স্বর্ণের ইতিহাস ও উৎপত্তি
স্বর্ণ মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি ধাতু। প্রাচীনকাল থেকেই এটি সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। মিশরীয় সভ্যতায় রাজারা এই ধাতু ব্যবহার করতেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর কদর ছিল অপরিসীম। মানুষ আগে মুদ্রার বদলে সোনা দিত। সমুদ্রের তলায়ও এর খোঁজ মিলেছে অনেক সময়। এটি প্রকৃতির এক অপূর্ব দান। ইতিহাস থেকে জানা যায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।
১. প্রাচীন মিশরে ফেরাউনরা স্বর্ণ ব্যবহার করতেন।
২. রোমান সাম্রাজ্যে এটি ছিল শক্তির প্রতীক।
৩. ভারতীয় উপমহাদেশে এটি ধর্মীয় কাজে লাগে।
৪. মধ্যযুগে ব্যবসায়ীরা এর মাধ্যমে বাণিজ্য করত।
৫. আমেরিকার আদিবাসীরাও একে ভক্তির পাত্র মানত।
৬. আবিষ্কারের পর থেকেই এর চাহিদা বাড়তে থাকে।
৭. বিংশ শতাব্দীতে এর বাজার দর দ্রুত বাড়ে।
স্বর্ণের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও গঠন
স্বর্ণ একটি নরম এবং চকচকে ধাতু। এর রাসায়নিক প্রতীক হলো Au। পিরিয়ডিক টেবিলে এর স্থান অনেক উঁচুতে। এটি সহজেই গলে যায় তাপের সংস্পর্শে। বাতাসে এটি জারিত হয় না কখনও। এই ধাতু বিদ্যুৎ এবং তাপের ভালো পরিবাহক। একে পাতলা পাতে প্রসারিত করা যায় সহজে। এর বর্ণ হলুদ এবং আকর্ষণীয়।
১. স্বর্ণের পারমাণবিক সংখ্যা হলো ৭৯।
২. এটি অত্যন্ত নমনীয় এবং নরম ধাতু।
৩. সাধারণ এসিডে এটি দ্রবীভূত হয় না।
৪. রূপার সাথে মিশলে এর রং পাল্টায়।
৫. এর ঘনত্ব পানির চেয়ে অনেক বেশি।
৬. বিশুদ্ধ স্বর্ণ তেমন কঠিন হয় না।
৭. এটি অন্য ধাতুর সাথে মিশ্রণ তৈরি করে।
স্বর্ণের ক্যারেট বা বিশুদ্ধতা যাচাই
স্বর্ণের বিশুদ্ধতা মাপা হয় ক্যারেটের মাধ্যমে। ২৪ ক্যারেট হলো সবচেয়ে বেশি বিশুদ্ধ। ২২ ক্যারেট সোনা গয়নায় বেশি ব্যবহৃত হয়। এতে অন্য ধাতুর মিশ্রণ থাকে কিছুটা। ১৮ ক্যারেট সোনা কঠিন হয় তুলনামূলকভাবে। বাংলাদেশে সাধারণত ২১ এবং ২২ ক্যারেট চলে। বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। হলমার্ক দেখলে বোঝা যায় মান।
১. ২৪ ক্যারেটে কোনো মিশ্রণ থাকে না।
২. ২২ ক্যারেটে তামা বা রুপা থাকে।
৩. গয়নার জন্য ১৮ ক্যারেট টেকসই।
৪. ক্যারেট যত কম হবে দাম তত কম।
৫. হলমার্কিং বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা দেয়।
৬. কেনার আগে ক্যারেট দেখে নিন।
৭. বিক্রেতার কাছ থেকে রসিদ নিন।
বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার দর
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাজুবি। প্রতিদিন এই দাম পরিবর্তন হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর এটি নির্ভরশীল। ভরি প্রতি স্বর্ণের দাম জানা জরুরি। ঢাকার বাজারে দাম একটু বেশি হতে পারে। এখানে ২২ ক্যারেট এবং ২১ ক্যারেটের চালান আছে। ছোট গয়নার দাম কিছুটা বেশি নেওয়া হয়। বিক্রেতারা নিয়ম মেনে দাম রাখে।
১. বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি দর নির্ধারণ করে।
২. আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এখানেও বাড়ে।
৩. প্রতি ভরির হিসাবে দাম জানতে হবে।
৪. শুধু স্বর্ণের দাম ছাড়াও মেকিং চার্জ আছে।
৫. বিয়ের মৌসুমে চাহিদা বাড়ে অনেক।
৬. সরকার কখনও কখনও শুল্ক কমায়।
৭. দেশের বাইরে থেকে আনা সোনা অন্য দামে।
স্বর্ণ কেনার সঠিক সময় নির্বাচন
স্বর্ণ কেনার জন্য সঠিক সময় অপেক্ষা করা ভালো। দাম কম থাকলে কেনা উচিত। বিয়ের আগে দাম বেড়ে যায় অনেক সময়। বছরের শুরুতে দরপতন হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার লক্ষ্য রাখতে হবে সবসময়। বুলিয়ন বাজারের খবর রাখুন নিয়মিতভাবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন আপনি। বাজেট ঠিক করে তারপর কেনা উত্তম।
১. দাম কমার পূর্বাভাস থাকলে অপেক্ষা করুন।
২. ধর্মীয় উৎসবের আগে চাহিদা বাড়ে।
৩. বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির থাকলে দাম বাড়ে।
৪. ডলারের দর বাড়লে সোনার দাম বাড়ে।
৫. কেনার আগে তিন মাসের ট্রেন্ড দেখুন।
৬. জরুরি প্রয়োজনে সময় নিয়ে ভাববেন না।
৭. নগদ টাকা হাতে থাকলে সুবিধা মেলে।
স্বর্ণ সঞ্চয় বা বিনিয়োগের গুরুত্ব
স্বর্ণ সঞ্চয়ের একটি চমৎকার মাধ্যম। এটি মুদ্রাস্ফীতির হাত থেকে রক্ষা করে। ব্যাংকে টাকা রাখার চেয়ে এটি লাভজনক। দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য বৃদ্ধি পায় নিশ্চিতভাবে। জরুরি সময়ে এটি বিক্রি করা সহজ। এটি কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ নয় একদম। পারিবারিক সম্পদের অংশ হিসেবে এটি সেরা। আপনার ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে এটি সাহায্য করে।
১. মুদ্রাস্ফীতির সময় স্বর্ণের দাম বাড়ে।
২. এটি সবসময় নগদ করা যায় দ্রুত।
৩. শেয়ার বাজারের চেয়ে এটি নিরাপদ।
৪. বংশধরদের জন্য এটি ভালো উপহার।
৫. অর্থনীতিতে অস্থিরতা থাকলে এটি দাঁড়িয়ে থাকে।
৬. সোনার বাট বা বিস্কুট কেনা লাভজনক।
৭. এতে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নেই।
স্বর্ণের গয়না ও নারীদের আকর্ষণ
নারীদের কাছে স্বর্ণের গয়না অত্যন্ত প্রিয়। এটি তাদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেক। বিয়ের অনুষ্ঠানে স্বর্ণালংকার পরতেই হয়। হাতে বালা এবং গলায় হার জনপ্রিয়। কানের দুল এবং নাকের নথও আছে। ডিজাইনের পসরা সাজে বৈচিত্র্য আনে। সাধু সমাজ থেকে আধুনিক সব ডিজাইন চলছে। এটি তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেয় সমাজে।
১. নারীরা সাধারণত ভারী গয়না পছন্দ করেন।
২. বিয়ের সময় পিতামাতা মেয়েকে স্বর্ণ দেন।
৩. সাম্প্রতিক সময়ে হালকা জুয়েলারি চলছে।
৪. সোনার গয়না ব্যবহার করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
৫. বিভিন্ন উৎসবে এটি পরার প্রথা আছে।
৬. ডিজাইনার গয়নার দাম একটু বেশি হয়।
৭. গয়না সংরক্ষণে যত্নশীল হতে হয়।
স্বর্ণের হলমার্কিং এবং সনদপত্র
হলমার্ক হলো স্বর্ণের মানের নিশ্চয়তা। বাংলাদেশ সরকার এটি বাধ্যতামূলক করেছে। এতে একটি বিশেষ ছাপ থাকে গয়নায়। এটি ভুয়া স্বর্ণ কেনা থেকে বাঁচায়। হলমার্কিং ছাড়া সোনা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সনদপত্রে ওজন এবং মান লেখা থাকে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এটি তদারকি করে। এটি ক্রেতার আস্থা অর্জন করে।
১. হলমার্ক কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে ছাপ দেয়।
২. ছাড়া গয়না কেনা ঝুঁকিপূর্ণ।
৩. এটি আইন মেনে করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে।
৪. প্রতিটি আইটেমে আলাদা নম্বর থাকে।
৫. এই সনদ বিক্রির সময় কাজে লাগে।
৬. ভুয়া ব্যবসায়ীরা এড়িয়ে চলে এটি।
৭. মান নিশ্চিত করতে এর বিকল্প নেই।
স্বর্ণ সংরক্ষণ ও যত্নের নিয়ম
স্বর্ণ সংরক্ষণ করতে হয় সঠিকভাবে। এটি মাটির ব্যাগে রাখলে ভালো থাকে। শক্ত কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা উচিত। সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়া যায়। চকচকে রাখতে নরম কাপড় ব্যবহার করুন। একসাথে অন্য ধাতু রাখবেন না। এতে খসখসে হতে পারে। ব্যাংকের লকারে রাখলে নিরাপদ থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার করলে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
১. প্রতিটি গয়না আলাদা প্যাকেটে রাখুন।
২. রাসায়নিক স্প্রে থেকে দূরে রাখুন।
৩. গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
৪. নরম টুথব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন।
৫. নিয়মিত চেক করুন লকারে রাখলে।
৬. ঘরে বাচ্চাদের হাতের নাগালে রাখবেন না।
৭. চেইন গিঁট পাকিয়ে রাখলে জট পড়ে না।
স্বর্ণ বিক্রির সঠিক পদ্ধতি
স্বর্ণ বিক্রি করার সময় সতর্ক থাকুন। সঠিক দাম জানা প্রয়োজন এই মুহূর্তে। আপনার কাছের নির্ভরযোগ্য দোকানে বিক্রি করুন। হলমার্কিং আছে কিনা দেখুন প্রথমে। ওজন নিন এবং মিলিয়ে নিন সাবধানে। দরদাম বার্গেনিং করতে পারেন কিছুটা। নগদ টাকার চেয়ে চেক নিলে ভালো। বাজারে বড় পতন থাকলে বিক্রি করবেন না। ধৈর্য ধরে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করুন।
১. একাধিক দোকানে দাম জেনে নেবেন।
২. বিক্রেতার খ্যাতি যাচাই করে কিনবেন।
৩. আপনার কেনার রসিদ দেখাবেন।
৪. বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
৫. বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি না হলে অপেক্ষা করুন।
৬. স্থানীয় বাজারের রেট মনে রাখবেন।
৭. সোনার বিস্কুট বিক্রি করা সহজ।
ডিজিটাল গোল্ড বা ইলেকট্রনিক স্বর্ণ
বর্তমানে ডিজিটাল স্বর্ণ জনপ্রিয় হচ্ছে। এটি কেনার জন্য দোকানে যাওয়া লাগে না। অনলাইনের মাধ্যমে কেনা যায় সহজেই। এটি সংরক্ষণের ঝামেলা কমিয়ে দেয়। ছোট পরিমাণেও এটি কেনা সম্ভব। মোবাইল ব্যাংকিং বা অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। দেশের বাইরে থেকেও এটি কেনা যায়। তরুণ প্রজন্ম এটি বেশি পছন্দ করছে।
১. বৈধ অ্যাপের মাধ্যমে শুরু করুন।
২. এতে কোনো মেকিং চার্জ থাকে না।
৩. যেকোনো সময় এটি বিক্রি করা যায়।
৪. নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানগুলো।
৫. সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আসে।
৬. গয়না হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায় না।
৭. লেনদেনের খরচ খুবই কম হয়।
স্বর্ণের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও ব্যবহার
স্বর্ণের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক আছে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর ব্যবহার প্রাচীন। এটি ত্বকের জন্য খুব উপকারী বলা হয়। স্বর্ণের ফোঁটা ব্যবহার করা হয় খাবারে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অনেক। আর্থ্রাইটিসের ব্যথায় এটি আরাম দেয়। মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। সৌন্দর্য চর্চায় এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
১. প্রাচীন ভারতে রানীরা এটি খেতেন।
২. ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে।
৪. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা আছে।
৫. বয়সের ছাপ কমাতে এটি কাজ করে।
৬. নির্দিষ্ট পরিমাণে খেলে ক্ষতি নেই।
৭. বিশুদ্ধ স্বর্ণ শরীরের জন্য নিরাপদ।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা সবসময় থাকে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন প্রধান ক্রেতা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও আমদানি করে অনেক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রিজার্ভ রাখে এই ধাতুতে। যুদ্ধ বা সংকটে মানুষ সোনায় বিনিয়োগ করে। ডলারের দাম কমলে সোনার দাম বাড়ে। খনি থেকে উৎপাদন কমলে দাম বাড়ে। এটি একটি গ্লোবাল কমোডিটি।
১. বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা হলো ভারত ও চীন।
২. আন্তর্জাতিক রাজনীতি দাম প্রভাবিত করে।
৩. সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলো ক্রয় করলে দাম বাড়ে।
৪. বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখে।
৫. বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় থাকলে চাহিদা বাড়ে।
৬. প্রযুক্তি খাতেও স্বর্ণ ব্যবহৃত হয়।
৭. লন্ডন এবং নিউইয়র্কে দাম নির্ধারিত হয়।
স্বর্ণ আমদানি ও সরকারি নীতি
বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানি সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। বাজুবির মাধ্যমে এটি আমদানি করা হয়। ব্যক্তিগতভাবে আনলে শুল্ক দিতে হয়। বিজিবি বিমানযাত্রীদের তল্লাশি করে অনেক সময়। চোরাচালান রোধে কঠোর আইন আছে। এনবিআর শুল্ক নির্ধারণ করে প্রতি বছর। বৈধভাবে আনা সোনা রাখা নিরাপদ। ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিতে হয় সরকারের কাছ থেকে।
১. কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে পারে।
২. যাত্রীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে।
৩. হলমার্ক আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
৪. অবৈধভাবে আনলে জেল হতে পারে।
৫. সরকার রাজস্ব আয় বাড়ায় এই খাত থেকে।
৬. আমদানি শর্তাবলী মাঝে মাঝে পরিবর্তন হয়।
৭. দেশীয় বাজার রক্ষায় শুল্ক আরোপ করা হয়।
স্বর্ণ দিয়ে সাজসজ্জা ও ফ্যাশন
স্বর্ণ ফ্যাশনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি পোশাকের সাথে মানানসই হয়। শাড়ি বা শার্টের সাথে মানানসই জুয়েলারি বাছুন। আধুনিক ডিজাইনাররা নতুন আঙ্গিক দিচ্ছেন। হালকা এবং স্লিম ডিজাইন এখন ট্রেন্ডে। অফিসের জন্য ছোট গয়না আরামদায়ক। পার্টিতে ভারী গয়না পরলে ভালো লাগে। ব্রাইডাল লুকে স্বর্ণ বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১. সমসাময়িক ফ্যাশনে সোনা মানিয়ে নেওয়া সহজ।
২. পশ্চিমা পোশাকের সাথেও এটি মানায়।
৩. মিনিমালিস্টিক ডিজাইন তরুণদের পছন্দ।
৪. বিভিন্ন রঙের পোশাকের সাথে মিলে যায়।
৫. পুরুষরাও ব্যবহার করছেন আজকাল।
৬. ডিজাইনার শোতে স্বর্ণের ব্যবহার দেখা যায়।
৭. এটি ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
স্বর্ণ ব্যবসায় লাভজনক নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?
স্বর্ণ ব্যবসায় লাভজনক হতে পারে। তবে এতে পুঁজির প্রয়োজন অনেক। দাম ওঠানামা করে সবসময়। ঝুঁকি আছে তাই সতর্ক থাকতে হবে। ছোট ব্যবসায়ীরা কষ্ট করে এটি শুরু করে। বিশ্বস্ত সরবরাহকারী খুঁজে পাওয়া জরুরি। গয়না তৈরির কারিগর ভালো লাগবে। শহরের ভালো লোকেশনে দোকান দিলে লাভ বেশি।
১. লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা বেআইনি।
২. বাজার দর সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে।
৩. পুরানো স্বর্ণ কেনা বেচায় মুনাফা আছে।
৪. গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হবে।
৫. ব্যবসায়িক দক্ষতা থাকলে সফল হবেন।
৬. প্রতিযোগিতা এই বাজারে প্রচুর।
৭. বড় রিস্ক নিয়ে শুরু করা ঠিক না।
স্বর্ণ সম্পর্কে সাধারণ ভুল ধারণা
অনেকের মনে স্বর্ণ নিয়ে ভুল ধারণা আছে। কেউ মনে করে সোনা পচে যায় না। তবে ব্যবহারে ওজন কমতে পারে। অনেকে ভাবে সব স্বর্ণ একই রকম হয়। আসলে ক্যারেট ভেদে এর মান আলাদা। কালো স্বর্ণ বা ক্যাডমিয়াম মিশ্রিত সোনা ক্ষতিকর। সব গয়না বিক্রি করলে লাভ হয় না। জমিয়ে রাখলেই সবসময় মুনাফা নাও পেতে পারেন।
১. স্বর্ণের রং কালো হলেই মিশ্রণ ভালো না।
২. হলমার্ক ছাড়া ভালো মানের মিলবে না।
৩. মেকিং চার্জ বিক্রির সময় ফেরত পাওয়া যায় না।
৪. সব পুরানো গয়না উচ্চ দামে বিক্রি হয় না।
৫. চুম্বক দিয়ে স্বর্ণের মান যাচাই সম্ভব নয়।
৬. খাঁটি সোনা কামড়ালে দাগ পড়ে না।
৭. সোনার দাম সবসময় ঊর্ধ্বমুখী নাও হতে পারে।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. প্রশ্ন: বর্তমানে বাংলাদেশে স্বর্ণের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় কোন ক্যারেটের?
উত্তর: বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ। এর পরেই জনপ্রিয়তা আছে ২১ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেটের। গয়নার টেকসই গুণের জন্য মানুষ এগুলো বেশি পছন্দ করে।
২. প্রশ্ন: বিয়ের জন্য কত ভরি স্বর্ণ কেনা উত্তম?
উত্তর: বিয়ের জন্য কত ভরি স্বর্ণ কেনা হবে তা নির্ভর করে বাজেটের ওপর। সাধারণত পাঁচ থেকে দশ ভরি পর্যন্ত কেনা হয়। আর্থিক সক্ষমতা এবং পরিবারের রীতি এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
৩. প্রশ্ন: স্বর্ণের গয়না কেনার সময় মেকিং চার্জ কত দিতে হয়?
উত্তর: স্বর্ণের গয়নার মেকিং চার্জ নির্ভর করে ডিজাইনের জটিলতার ওপর। সাধারণত প্রতি ভরিতে এক থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। বিশেষ এবং ভারী কাজের গয়নায় এই চার্জ আরও বেশি হতে পারে।
৪. প্রশ্ন: স্বর্ণ বিক্রি করলে কি মেকিং চার্জ ফেরত পাওয়া যায়?
উত্তর: না, সাধারণত স্বর্ণের গয়না বিক্রি করলে মেকিং চার্জ ফেরত পাওয়া যায় না। বিক্রেতারা শুধুমাত্র স্বর্ণের বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী মূল্য দিয়ে থাকেন। তাই কেনার সময় এটি মাথায় রাখা উচিত।
৫. প্রশ্ন: ডিজিটাল গোল্ড কিনলে কি আসল স্বর্ণ পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, ডিজিটাল গোল্ড কেনার পর আপনি চাইলে আসল স্বর্ণ নিতে পারেন। এজন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা দিতে হবে। তারপর কোম্পানি আপনাকে সমমানের গয়না বা বিস্কুট দেবে।
৬. প্রশ্ন: পুরানো স্বর্ণের গয়না নতুন করে বানালে কি ওজন কমে?
উত্তর: জ্বালাই বা পলিশ করার সময় সামান্য পরিমাণে স্বর্ণের ক্ষয় হয়। তবে ভালো স্বর্ণকার এই ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনে। সাধারণত প্রতি ভরিতে এক থেকে দুই আনা পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
৭. প্রশ্ন: স্বর্ণের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা আছে কি?
উত্তর: আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে স্বর্ণের দাম কমতে পারে। ডলারের দর স্থিতিশীল হলে বা বিশ্ব অর্থনীতি স্বাভাবিক থাকলে দাম কমার সম্ভাবনা থাকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর দাম বাড়ারই সম্ভাবনা বেশি।
৮. প্রশ্ন: বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনলে কি শুল্ক দিতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনলে নির্দিষ্ট সীমার ওপর শুল্ক দিতে হয়। বাংলাদেশি যাত্রীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত শুল্কমুক্ত আনতে পারেন। তার বেশি হলে সরকার নির্ধারিত হারে ট্যাক্স প্রদান করতে হবে।
৯. প্রশ্ন: হলমার্ক ছাড়া স্বর্ণ কেনার ক্ষতি কী?
উত্তর: হলমার্ক ছাড়া স্বর্ণ কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে কম ক্যারেটের স্বর্ণ উচ্চ দামে বিক্রি হতে পারে। বিক্রেতা না চাইলে এর মান যাচাই করা কঠিন। ভবিষ্যতে বিক্রির সময়ও এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে।