শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে বিক্রি করবে এফ‑৩৫ যুদ্ধবিমান: ২০২৫ প্রতিরক্ষা চুক্তি

বহুল পঠিত

যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে তারা সৌদি আরবকে এফ‑৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান বিক্রি করবে। এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সৌদি আরব তাদের “দারুণ মিত্র” এবং তারা এফ‑৩৫ বিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি ৪৮টি এফ‑৩৫ যুদ্ধবিমান কিনবে।

এফ‑৩৫ যুদ্ধবিমানের বিশদ

এফ‑৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান হলো আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান। এটি স্টিলথ ক্ষমতা, উন্নত রাডার এবং কম রাডার-গ্রাস ক্ষমতা প্রদান করে।
বিমানটি আকাশে দ্রুত গতিতে হামলা চালাতে সক্ষম এবং নিরাপদভাবে ধ্বংসাত্মক মিশন সম্পন্ন করতে পারে।
একটি এফ‑৩৫ বিমান গড়ে প্রায় ৮২.৫ মিলিয়ন ডলার দামে বিক্রি হতে পারে।

চুক্তি ও কূটনৈতিক প্রভাব

এই চুক্তি শুধু বিক্রয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও দৃঢ় করবে।
সৌদি হবে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের পর দ্বিতীয় দেশ, যারা এফ‑৩৫ পাবে।
এটি কেবল প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াবে না, বরং কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

ইসরায়েল এই বিক্রয়কে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে, এফ‑৩৫ বিক্রয় তাদের সামরিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসও বিক্রয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার কারণে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই বিক্রয়কে গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

যদি সৌদি এফ‑৩৫ সফলভাবে পায়, তাহলে তাদের বিমানবাহিনী অনেক শক্তিশালী হবে।
স্টিলথ প্রযুক্তি, উন্নত রাডার এবং কম রাডার-গ্রাস ক্ষমতা সৌদি বিমানবাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে।
এটি তাদের আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে এবং সামরিক মিশনকে আরও কার্যকর করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রভাব

এই বিক্রয় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
এফ‑৩৫ বিক্রয় মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য এবং নিরাপত্তার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রের এফ‑৩৫ বিক্রয় সৌদি আরবকে আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করবে।
এটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।
সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

আরো পড়ুন

ট্রাম্পের ‘ড্রিম মিলিটারি’ মিশন: ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ অর্থ বছরের জন্য তিনি রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব...

ডেলসি রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ

দক্ষিণ আমেরিকায় রাজনৈতিক ভূমিকম্প: মাদুরোর পতন ও নতুন নেতৃত্ব ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল ধাক্কা লেগেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতা এখন অপসারিত। নিকোলাস মাদুরোকে...

গাজায় মানবিক সেবার ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জাতিসংঘের

গাজার সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফেরাতে এবং মানবিক সংকট দূর করতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর পথ সুগম করতে তিনি ইসরায়েলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। শান্তির এই যাত্রায় সংঘাত নয়, বরং মানুষের জীবন বাঁচানোই এখন বিশ্বের প্রধান অগ্রাধিকার।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ