষম্য
  3. শূন্য বেকারত্ব

তিনি বলেন, “এই তিনটি লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল বিজনেসের মাধ্যমেই একটি মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব।”

তরুণদের জন্য ডঃ ইউনূসের বার্তা একটি স্পষ্ট ও শক্তিশালী আহ্বান-

“পরিবর্তন ভবিষ্যতের জন্য নয়- পরিবর্তন চাই এখনই। আর এই পরিবর্তন আনবে তরুণরাই।”

আরো পড়ুন

ঢাকায় ফিরছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন (Brent Christensen)। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে ওয়াশিংটনস্থ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এক অনাড়ম্বর কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে বড় অগ্রগতি: শুল্ক কমানো ও রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ