রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

‘আগের অবস্থায় ফেরার কোনো প্রয়োজন নেই’ – সাংবাদিকদের সামনে বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন তারেক রহমান

বহুল পঠিত

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময়ের নির্বাসন শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

তবে এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কুশল বিনিময় ছিল না; বরং তারেক রহমানের কথায় উঠে এসেছে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর সুগভীর চিন্তাভাবনা, সংস্কার এবং এক ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা।

ইতিহাসের সমীকরণ ও সম্মুখপানে যাত্রা

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের দেওয়া একটি বক্তব্য উপস্থিত সকলের মনোযোগ কাড়ে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দেশের অতীত ইতিহাস ও সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনগুলোকে তিনি এক সুতোয় গেঁথে বলেন:

“আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, আরেক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা এবং তৃতীয় পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এসব ঘটনা সামনে রাখলে বোঝা যায়, আগের অবস্থায় ফেরার কোনো প্রয়োজন নেই।”

তাঁর এই উক্তিকে বিশ্লেষকরা দেখছেন পেছনের প্রতিহিংসা বা পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোতে ফিরে না গিয়ে, বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার এক বলিষ্ঠ ঘোষণা হিসেবে।

‘We have a plan’: তরুণ ও দেশের জন্য নতুন স্বপ্ন

বক্তব্যে তারেক রহমান তাঁর বহুল আলোচিত “We have a plan” বাক্যটির পুনরাবৃত্তি করে দেশের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে নিজের রোডম্যাপের ইঙ্গিত দেন। তাঁর পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে:

  • তরুণদের কর্মসংস্থান ও ভাতা: বেকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বেকার তরুণদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা।
  • পরিবেশবান্ধব ঢাকা: যানজট ও দূষণমুক্ত একটি বাসযোগ্য ‘গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তোলা।
  • পানির সমস্যা সমাধান: সুপেয় পানির সংকট নিরসনে টেকসই পরিকল্পনা।
  • সমঅধিকার: নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

বিনয় ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের মার্জিত আচরণ ও সাবলীল বাচনভঙ্গি উপস্থিত সাংবাদিকদের মুগ্ধ করে। প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন সাংবাদিক তাঁকে ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন করলে তিনি বিনীতভাবে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “দয়া করে আমাকে মাননীয় বলবেন না।” ক্ষমতার দম্ভহীন এই সহজ স্বীকারোক্তিকে অনেকেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের বাতাস হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বনানীর এই দিনটি কেবল একটি শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি ছিল এক নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রতিহিংসা নয়, বরং উন্নয়ন, বিনয় এবং পরিকল্পনাই হবে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।

আরো পড়ুন

রাজনীতির নতুন দিগন্ত: গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তারেক রহমানের হৃদ্যতাপূর্ণ শুভেচ্ছা বিনিময়

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময়ের নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশে ফেরার পর এক নতুন রাজনৈতিক আবহে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হলেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক জমকালো শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

চমক নিয়ে আসছে জামায়াতের ‘জনতার ইশতেহার’: তরুণ ও নারীদের জন্য থাকছে বিশেষ পরিকল্পনা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ বিরতির পর সম্পূর্ণ আধুনিক ও ডিজিটাল আঙ্গিকে দলটি তাদের নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করেছে। ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামের এই দলিলে জনগুরুত্বপূর্ণ ২৫টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকছে, যা ভোটারদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

বেকার ভাতা থেকে ১ কোটি চাকরি: বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে থাকছে অভাবনীয় সব চমক!

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া। বিশেষ করে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির তৈরি করা নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ