বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে শুধু সাধারণ শিক্ষার সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। ঠিক এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায় আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ‘হাজী বাবর আলী টেকনিক্যাল স্কুল’।
উপজেলায় প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সমন্বিত কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে ইতোমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান
শিক্ষার্থীদের কোলাহলমুক্ত ও শান্ত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে গ্রাম্য আবহাওয়ায় গড়ে তোলা হয়েছে এই বিদ্যাপীঠটি।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০২৪ সাল
- ভৌগোলিক অবস্থান: খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ‘পারুলিয়া বাজার’। পারুলিয়া বাজার থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে এগোলেই চোখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী বদরতলা বাজার। এই বদরতলা বাজার সংলগ্ন চালতেতলা গ্রামেই গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন এই স্কুলটি।
- শিক্ষাক্রম: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষার পাঠ্যক্রম।
নামকরণের পেছনের ইতিহাস ও মহৎ ব্যক্তিত্ব
বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে চালতেতলা গ্রামের পরম শ্রদ্ধেয় ও সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব হাজী বাবর আলী গাজী-র শুভ স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে। তিনি সারাজীবন এলাকায় শিক্ষাবিস্তার ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, হাজী বাবর আলী গাজীর সম্মানিত পিতা আসির উদ্দিন গাজী (বর্তমান বয়স ১২৯ বছর), যিনি বিশ্বের অন্যতম প্রবীণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিচিত। এমন এক ঐতিহ্যবাহী ও পুণ্যবান পরিবারের স্মৃতি ও অবদানকে অমর করে রাখতে স্কুলটির নামকরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠাতা, জমিদাতা ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব
একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার নেপথ্যে যাদের নিরলস চেষ্টা ও ত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে:
- প্রতিষ্ঠাতা: সাবেক ইউপি মেম্বার, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজসেবক রিয়াজুল ইসলাম।
- জমিদাতা: হাজী বাবর আলী গাজীর সুযোগ্য সন্তান হাজী ইদ্রিস আলী গাজী।
- প্রধান শিক্ষক: অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ নাজমুল ইসলাম।
- পরিচালনা পর্ষদ: বিদ্যালয়টির সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যবেক্ষণে রয়েছে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি দক্ষ ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কমিটি।
কেন হাজী বাবর আলী টেকনিক্যাল স্কুল অনন্য?
দেবহাটা উপজেলায় এ ধরনের কারিগরি উদ্যোগ এবারই প্রথম। প্রথাগত বইয়ের পাতার বাইরে এসে শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের পছন্দমতো কারিগরি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সেজন্য বিশেষ কারিকুলাম ও ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মূল সুবিধাসমূহ
১. প্রাথমিক বয়স থেকেই দক্ষতা অর্জন: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই সাধারণ পড়ার পাশাপাশি কারিগরি মৌলিক জ্ঞান দেওয়া হয়।
২. দক্ষতা ও আত্মনির্ভরশীলতা: পড়াশোনা শেষ করার আগেই যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
৩. অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে পাঠদান: প্রধান শিক্ষক নাজমুল ইসলামের দক্ষ পরিচালনায় একঝাঁক আন্তরিক শিক্ষক দ্বারা ক্লাস সম্পন্ন করা হয়।
৪. সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ: মনোরম ও নিরিবিলি পরিবেশ যা পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
দক্ষ ও কর্মমুখী মানুষ তৈরি করাই হলো একটি দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। ‘হাজী বাবর আলী টেকনিক্যাল স্কুল’ সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটায় কারিগরি শিক্ষার যে প্রদীপ জ্বালিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই আগামী দিনে হাজারও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে এবং এই অঞ্চলকে কারিগরি শিক্ষায় এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।




