বেনাপোল দিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ–ভারত স্থলবাণিজ্যের গতি
দীর্ঘ চার মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতে রফতানি হয়েছে সুপারি বোঝাই ১৭৬টি ট্রাক। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মান পরীক্ষার ছাড়পত্র পাওয়ার পর বেনাপোল বন্দর থেকে এসব ট্রাক পর্যায়ক্রমে ভারতে প্রবেশ করেছে।
ভারত থেকে মান পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়ায় গত চার মাস ধরে এসব ট্রাক বন্দরে আটকে ছিল। ফলে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্থলবাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়। বর্তমানে নতুন করে যে সুপারিবাহী ট্রাকগুলো আসছে, সেগুলো প্রয়োজনীয় মান পরীক্ষার রিপোর্টসহ ভারতে রফতানি হচ্ছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনে থমকে গিয়েছিল বাণিজ্য
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্যে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে স্থলবাণিজ্যে।
এর ফলে শুধু সুপারিই নয়, পাট, পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের রফতানি কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
বছরে ৭০০ কোটি টাকার সুপারির বাজার
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি এবং প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি হয়।
এর মধ্যে সুপারি একটি গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পণ্য।
বাংলাদেশি সুপারির গুণগত মান ভালো হওয়ায় ভারতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সুপারি বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হয়। তবে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মান পরীক্ষার রিপোর্ট বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই প্রক্রিয়ায় সামান্য বিলম্বও বড় সংকট তৈরি করতে পারে- যা গত চার মাসে স্পষ্ট হয়েছে।
নির্বাচনের পর শিথিল হচ্ছে বাণিজ্যিক বাধা
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর একে একে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কেটে যেতে শুরু করেছে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত গম ও চিনি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার সুপারির মান পরীক্ষার ছাড়পত্র দেওয়ায় আটকে থাকা ট্রাকগুলো ভারতে প্রবেশ করতে শুরু করে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ধাপে ধাপে অন্যান্য পণ্যের ওপর আরোপিত শর্ত ও নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হবে।
প্রতিদিন গুনতে হচ্ছিল লাখ লাখ টাকা জরিমানা
সুপারিবাহী ট্রাকচালকরা জানান, চার মাস ধরে মান পরীক্ষার ছাড়পত্র না থাকায় তারা ভারতে প্রবেশ করতে পারেননি। সোম ও মঙ্গলবার ট্রাক নিয়ে ভারতে ঢুকতে পারায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।
বেনাপোল আমদানি–রফতানি সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৭৬টি ট্রাক বন্দরে আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড গুনতে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তারা এখন বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের বক্তব্য
সুপারি রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেনাপোল বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আবু তালহা জানান,
ভারতের ছাড়পত্র পাওয়ার পর রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত আটকে থাকা ১৭৬টি সুপারির ট্রাক ভারতে প্রবেশ করেছে। নতুন করে আসা সব ট্রাক প্রয়োজনীয় মান পরীক্ষার রিপোর্টসহ রফতানি হচ্ছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের জটিলতার অভিযোগ নেই।
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত





