দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময়ের নির্বাসন শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
তবে এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কুশল বিনিময় ছিল না; বরং তারেক রহমানের কথায় উঠে এসেছে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর সুগভীর চিন্তাভাবনা, সংস্কার এবং এক ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা।
ইতিহাসের সমীকরণ ও সম্মুখপানে যাত্রা
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের দেওয়া একটি বক্তব্য উপস্থিত সকলের মনোযোগ কাড়ে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দেশের অতীত ইতিহাস ও সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনগুলোকে তিনি এক সুতোয় গেঁথে বলেন:
“আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, আরেক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা এবং তৃতীয় পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এসব ঘটনা সামনে রাখলে বোঝা যায়, আগের অবস্থায় ফেরার কোনো প্রয়োজন নেই।”
তাঁর এই উক্তিকে বিশ্লেষকরা দেখছেন পেছনের প্রতিহিংসা বা পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোতে ফিরে না গিয়ে, বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার এক বলিষ্ঠ ঘোষণা হিসেবে।
‘We have a plan’: তরুণ ও দেশের জন্য নতুন স্বপ্ন
বক্তব্যে তারেক রহমান তাঁর বহুল আলোচিত “We have a plan” বাক্যটির পুনরাবৃত্তি করে দেশের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে নিজের রোডম্যাপের ইঙ্গিত দেন। তাঁর পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে:
- তরুণদের কর্মসংস্থান ও ভাতা: বেকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বেকার তরুণদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা।
- পরিবেশবান্ধব ঢাকা: যানজট ও দূষণমুক্ত একটি বাসযোগ্য ‘গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তোলা।
- পানির সমস্যা সমাধান: সুপেয় পানির সংকট নিরসনে টেকসই পরিকল্পনা।
- সমঅধিকার: নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
বিনয় ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের মার্জিত আচরণ ও সাবলীল বাচনভঙ্গি উপস্থিত সাংবাদিকদের মুগ্ধ করে। প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন সাংবাদিক তাঁকে ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন করলে তিনি বিনীতভাবে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “দয়া করে আমাকে মাননীয় বলবেন না।” ক্ষমতার দম্ভহীন এই সহজ স্বীকারোক্তিকে অনেকেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের বাতাস হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বনানীর এই দিনটি কেবল একটি শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি ছিল এক নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রতিহিংসা নয়, বরং উন্নয়ন, বিনয় এবং পরিকল্পনাই হবে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।




