বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকে শুল্ক হবে শূন্য শতাংশ, যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
ভার্চুয়ালি চুক্তি স্বাক্ষর
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন—
- জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান
- বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন
- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জেমিসন গ্রিয়ার।
৩৭ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশ-শুল্ক হ্রাসের দীর্ঘ পথচলা
এই চুক্তির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দরকষাকষি।
- ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন
- বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিকভাবে শুল্ক নির্ধারণ করা হয় ৩৭ শতাংশ
- পরে তিন মাসের স্থগিতাদেশের পর ৭ জুলাই শুল্ক কমে ৩৫ শতাংশে
- ২ আগস্ট দর-কষাকষির মাধ্যমে তা নেমে আসে ২০ শতাংশে
- সর্বশেষ চুক্তিতে শুল্ক আরও কমে দাঁড়াল ১৯ শতাংশে
এই অগ্রগতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও বাণিজ্য আলোচনার সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পোশাক শিল্পে নতুন গতি
বিশেষজ্ঞদের মতে,
- তুলা ও কৃত্রিম তন্তুতে শূন্য শুল্ক সুবিধা
- মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের প্রতিযোগিতামূলক দাম
- রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ
সব মিলিয়ে এই চুক্তি বাংলাদেশের আরএমজি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের আশা
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে,
এই চুক্তির ফলে—
- যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়বে
- বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে
- বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার হবে
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটি একটি সুসংবাদমূলক মাইলফলক।





