আমাদের অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা হলো মুখে দুর্গন্ধ হওয়া। অনেক সময় বন্ধুদের আড্ডায় বা অফিসের মিটিংয়ে কথা বলতে গেলে এই সমস্যার কারণে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডেন্টাল কেয়ার আয়ারল্যান্ডের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডক্টর জেনিফার কলিন্স জানান, মুখের ভেতর থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যখন খাবারের কণাগুলো ভেঙে ফেলে, তখনই মূলত এই দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।
অনেকের ক্ষেত্রে মাড়ি বা জিহ্বা থেকে এই গন্ধ তৈরি হলেও অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বয়স, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা ডায়েট করার ফলেও এই সমস্যা বাড়তে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে আপনি সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
মুখে দুর্গন্ধ দূর করার ৮টি কার্যকর উপায়
১. জিহ্বার নিয়মিত যত্ন নিন
দাঁত ব্রাশ করলেই কি মুখের যত্ন শেষ? একদম নয়! প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার সময় জিহ্বা পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। ব্রাশ বা টাং স্ক্র্যাপার (Tongue Scraper) ব্যবহার করে জিহ্বার ওপর জমে থাকা সাদা আস্তরণ বা ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে যায়।
২. সঠিক নিয়মে ব্রাশ ও ফ্লসিং
দিনে অন্তত দুইবার, দুই মিনিট করে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করুন। শুধু ব্রাশ করলেই দাঁতের ফাঁকের ময়লা পরিষ্কার হয় না, তাই প্রতিদিন অন্তত একবার ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করা জরুরি।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মুখ শুকিয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে মুখে পর্যাপ্ত লালা (Saliva) তৈরি হয়। এই লালা মুখের ভেতর থাকা খাবারের কণা ও দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে মুখ সতেজ রাখে।
৪. সঠিক মাউথওয়াশের ব্যবহার
দ্রুত সতেজতা পেতে মাউথওয়াশ বেশ কার্যকর। তবে এটি ব্রাশ বা ফ্লসিংয়ের বিকল্প নয়। বাজারে অনেক ধরনের মাউথওয়াশ পাওয়া যায়, তবে আপনার দাঁত ও মাড়ির অবস্থা বুঝে কোনটি ভালো হবে তা দন্তচিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. চিনিমুক্ত চুইংগাম চিবানো
পেঁয়াজ, রসুন বা কফির মতো কড়া গন্ধযুক্ত খাবারের প্রভাব মুখে দীর্ঘ সময় থাকে। এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর চিনিমুক্ত চুইংগাম চিবোলে মুখে লালা প্রবাহ বাড়ে, যা প্রাকৃতিকভাবেই দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়তা করে।
৬. দাঁতের উপযোগী নাস্তা নির্বাচন
বিস্কুট বা চিপসের বদলে আপেল বা গাজরের মতো মচমচে ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এগুলো প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে এবং চিবানোর সময় মুখে প্রচুর লালা তৈরি হয়, যা প্লাক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
৭. ধূমপান বর্জন করুন
ধূমপান কেবল স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, এটি মুখে এক ধরণের স্থায়ী দুর্গন্ধ তৈরি করে। ধূমপানের ফলে মাড়িতে জ্বালাপোড়া ও দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকিও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সতেজ নিঃশ্বাস পেতে ধূমপান ত্যাগ করার বিকল্প নেই।
৮. নিয়মিত ডেন্টিস্টের পরামর্শ
সব নিয়ম মেনে চলার পরেও যদি আপনার মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসে, তবে বুঝতে হবে এটি মাড়ির কোনো গভীর রোগ বা লিভারের সমস্যার সংকেত হতে পারে। এক্ষেত্রে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং অন্তত ছয় মাস অন্তর ডেন্টাল চেকআপ করান।
মুখের পরিচ্ছন্নতা কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং এটি আপনার সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যেরও পরিচয়। উপরের সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি যেমন সতেজ অনুভব করবেন, তেমনি সবার সামনে কথা বলতে পাবেন নতুন আত্মবিশ্বাস।




