মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

বাতাস থেকে পানি: নোবেলজয়ী ওমর ইয়াগির আবিষ্কার বদলে দেবে বিশ্ব

বহুল পঠিত

বিশ্বজুড়ে যখন সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় মানবজাতির জন্য এক যুগান্তকারী আশার বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন ২০২৫ সালের রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ওমর ইয়াগি। তার উদ্ভাবিত এক অভিনব প্রযুক্তি বাতাস থেকেই টেনে আনতে সক্ষম বিশুদ্ধ পানীয় জল- যা খরা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা দুর্যোগকালে হয়ে উঠতে পারে জীবনরক্ষাকারী সমাধান।

কীভাবে কাজ করে এই বিস্ময়কর প্রযুক্তি?

অধ্যাপক ইয়াগির প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Atoco এই যন্ত্রটি তৈরি করেছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে বিজ্ঞানের একটি আধুনিক শাখা, যাকে বলা হয় রেটিকুলার কেমিস্ট্রি

সহজভাবে বললে,
এই যন্ত্রে ব্যবহৃত বিশেষ আণবিক কাঠামো বাতাসের আর্দ্রতা স্পঞ্জের মতো শোষণ করে। এমনকি মরুভূমির মতো অতিশয় শুষ্ক পরিবেশেও এটি কার্যকর। প্রায় ২০ ফুট লম্বা একটি শিপিং কনটেইনারের সমান এই ইউনিটটি চালাতে লাগে খুবই সামান্য তাপশক্তি।

দুর্যোগেও থামবে না পানির জোগান

ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প বা ভয়াবহ বন্যায় যখন বিদ্যুৎ ও পানির পাইপলাইন অচল হয়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগে বিশুদ্ধ পানির অভাবে। এই প্রযুক্তি সেই দুর্দশার সময়েই হতে পারে শেষ ভরসা।

অধ্যাপক ইয়াগির মতে—

  • প্রতিটি ইউনিট থেকে দৈনিক প্রায় ১,০০০ লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন সম্ভব
  • এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং সমুদ্র বা নদীর বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে না
  • দুর্গম অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল ও খরাপ্রবণ এলাকার জন্য এটি আদর্শ সমাধান

কেন এই আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ?

জাতিসংঘ–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পৃথিবী এখন ‘বৈশ্বিক পানি দেউলিয়াত্বের যুগে’ প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২২২ কোটি মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছেন।

প্রচলিত সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রযুক্তি ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সেই তুলনায় বাতাস থেকে পানি সংগ্রহের এই পদ্ধতি অনেক বেশি টেকসই, সাশ্রয়ী ও পরিবেশসম্মত

শৈশবের তৃষ্ণা থেকেই বৈজ্ঞানিক বিপ্লব

অধ্যাপক ওমর ইয়াগির এই উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়ছোঁয়া জীবনের গল্প। তিনি বড় হয়েছেন জর্ডানের একটি উদ্বাস্তু শিবিরে—যেখানে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। সপ্তাহে মাত্র একদিন পানি আসত, আর সেই পানি সংগ্রহের জন্য ছোটবেলায় তাকে ছুটতে হতো হাহাকার নিয়ে।

শৈশবের সেই তীব্র পানির অভাবই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে এমন এক প্রযুক্তি তৈরিতে, যা আজ সারা বিশ্বের কোটি মানুষের তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে।

দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্য নতুন দিগন্ত

ক্যারিবীয় অঞ্চলের গ্রেনাডা কিংবা ক্যারিয়াকো দ্বীপ–এর মতো দ্বীপাঞ্চলে প্রতিবছর খরা ও ঘূর্ণিঝড় মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে তোলে। এসব অঞ্চলে মূল ভূখণ্ড থেকে ব্যয়বহুলভাবে পানি আমদানি করতে হয়।

স্থানীয় পরিবেশবিদদের মতে, এই প্রযুক্তি চালু হলে-

  • পানি আমদানির খরচ কমবে
  • দুর্যোগকালে জীবন রক্ষা সহজ হবে
  • দ্বীপাঞ্চলের পানির স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে

বিজ্ঞানকে আলিঙ্গনের আহ্বান

অধ্যাপক ওমর ইয়াগি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন-

“জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে শুধু কার্বন নিঃসরণ কমালেই হবে না। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিজ্ঞানের সাহসী ও মানবিক উদ্ভাবনগুলোকে গ্রহণ করতে হবে।”

তার এই আবিষ্কার প্রমাণ করে- বিজ্ঞান চাইলে বাতাস থেকেও জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, পানি, এনে দিতে পারে।

আরো পড়ুন

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত: লাখো চাকরির সুযোগ

আধুনিক প্রযুক্তির “হৃৎপিন্ড” হিসেবে পরিচিত সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্বের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপুল প্রভাব বিস্তার করছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট—প্রায় সব ডিভাইসেই সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার অপরিহার্য।

অ্যাপল আনছে এআই-ভিত্তিক স্মার্ট চশমা, পেনড্যান্ট ও ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপডস

টেক জগতের জায়ান্ট অ্যাপল (Apple Inc.) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক তিনটি নতুন ডিভাইস বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মার্ট চশমা, এআই-চালিত পেনড্যান্ট এবং ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপডস,

কুংফু শিখল রোবট! শাওলিন মন্দিরে চীনের এআই কীর্তিতে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন

রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দৌড়ে আবারও বিশ্বকে চমকে দিল চীন। সম্প্রতি দেশটির একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমন মানব সদৃশ (হিউম্যানয়েড) রোবট তৈরি করেছে, যা নিখুঁতভাবে কুংফু বা মার্শাল আর্ট অনুশীলন করতে সক্ষম।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ